রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ‘পাওয়ার স্টার্ট’ শুরু হয়েছে। এরপরই শুরু হবে বিদ্যুৎ উৎপাদন, যা ৩৫ শতাংশে উন্নীত হলেই জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের কাজ শুরু হবে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক ড. কবির হোসেন জানিয়েছেন, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ডিসেম্বরে এখান থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর চূড়ান্ত ধাপের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটের পারমাণবিক বিক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ফিজিকস টেস্ট ফলাফল পরীক্ষা করে ‘পাওয়ার স্টার্ট’ ধাপ শুরুর অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা)। এই ধাপে জাতীয় গ্রিডে প্রথমবারের মতো সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে।
শূন্য থেকে ১ শতাংশে পাওয়ার স্টার্টআপ শুরুর পর ধীরে ধীরে ৩৫ শতাংশে উন্নীত হলে জাতীয় গ্রিডে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব হবে। পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্ষেত্রে এটিই স্ট্যান্ডার্ড নিয়ম। কিন্তু প্রতিটি ধাপ পার হওয়ার জন্য অসংখ্য পরীক্ষানিরীক্ষা করতে হবে। পাওয়ার বৃদ্ধি করার পর সব প্যারামিটার ঠিক আছে কি না— তা দেখতে হবে।
পাওয়ার স্টার্টআপ শুরুর পর বিদ্যুৎ উৎপাদন ৩৫ শতাংশে পৌঁছাতে সাধারণত ৩৫ থেকে ৪০ দিন পর্যন্ত সময় লাগে। কিন্তু এর মধ্যে কোনো পরীক্ষা ব্যর্থ হলে এই সময় বাড়তে পারে।
সফলভাবে বি-২ (ফিশন রিঅ্যাকশন) এর পরীক্ষা উত্তীর্ণ হলে পাওয়ার স্টার্টের অনুমোদন করে বায়েরা। পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই পর্যায়কে বলা হয় স্টেজ-সি। এরপরের ধাপ স্টেজ-ডি বা ট্রায়াল অপারেশন, যেখানে ট্রায়াল এবং পরীক্ষার মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি শতভাগ বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হবে। এই পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়ে-কমিয়ে জাতীয় গ্রিডের ধারণ ক্ষমতা পরীক্ষা করা হবে।