মার্কিন সরকার স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ইরানের অস্ত্র ও যন্ত্রাংশ সংগ্রহে সহায়তার অভিযোগে ১৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা কয়েকটি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান যা রাশিয়া, চীন, হংকং ও পাকিস্তানে অবস্থিত। খবর রয়টার্সের।
মার্কিন ট্রেজারি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘোষিত এই নিষেধাজ্ঞা ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করা এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধের অবসানে দেশটিকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করার ট্রাম্প প্রশাসনের প্রচেষ্টার অংশ।
ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেন, ইরান সরকারের প্রতি যেকোনো ধরনের সহায়তা ট্রেজারি মেনে নেবে না। ইরানকে সহায়তাকারীদের চিহ্নিত, তাদের কর্মকাণ্ড প্রকাশ্যে আনা এবং তাদের বিচ্ছিন্ন করতে ট্রেজারি কাজ চালিয়ে যাবে।
ট্রেজারি জানায়, ইরানের অস্ত্র কর্মসূচি পুনর্গঠনের সক্ষমতা কমিয়ে আনা এবং দেশটির অস্ত্র সংগ্রহ প্রচেষ্টায় যারা সহায়তা করেছে, তাদের জন্য ব্যয় বাড়ানোই এই নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান রয়েছেন:
- সাইয়্যেদ আসগর আলিজাদেহ তাবাতাবাই। তিনি বেইজিংভিত্তিক ইরানের প্রতিরক্ষা ও সশস্ত্র বাহিনীর লজিস্টিকস মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি। ট্রেজারি জানিয়েছে, তিনি ইরানের হয়ে চীন থেকে প্রস্তুত অস্ত্র ও যন্ত্রাংশ সংগ্রহের সমন্বয় করতেন।
- ইরানভিত্তিক কাভোশকম এশিয়া আর অ্যান্ড ডি গ্রুপও নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। ট্রেজারি জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি ইরান এয়ারক্রাফট ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্ডাস্ট্রিয়াল কোম্পানির জন্য কানেক্টরসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করেছে।
- হংকংভিত্তিক ইসি মোজো টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেডও নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। ট্রেজারি জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি কাভোশকমের সংগ্রহ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ সরবরাহ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির চীনভিত্তিক প্রতিনিধি লি ফেনকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।
- পাকিস্তানভিত্তিক ওয়াসিম পাশা তাজাম্মালকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। তিনি ক্যাভালিয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান। প্রতিষ্ঠানটি একটি বেসরকারি প্রতিরক্ষা কোম্পানি, যার পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে কার্যক্রম রয়েছে।
- রাশিয়াভিত্তিক উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জয়েন্ট স্টক কোম্পানি এক্সপেরিমেন্টাল ডিজাইন ব্যুরো নেমড আফটার এ.এস. ইয়াকভলেভকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।
- রাশিয়াভিত্তিক জাহাজ চলাচলকারী প্রতিষ্ঠান এমজি-ফ্লোট এলএলসিকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। ট্রেজারি জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির জাহাজগুলো রুশ সরকারের জন্য অস্ত্র পরিবহন করে।
- ইরানভিত্তিক বিমান সংস্থা সাহা এয়ারলাইনসও নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ইরানের বিমানবাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
নিষেধাজ্ঞা নিয়ে অবসিডিয়ান রিস্ক অ্যাডভাইজর্সের ম্যানেজিং প্রিন্সিপাল ব্রেট এরিকসন বলেন, সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞার ফলে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণের সক্ষমতায় তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না।
ব্রেট এরিকসন বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করতে পারবে, তারা ইরানের ওপর কঠোর চাপ দিচ্ছে। বাস্তবে তারা শুধু টুথপিক দিয়ে ইরানকে খোঁচা দিচ্ছে।