Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
২৯ অক্টোবর, ২০২৬
২৯ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
২৯ অক্টোবর, ২০২৬
২৯ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ | স্বত্ব © চরচা
> এক্সপ্লেইনার

সংসদের উচ্চকক্ষ নিয়ে নতুন প্রস্তাবে এবার কী

তাসীন মল্লিক

তাসীন মল্লিক

প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯: ৩০
সংসদের উচ্চকক্ষ নিয়ে নতুন প্রস্তাবে এবার কী
ছবি: ইউএনবি

সংসদের উচ্চকক্ষ গঠনের পদ্ধতি নিয়ে নতুন প্রস্তাব এসেছে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির আলোচনায়। প্রস্তাব অনুযায়ী, উচ্চকক্ষের অর্ধেক সদস্য নির্বাচিত হবেন রাজনৈতিক দলগুলোর সংসদ নির্বাচনে পাওয়া ভোটের অনুপাতে, আর বাকি অর্ধেক নির্বাচিত হবেন সংসদে দলগুলোর পাওয়া আসনের অনুপাতে। উচ্চকক্ষের সদস্যসংখ্যা ১০৫ করার প্রস্তাবও রয়েছে।

Advertisement

একই সঙ্গে উচ্চকক্ষের স্পিকারের নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে। তবে এসব প্রস্তাব নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় উচ্চকক্ষের গঠন ও সদস্য নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতভেদ ছিল।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

জুলাই জাতীয় সনদে ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়ে প্রস্তাব রাখা হলেও সংসদে সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নিয়ে সুপারিশ তৈরির কাজ করছে।

দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা গঠনের প্রস্তাব ঐকমত্য কমিশনের আলোচনা থেকে জুলাই সনদ এবং এর বাস্তবায়ন আদেশে এসেছে। কিন্তু উচ্চকক্ষের সদস্যসংখ্যা ও সদস্য নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মতপার্থক্য রয়ে গেছে। বিএনপি সংসদে পাওয়া আসনের অনুপাতে সদস্য নির্বাচনের পক্ষে থাকলেও জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও অন্য কয়েকটি দল সংসদ নির্বাচনে পাওয়া ভোটের অনুপাত অনুসরণের পক্ষে।

সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটিতে এখন উচ্চকক্ষের কাঠামো, সদস্য নির্বাচনের পদ্ধতি এবং নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনে উচ্চকক্ষের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। ১০৫ সদস্যের উচ্চকক্ষ ও মিশ্র পদ্ধতিতে সদস্য নির্বাচনের প্রস্তাবও এই আলোচনার অংশ। তবে কমিটির সভাপতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

অর্থাৎ, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা গঠনের প্রস্তাব জুলাই জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং সংবিধান সংশোধনের চলমান প্রক্রিয়ায় বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। বিশেষ কমিটির সুপারিশ, সংসদে সংশোধনী বিলের আলোচনা এবং প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই বাস্তবায়নের পরবর্তী ধাপ নির্ধারিত হবে।

সংসদীয় কমিটি কী, কোন ধরনের কাজ করে?Parliament

বিশেষ কমিটিতে সর্বশেষ প্রস্তাব

গত ২৪ অক্টোবর সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে উচ্চকক্ষ গঠন ও নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে একাধিক প্রস্তাব দেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদেরা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সাড়ে ছয় ঘণ্টার ওই বৈঠকে উচ্চকক্ষের সম্ভাব্য কাঠামো এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনে এর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে ওঠা একটি প্রস্তাবে উচ্চকক্ষের সদস্যসংখ্যা ১০৫ করার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ জন নির্বাচিত হবেন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে এবং ৫০ জন সংসদে দলগুলোর পাওয়া আসনের অনুপাতে। বাকি পাঁচজনকে রাষ্ট্রপতি মনোনয়ন দেবেন। প্রস্তাবটি দিয়েছেন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের একজন শিক্ষক। বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন এতে সমর্থন জানান।

এই প্রস্তাবের লক্ষ্য উচ্চকক্ষ গঠনের পদ্ধতি নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের অবস্থানের পার্থক্য কমানো। বিএনপি সংসদে পাওয়া আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠনের পক্ষে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীসহ আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের পক্ষে থাকা দলগুলো সংসদ নির্বাচনে পাওয়া ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

একই বৈঠকে উচ্চকক্ষের স্পিকারের নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রস্তাবও আসে। এ প্রস্তাব অনুযায়ী, সংবিধানে ভাইস প্রেসিডেন্টের পদ সৃষ্টি করে উচ্চকক্ষের স্পিকারকে পদাধিকারবলে ওই পদে রাখার কথা বলা হয়। সরকার ও বিরোধী দলের সম্মতিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অন্য উপদেষ্টাদের নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাবও আলোচনায় আসে। নিম্নকক্ষের মেয়াদ চার বছর এবং উচ্চকক্ষের মেয়াদ ছয় বছর করার প্রস্তাবও দেন আলোচকদের কেউ কেউ।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ‘নতুন’ প্রস্তাবে নতুন কী আছে?national-parliament-of-bangladesh

বৈঠক শেষে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, উচ্চকক্ষ গঠন হলে সেটির স্পিকারের নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রস্তাব এসেছে। তিনি বলেন, “এমন প্রস্তাব বিবেচনা করা যায়।” স্পিকার ছাড়া অন্য উপদেষ্টাদের সরকার ও বিরোধী দলের সম্মতিতে নিয়োগের বিধান রাখার প্রস্তাবও বিবেচনা করা যেতে পারে বলে জানান তিনি।

তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানান কমিটির সভাপতি। তিনি বলেন, কমিটির আরও এক বা দুটি বৈঠক বাকি রয়েছে। বিভিন্ন মতামত পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে।

বিশেষ কমিটিতে উচ্চকক্ষ নিয়ে আলোচনা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি গঠনের পর থেকেই উচ্চকক্ষের কাঠামো ও সদস্য নির্বাচনের পদ্ধতি আলোচনায় রয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংবিধান সংশোধনের সুপারিশ তৈরির দায়িত্বে থাকা এই কমিটি রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নিচ্ছে।

২০ সেপ্টেম্বর কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে জুলাই সনদে সই করা ২৬টি রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেদিন ১৫টি দল সরাসরি অংশ নেয় এবং একটি দল লিখিত প্রস্তাব জমা দেয়। বৈঠকে ২০২৬ সালের মধ্যে সংবিধান সংশোধনের খসড়া তৈরির সিদ্ধান্ত হয়।

২০ সেপ্টেম্বরের বৈঠক শেষে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। কোনো দল সংসদে পাওয়া আসনের অনুপাতে, আবার কোনো দল জাতীয় নির্বাচনে পাওয়া ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে যে অবস্থান রয়েছে, সে অনুযায়ী এগোনোর কথা বলেন তিনি। একই সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদ যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেভাবেই তা বাস্তবায়নের অঙ্গীকারের কথা জানান।

ইউপি নির্বাচন: এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা কি ভোটে অংশ নিতে পারবেন?election commission building

১৩ অক্টোবর বিশেষ কমিটির আরেক বৈঠকে উচ্চকক্ষে কোন শ্রেণি বা এলাকার প্রতিনিধিত্ব থাকবে, সদস্যরা কীভাবে নির্বাচিত হবেন, জেলাভিত্তিক প্রতিনিধিত্ব থাকবে কি না এবং আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে কি না—এসব বিষয়ে মতামত আসে। কমিটির সভাপতি জানান, লিখিত প্রস্তাব পাওয়ার পর সেগুলো পর্যালোচনা করে আলোচনা করা হবে।

২৯ সেপ্টেম্বর কমিটির বৈঠক শেষে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার কী প্রক্রিয়ায় এবং কাদের নিয়ে গঠন করা হবে, সে বিষয়ে তখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিভিন্ন মতামত ও প্রস্তাব পাওয়া গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আরও উন্মুক্ত আলোচনার প্রয়োজন। জনগণের জন্য উপযুক্ত যে প্রক্রিয়া সংসদ বিবেচনা করবে, সেটিই গ্রহণ করা হবে।

২৭ সেপ্টেম্বর সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন, বিশেষ কমিটি ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন সংসদে উত্থাপনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইন মন্ত্রণালয় সংবিধান সংশোধনের বিল তৈরি করবে, যা পরের বছরের জানুয়ারিতে সংসদের প্রথম অধিবেশনে উত্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এগুলো ছিল প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা; উচ্চকক্ষ গঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাব

দ্বিকক্ষের আইনসভা গঠনের প্রস্তাব জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায়ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। কমিশনের আলোচনায় উচ্চকক্ষের সদস্যসংখ্যা, সদস্য নির্বাচনের পদ্ধতি এবং উচ্চকক্ষের ক্ষমতা ও কার্যপরিধি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নেওয়া হয়।

২০২৫ সালের ৩১ জুলাই জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব সামনে আসে। প্রস্তাব অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো যে অনুপাতে ভোট পাবে, সেই অনুপাতে উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন করা হবে। তবে এ পদ্ধতি নিয়ে বিএনপির আপত্তি ছিল। দলটি সংসদে পাওয়া আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠনের পক্ষে অবস্থান নেয়।

ইউপি নির্বাচন: জানুয়ারিতে ভোট আয়োজনে কতটা প্রস্তুত ইসি?election office

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ তখন উচ্চকক্ষ গঠনের পদ্ধতি নিয়ে দলের আপত্তি তুলে ধরে বলেন, উচ্চকক্ষের সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভোটের অনুপাতের পরিবর্তে সংসদে আসনের অনুপাত অনুসরণ করা উচিত বলে বিএনপি মনে করে। কমিশনের আলোচনায় এই মতপার্থক্যের কারণে উচ্চকক্ষ গঠনের পদ্ধতি নিয়ে সব দলের একমত হওয়া সম্ভব হয়নি।

এর আগে ওই বছরের ১৫ জুলাই উচ্চকক্ষের গঠন নিয়ে আলোচনায় বিএনপি জেলা ও সিটি করপোরেশনভিত্তিক প্রতিনিধিত্বের একটি প্রস্তাবের বিরোধিতা করে। দলটির বক্তব্য ছিল, বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামো একক সরকারব্যবস্থাভিত্তিক; প্রস্তাবিত উচ্চকক্ষের সদস্যদের ক্ষমতা ও কার্যপরিধিও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

সালাহউদ্দিন আহমদ ওই সময় বলেন, “আমরা তো প্রভিন্সিয়াল (প্রাদেশিক) ধারণার মধ্যে যাচ্ছি না। আমরা ইউনিটারি টাইপ অব গভর্নমেন্ট (একক সরকার কাঠামো)।”

উচ্চকক্ষ গঠনের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, “আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল সমাজের বিভিন্ন সেক্টরে অবদান রাখা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মেধা, প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতাকে রাষ্ট্র পরিচালনায় যুক্ত করা।”

উচ্চকক্ষের সদস্য নির্বাচনে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি নিয়েও বিএনপি আপত্তি জানিয়েছিল। সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্য ছিল, “আমরা উচ্চকক্ষের ক্ষেত্রে সরাসরি ভোটের কথাও বলি নাই। সর্বদিক বিবেচনায় আমরা মনে করি পিআর পদ্ধতিটা এখানে সঠিক হবে না।”

দলগুলোর অবস্থানে মতভেদ

উচ্চকক্ষের সদস্য নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় বিএনপি ও আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের পক্ষে থাকা দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য ছিল। বিএনপি সংসদে দলগুলোর পাওয়া আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠনের পক্ষে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি এবং আরও কয়েকটি দল সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষের আসন বণ্টনের পক্ষে অবস্থান নেয়।

২০২৫ সালের ১৪ জুলাই জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজ উচ্চকক্ষের সদস্য নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনার বিষয়ে বলেন, “এ দুটি বিষয় আগেও একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। কিছু প্রাথমিক সমর্থন মিললেও পদ্ধতিগত মতানৈক্যের কারণে ঐকমত্য গড়ে ওঠেনি।”

একই সময় জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের উচ্চকক্ষের সদস্য নির্বাচনে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের পক্ষে মত দেন। উচ্চকক্ষের পাশাপাশি সংরক্ষিত নারী আসনের ক্ষেত্রেও আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের পদ্ধতি সমর্থন করেন তিনি।

ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় উচ্চকক্ষের গঠন নিয়ে মতভেদ শুধু সদস্য নির্বাচনের পদ্ধতিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। উচ্চকক্ষের সদস্যসংখ্যা, প্রতিনিধিত্বের ধরন এবং সংসদের আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় এর ভূমিকা নিয়েও বিভিন্ন মতামত আসে। ফলে উচ্চকক্ষের মূল ধারণা নিয়ে সমর্থন থাকলেও এর কাঠামো ও ক্ষমতা নির্ধারণে সব বিষয়ে একমত হওয়া যায়নি।

জুলাই সনদে উচ্চকক্ষের প্রস্তাব

জুলাই জাতীয় সনদে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের নিম্নকক্ষের পাশাপাশি ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ থাকবে, যার নাম হবে সিনেট। জাতীয় নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো যে অনুপাতে ভোট পাবে, সেই অনুপাতে উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন করার কথা বলা হয়েছে।

সনদের প্রস্তাব অনুযায়ী, উচ্চকক্ষের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। তবে নিম্নকক্ষ ভেঙে গেলে উচ্চকক্ষও বিলুপ্ত হবে। উচ্চকক্ষের নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থী তালিকায় অন্তত ১০ শতাংশ নারী রাখার প্রস্তাব রয়েছে।

উচ্চকক্ষের দায়িত্ব হবে নিম্নকক্ষে পাস হওয়া বিল পর্যালোচনা করা এবং প্রয়োজন হলে সংশোধনের সুপারিশ করা। অর্থবিল ও সরকারের প্রতি আস্থার প্রশ্নে উচ্চকক্ষের ভূমিকা সীমিত রাখার কথা বলা হয়েছে। কোনো বিল উচ্চকক্ষে দুই মাসের বেশি আটকে থাকলে সেটিকে অনুমোদিত বলে গণ্য করার প্রস্তাবও রয়েছে।

আবারও গণভোট, আগেরটির কী হবে?Referendum

উচ্চকক্ষ সংশোধনের সুপারিশ করলে নিম্নকক্ষ তা গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করে পুনরায় বিল পাস করতে পারবে।

সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে নিম্নকক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থনের পাশাপাশি উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সংবিধানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোটের বিধান রাখার বিষয়টিও সনদে এসেছে।

জুলাই সনদে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা গঠনের প্রস্তাবের পাশাপাশি উচ্চকক্ষের গঠন ও ক্ষমতার একটি কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে উচ্চকক্ষের সদস্য নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে মতপার্থক্য থাকায় বাস্তবায়নের পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

বাস্তবায়ন আদেশে যা আছে

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর জারি করা বাস্তবায়ন আদেশে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ ও উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়টি গণভোটের প্রশ্নের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সেখানে জাতীয় সংসদের নিম্নকক্ষের পাশাপাশি ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ গঠন এবং জাতীয় নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষের আসন বণ্টনের প্রস্তাব উল্লেখ করা হয়। সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষের অনুমোদনের বিষয়টিও ওই প্রস্তাবের অংশ।

বাস্তবায়ন আদেশে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ফল এলে সংবিধান সংস্কার কাউন্সিল গঠনের ব্যবস্থাও রাখা হয়। তবে গণভোটের ফলের ভিত্তিতে প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংশোধনসহ পরবর্তী আইনগত ও সংসদীয় পদক্ষেপ প্রয়োজন।

বিষয়: সংসদ ভবনরাজধানীসংসদসংবিধানবাংলাদেশসংসদ সদস্য
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    কেরানীগঞ্জে গ্যারেজ থেকে ৪ ককটেল উদ্ধার

  • ২

    তুরাগ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার

  • ৩

    মিউচুয়্যাল ফান্ড কী? বিনিয়োগ করতে হয় কীভাবে?

  • ৪

    নেতানিয়াহুর হার মানে ট্রাম্পের হার!

  • ৫

    বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির ধর্মঘট, ভোগান্তি সম্পর্কে জানেন না ঢামেক পরিচালক

সম্পর্কিত
  • ডুয়ো আইফোনের পর্দায় ফাটল, বড় পরীক্ষায় অ্যাপল

    ডুয়ো আইফোনের পর্দায় ফাটল, বড় পরীক্ষায় অ্যাপল

    এই পরিস্থিতির গুরুত্ব শুধু একটি নতুন ফোনের প্রযুক্তিগত ত্রুটির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অ্যাপলের ব্যবসায়িক সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি হলো পণ্যের নির্ভরযোগ্যতা, উন্নত নির্মাণমান এবং ব্যবহারকারীদের আস্থা।

  • বারানসি: মোদির আসনে হারল বিজেপি

    বারানসি: মোদির আসনে হারল বিজেপি

    ভারতের উত্তর প্রদেশের বিধান পরিষদ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্বাচনী এলাকা বারানসিতে সমাজবাদী পার্টির (এসপি) উল্লেখযোগ্য সাফল্য রাজ্যটির রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অখিলেশ যাদবের নেতৃত্বাধীন দলটি বারানসির শিক্ষক আসন ধরে রেখেছে এবং স্নাতক আসনেও বড় জয়ের পথে রয়েছে।

  • ভোটে হেরে দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে বলসোনারো, ব্রাজিলের সঙ্গে সম্পর্কে নতুন মোড়?

    ভোটে হেরে দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে বলসোনারো, ব্রাজিলের সঙ্গে সম্পর্কে নতুন মোড়?

    এই ঘটনা কেবল একজন পরাজিত রাজনীতিকের দেশত্যাগের বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ব্রাজিলের বিচারব্যবস্থা, নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে লুলা সরকারের দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন।

  • নারীকে কি ‘বস্তু’ হিসেবে দেখেন? আপনার দরকার ইলেকট্রিক শক!

    নারীকে কি ‘বস্তু’ হিসেবে দেখেন? আপনার দরকার ইলেকট্রিক শক!

    নারীদের যৌনবস্তু হিসেবে দেখা বা সেক্সুয়ালি অবজেক্টিফাই করার কথা নিশ্চয়ই শুনেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন উদাহরণ প্রায়ই চোখে পড়ে। কখনো নারীকে খাবারের সঙ্গে, কখনো আবার বিভিন্ন পণ্যের সঙ্গে তুলনা করা হয়। অর্থাৎ, একজন মানুষ হিসেবে তার পরিচয় ও ব্যক্তিত্বকে উপেক্ষা করে আলোচনা হয় কেবল নারীর শারীরিক অবয়ব