আট থেকে ১০ হাজার টাকা এককালীন নিবন্ধন ফি এবং বছরে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা নবায়ন ফি পরিশোধ করে এখন থেকে সিটি করপোরেশন এলাকায় বৈধভাবে চালাতে হবে ব্যাটারিচালিত রিকশা। ফিটনেস সার্টিফিকেটের জন্য দিতে হবে আরও ১ হাজার টাকা।
সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো, যানজট নিরসন ও যত্রতত্র চলাচল বন্ধে এই আর্থিক বাধ্যবাধকতার পাশাপাশি আরও কিছু শর্ত জুড়ে দিয়ে ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিক্সা (ই-রিক্সা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ আজ বৃহস্পতিবার জারি করেছে সরকার।
স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি করা নতুন এই বিধিমালার ফলে নির্ধারিত ফি দিয়ে এবং বুয়েট নির্দেশিত কারিগরি মানদণ্ড নিশ্চিত করে নিবন্ধন নেওয়া ছাড়া কোনো ব্যাটারিচালিত রিকশা আর রাস্তায় নামার সুযোগ পাচ্ছে না।
এই নতুন বিধিমালার মাধ্যমে মূলত ২০২৫ সালের বিধিমালাটিকে রহিত করে ই-রিকশার নিবন্ধন, চলাচল, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ‘আধুনিক ও যুগোপযোগী’ পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন এই নিয়মে চালক, মালিক এবং যাত্রীদের ‘অধিকার ও কর্তব্য’ সম্পর্কেও বলা হয়েছে।
ই-রিকশার নতুন সংজ্ঞা, আয়ু ও কারিগরি মান
নতুন বিধিমালায় ই-রিকশার একটি সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। সংজ্ঞানুযায়ী, ই-রিকশা হলো এমন এক ধরনের তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত যান, যার চালক ছাড়া আকারভেদে দুই অথবা চার জন যাত্রী ধারণক্ষমতা থাকবে। এই যানগুলোর কাঠামোগত নকশা এবং প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য এমন হতে হবে যেন এর সর্বোচ্চ গতি কোনোভাবেই ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটারের বেশি না হয়।
কারিগরি মান নিশ্চিতে প্রতিটি ই-রিকশাকে বুয়েট নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন হতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি গাড়ির একটি নির্দিষ্ট আয়ুষ্কাল বা ইকোনোমিক লাইফটাইম নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। নিবন্ধনের তারিখ থেকে এই আয়ুষ্কাল হবে ১২ বছর এবং এই সময় শেষ হওয়ার পর নম্বর প্লেটসহ সংশ্লিষ্ট ই-রিকশার নিবন্ধন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে।
প্রতিটি ই-রিকশায় স্পিডোমিটার বা ওডোমিটার রাখার বাধ্যবাধকতা রাকা হয়েছে। বর্তমানে রাস্তায় যেসব ই-রিকশা চলাচল করছে, সেগুলোর ক্ষেত্রেও বুয়েট নির্ধারিত কারিগরি মানদণ্ড অনুযায়ী কাঠামোগত পরিবর্তন বা সংশোধন করে এবং ট্রাফিক বিভাগের প্রতিস্বাক্ষরসহ ফিটনেস সার্টিফিকেট নিয়ে চলাচলের অনুমোদন নিতে হবে।
নিবন্ধন প্রক্রিয়া, ফি এবং মালিকানার শর্তাবলি
ই-রিকশা রাস্তায় নামানোর আগে অবশ্যই যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিবন্ধন নিতে হবে এবং নিবন্ধন ছাড়া কোনো ই-রিকশা সড়কে চলতে পারবে না। নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে, বয়স ১৮ বছরের বেশি হতে হবে এবং কোনো উপযুক্ত আদালত কর্তৃক অপ্রকৃতিস্থ ঘোষিত হওয়া যাবে না। নিবন্ধনের আবেদনের সময় নির্ধারিত ফরমের সাথে আবেদনকারীকে জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত অনুলিপি, সদ্য তোলা ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের সত্যায়িত ছবি, নির্ধারিত ফি জমা দেওয়ার রসিদ এবং বুয়েট নির্দেশিত ফিটনেস সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে।
কর্তৃপক্ষ এসব কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে সন্তুষ্ট হলে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নিবন্ধন দেবে। আবেদন নামঞ্জুর হলে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে কারণসহ তা আবেদনকারীকে জানানো হবে এবং সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি পরবর্তী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করতে পারবেন, যেখানে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। অনুমোদিত প্রতিটি ই-রিকশাকে একটি কিউআর কোডযুক্ত ইউনিক নিবন্ধন নম্বর এবং নির্ধারিত পটভূমিতে সাদা অক্ষরে লেখা নম্বর প্লেট দেওয়া হবে, যা গাড়ির দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে। নিবন্ধনের পাওয়ার তারিখ থেকে ৫ বছর হবে এর মেয়াদ।
মালিকানার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, একজন ব্যক্তি তার একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে যে কোনো এক বা একাধিক সিটি করপোরেশন থেকে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশার নিবন্ধন নিতে পারবেন।
ফি এর বিষয়ে বলা হয়েছে, দুইজন যাত্রী ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ই-রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি ৮ হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি ৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে চারজন যাত্রী ধারণক্ষমতাসম্পন্ন গাড়ির এককালীন নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সকল ধরনের ই-রিকশার ফিটনেস সার্টিফিকেটের জন্য ১ হাজার টাকা ফি দিতে হবে। এই নিবন্ধন ও নবায়ন ফি বাবদ প্রাপ্ত অর্থ সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের রাজস্ব আয় হিসেবে গণ্য হবে। সিটি করপোরেশন বিনামূল্যে নম্বর প্লেট ও বিস্তারিত তথ্যসহ ব্লু-বুক দেবে বলেও বিধিমালায় বলা হয়েছে।
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, রুট পারমিট ও চলাচলের জোন
ই-রিকশা চলাচলের ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন এবং সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে রুট বা চলাচলের সড়ক নির্ধারণ করে দেবে। যানজট কমানো এবং শৃঙ্খলার স্বার্থে সিটি করপোরেশন এলাকায় এই যান চলাচল হবে সম্পূর্ণ জোনভিত্তিক এবং এক জোনের ই-রিকশা কোনোভাবেই অন্য জোনে ঢুকতে বা চলাচল করতে পারবে না।
কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রতিটি জোনের জন্য আলাদা রুট ও নির্দিষ্ট রং চূড়ান্ত করে দেওয়া হবে। এমনকি এক সিটি করপোরেশনে নিবন্ধিত ই-রিকশা অন্য কোনো সিটি করপোরেশন এলাকায় বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রতিটি সিটি করপোরেশন ট্রাফিক বিভাগের সাথে পরামর্শ করে নিজেদের এলাকার জন্য সামগ্রিকভাবে বা জোনভিত্তিক অনুমোদনযোগ্য ই-রিকশার মোট সংখ্যাও আগেই নির্ধারণ করে রাখবে।
সড়ক ব্যবহারের নিয়ম এবং চালকের দায়বদ্ধতা
সড়ক নিরাপত্তায় ই-রিকশা চালকদের জন্য কঠোর নিয়ম করা হয়েছে। এই যানগুলো জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, প্রধান বাস চলাচলের সড়ক বা বিআরটি করিডোর এবং প্রশাসন কর্তৃক সময় সময় নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সড়কে চলতে পারবে না। পথচারীদের নিরাপত্তার জন্য ফুটপাতে ই-রিকশা চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
চালককে সর্বদা সড়কের বাম দিকের লেন অনুসরণ করে চলতে হবে এবং নিয়ম বহির্ভূতভাবে ওভারটেকিং বা লেন পরিবর্তন করা যাবে না।
চালককে সর্বদা সড়কের বাম দিকের লেন অনুসরণ করে চলতে হবে এবং নিয়ম বহির্ভূতভাবে ওভারটেকিং বা লেন পরিবর্তন করা যাবে না। গাড়ি চালানো অবস্থায় চালকের মোবাইল ফোন ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষেধ করা হয়েছে। গতি ও শব্দের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় বা জনবহুল স্থানে ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতি প্রতি ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে থাকতে হবে। পাশাপাশি, ৪০ ডেসিবেলের বেশি তীব্রতাসম্পন্ন কোনো হর্ন ব্যবহার করা যাবে না।
কোনো যান্ত্রিক বা নিরাপত্তা ত্রুটিযুক্ত যান সড়কে নামানো যাবে না। রাস্তায় চলার সময় যদি কোনো ত্রুটি দেখা দেয়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে গাড়ির সামনের দিকে দৃশ্যমান স্থানে ‘যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে চলাচল অযোগ্য’ লেখা একটি সাইনবোর্ড প্রদর্শন করে তা দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা করতে হবে।
যাত্রী পরিবহন এবং বাণিজ্যিক ব্যবহার
ই-রিকশায় যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রেও সুনির্দিষ্ট সীমারেখা টানা হয়েছে। গাড়ির আকার অনুযায়ী চালক ব্যতীত দুই অথবা চারজনের বেশি যাত্রী বহন করা দণ্ডনীয় অপরাধ বলে বিধিমালায় বলা হয়েছে। এই যানগুলোকে কোনোভাবেই মালবাহী গাড়ি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। যাত্রীর হাতে বহনযোগ্য সাধারণ মালামাল ছাড়া অন্য কোনো বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন এতে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
পরিবেশসম্মত ব্যাটারি ব্যবস্থাপনা এবং চার্জিং স্টেশন
পরিবেশ দূষণ রোধে ব্যাটারি চার্জিং এবং ব্যবস্থাপনার ওপর এই বিধিমালায় ব্যাপক গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। যেনতেনভাবে বা অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে ব্যাটারি চার্জ দেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ অনুমোদিত এবং সিটি করপোরেশনের লাইসেন্স প্রাপ্ত চার্জিং পয়েন্ট বা নির্দিষ্ট গ্যারেজেই কেবল ব্যাটারি চার্জ দেওয়া যাবে।
ব্যাটারি চার্জিং স্টেশনগুলোতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বা সৌরশক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নিতে উৎসাহিত করা হয়েছে। নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিড সংযোগের সাথে সোলার প্যানেলের সমন্বয় করতে হবে, যাতে দিনের বেলায় উৎপাদিত সৌর বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ করে রাতের বেলায় গ্রিডের সেই বিদ্যুৎ দিয়ে ব্যাটারি চার্জ করা যায়। অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে চার্জ দিলে বিদ্যমান আইনের আওতায় শাস্তি দেওয়া হবে।
কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পুরাতন বা অকার্যকর ব্যাটারি বা এর কোনো অংশ উন্মুক্ত স্থান, মাটি, জলাশয় বা সাধারণ বর্জ্যের সাথে ফেলতে পারবে না, এমনকি এগুলো পোড়ানোও নিষিদ্ধ। ব্যাটারি বিক্রেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যেন তারা প্রতিটি নতুন ব্যাটারি বিক্রির সময় ক্রেতার কাছ থেকে একটি পুরোনো ব্যাটারি সংগ্রহ করেন এবং তা অনুমোদিত পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া কোনো অবস্থাতেই ব্যাটারি ভাঙা বা গলানোর কাজ করা যাবে না এবং সকল ব্যবহারকারী তাদের পুরোনো ব্যাটারি কেবল অনুমোদিত এজেন্ট বা ডিলারের কাছে হস্তান্তর করবেন।
চালকের প্রশিক্ষণ, বীমা এবং আর্থিক সহায়তা
বিধিমালায় বলা আছে, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতে চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে কর্তৃপক্ষ। স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চালকদের ট্রাফিক আইন, সড়ক নিরাপত্তা, ব্যাটারি ও গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ এবং আনুষঙ্গিক বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে সকল ই-রিকশাকে বীমার আওতায় আনার কথাও বলা হয়েছে এই বিধিমালায়। চালক ও মালিকদের অর্থনৈতিক সহায়তার জন্য সরকারি বা বেসরকারি সংস্থা, তফসিলি ব্যাংক এবং ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলো অনুমোদিত মানের ই-রিকশা উৎপাদন এবং সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণের জন্য ঋণ সহায়তা দিতে পারবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে বা উপযুক্ত স্থানে পার্কিং এলাকার ব্যবস্থাও করা হবে।
দুর্ঘটনায় আইনি দায়বদ্ধতা, অপরাধ ও শাস্তি
দুর্ঘটনা ঘটলে চালকের মানবিক এবং আইনি দায়বদ্ধতার কথা স্পষ্ট করা হয়েছে। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে চালককে তাৎক্ষণিকভাবে গাড়ি থামিয়ে আহত ব্যক্তিদের সাহায্য করতে হবে এবং দ্রুত বিষয়টি সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে।
এই বিধিমালার অধীনে বিভিন্ন কাজকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নিবন্ধন ছাড়া ই-রিকশা চালানো, অনুমোদিত গতিসীমার চেয়ে বেশি জোরে গাড়ি চালানো, অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা, অননুমোদিত ব্যাটারি ব্যবহার করা, মোটর বা কাঠামোর পরিবর্তন করা, নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করা, বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালানো, যাত্রী ছাড়া মালামাল পরিবহন করা, সিগন্যাল অমান্য করা এবং দুর্ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়া।
এসব অপরাধের যেকোনোটি সংঘটিত হলে মেট্রোপলিটন পুলিশ, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যৌথভাবে বা পৃথকভাবে অবৈধ ই-রিকশা চলাচল বন্ধসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন।
উৎপাদক প্রতিষ্ঠান অনুমোদন কমিটি
মানসম্মত ই-রিকশা উৎপাদন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের ‘ই-রিকশার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের সুপারিশ প্রদান কমিটি’ গঠনের কথা বলা হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের নগর উন্নয়ন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে আহ্বায়ক করে গঠিত সাত সদস্যের এই কমিটিতে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের প্রতিনিধি বা পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি, বুয়েট বা অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের যান্ত্রিক ও ইলেক্ট্রিক বিভাগের প্রতিনিধি, জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। এই কমিটি বুয়েট নির্ধারিত মানদণ্ড যাচাই করে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের সুপারিশ করবে এবং প্রয়োজনে সদস্য কো-অপ্ট করতে পারবে।