
রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে শুরু হলো ‘পাওয়ার স্টার্ট’
পাওয়ার স্টার্টআপ শুরুর পর বিদ্যুৎ উৎপাদন ৩৫ শতাংশে পৌঁছাতে সাধারণত ৩৫ থেকে ৪০ দিন পর্যন্ত সময় লাগে। কিন্তু এর মধ্যে কোনো পরীক্ষা ব্যর্থ হলে এই সময় বাড়তে পারে।
চরচা ডেস্ক

কিউবার ওপর কয়েক দশক ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আবারও জোরালো অবস্থান নিয়েছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ।
অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও আর্থিক অবরোধ প্রত্যাহারের দাবিতে উত্থাপিত একটি প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে ১৩০টি সদস্যরাষ্ট্র। এর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং কিউবার জনগণের দুর্ভোগ বাড়ানোর অভিযোগে ব্যাপকভাবে সমালোচিত এই নীতির কারণে ওয়াশিংটনের অব্যাহত কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে।
নিউইয়র্ক থেকে বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার পাঠানো খবরের বরাতে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
সিনহুয়া জানায় নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বুধবার প্রস্তাবটি ১৩০ ভোটে পাস হয়। এর বিপক্ষে ভোট দেয় ১৭টি দেশ এবং ভোটদানে বিরত থাকে ২৫টি দেশ। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৯৬ সালের হেলমস-বার্টন আইনের মতো আইন ও বিধিবিধানের অব্যাহত প্রণয়ন ও প্রয়োগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
এ ধরনের আইনের বহির্দেশীয় প্রভাব অন্য রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, তাদের এখতিয়ারাধীন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিদের বৈধ স্বার্থ এবং বাণিজ্য ও নৌ চলাচলের স্বাধীনতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
প্রস্তাবে সব রাষ্ট্রকে এ ধরনের আইন ও পদক্ষেপ প্রণয়ন ও প্রয়োগ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি যেসব রাষ্ট্র এ ধরনের আইন ও পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং এখনো প্রয়োগ করছে, সেগুলো যত দ্রুত সম্ভব বাতিল বা অকার্যকর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
দুই দিনব্যাপী বিতর্কের পর বুধবার গৃহীত প্রস্তাবটি কিউবার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও আর্থিক অবরোধ প্রত্যাহারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে টানা ৩৪তম প্রস্তাব।
এর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং কিউবার জনগণের দুর্ভোগ বাড়ানোর অভিযোগে ব্যাপকভাবে সমালোচিত এই নীতির কারণে ওয়াশিংটনের অব্যাহত কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে।
দুই দিনের বিতর্কে জাতিসংঘের অধিকাংশ সদস্যরাষ্ট্রই যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের বিরোধিতা করে এবং তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানায়।
বিতর্কে আসিয়ান বা দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোটের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে সিঙ্গাপুরের প্রতিনিধি কিউবার ক্রমাবনতিশীল আর্থসামাজিক পরিস্থিতির ‘উদ্বেগজনক চিত্র’ তুলে ধরেন।
তিনি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের ঘাটতি এবং খাদ্য উৎপাদন কমে যাওয়ার বিষয়েও সতর্ক করেন।
জাতিসংঘ সনদ রক্ষায় বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর জোটের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে ইরিত্রিয়ার প্রতিনিধি অবরোধ আরও কঠোর করার নিন্দা জানান। তিনি একে আন্তর্জাতিক আইনের ‘সবচেয়ে গুরুতর, দীর্ঘস্থায়ী ও পদ্ধতিগত লঙ্ঘনগুলোর অন্যতম’ বলে অভিহিত করেন।
ইরিত্রিয়ার প্রতিনিধি বলেন, “কিউবার জনগণের যেকোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা চাপমুক্ত থেকে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার অধিকার রয়েছে।”
জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে উগান্ডার প্রতিনিধি যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ আরও কঠোর করাকে ‘সমষ্টিগত শাস্তির একটি রূপ’ বলে বর্ণনা করেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে হাসপাতাল, স্কুল, পানি সরবরাহ এবং খাদ্য সংরক্ষণব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য ‘কোনো হুমকি সৃষ্টি করে না’—এমন একটি দেশের ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহারের আহ্বান জানান তিনি।
আফ্রিকান গ্রুপের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে নামিবিয়ার প্রতিনিধি আফ্রিকার দেশগুলোর প্রতি কিউবার ঐতিহাসিক সংহতির কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “এই প্রশ্নে আফ্রিকার অবস্থান সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিষ্পত্তি হয়েছে।” এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, টানা ১৭তম বছরের মতো আফ্রিকান ইউনিয়ন অবরোধ প্রত্যাহারের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছে।
জি-৭৭ ও চীনের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে উরুগুয়ের প্রতিনিধি তৃতীয় দেশগুলোর সঙ্গে কিউবার বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও আর্থিক লেনদেনের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধের সমালোচনা করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এসব বিধিনিষেধ কিউবার টেকসই উন্নয়নের সম্ভাবনাকে ক্ষুণ্ন করছে।
বুধবার ‘কিউবার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও আর্থিক অবরোধ প্রত্যাহারের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক খসড়া প্রস্তাব উত্থাপনকালে রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের মঙ্গলবারের ‘অশ্রদ্ধাপূর্ণ ও উসকানিমূলক আচরণের’ নিন্দা জানান।
তিনি বলেন, “কিউবা কোনো হুমকি নয়। (যুক্তরাষ্ট্রের) অবরোধই একটি হুমকি।”
কিউবার বিপ্লবের এক বছর পর, ১৯৬০ সালে দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্র প্রথম নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ১৯৬২ সালে পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও আর্থিক অবরোধ কার্যকর করা হয়। ১৯৯৬ সালের মার্চে প্রণীত যুক্তরাষ্ট্রের হেলমস-বার্টন আইনের মাধ্যমে কিউবার সঙ্গে বাণিজ্য করা বিদেশি কোম্পানিগুলোর ওপরও অবরোধের আওতা সম্প্রসারিত হয়।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন কিউবার ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছে।

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে শুরু হলো ‘পাওয়ার স্টার্ট’
পাওয়ার স্টার্টআপ শুরুর পর বিদ্যুৎ উৎপাদন ৩৫ শতাংশে পৌঁছাতে সাধারণত ৩৫ থেকে ৪০ দিন পর্যন্ত সময় লাগে। কিন্তু এর মধ্যে কোনো পরীক্ষা ব্যর্থ হলে এই সময় বাড়তে পারে।

৫ ঘণ্টা পর ঢাকার পথে প্রধানমন্ত্রী
জাপানে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ফ্লাইটের বিলম্বের কারণে যাত্রীদের যে ভোগান্তি হয়েছে তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

নভেম্বরে বাড়ছে না জ্বালানি তেলের দাম
গত সেপ্টেম্বর মাসে চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়িয়েছিল সরকার। ওই দামবৃদ্ধির আগে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ছিল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ টাকা।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যুক্তরাষ্ট্র–কিউবার প্রতিনিধির বাগবিতণ্ডা, কিছু সময়ের জন্য বিতর্ক স্থগিত
বিতর্কের প্রথম দিন স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সাধারণ পরিষদের হলে প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনা চলাকালে কূটনৈতিক শিষ্টাচারের বিরল ব্যতিক্রম হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি ও কিউবার প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উচ্চস্বরে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।