জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫ সাক্ষর শেষে তা নাগরিকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি বলেন,‘আমরা চেষ্টা করছি, জাতীয় সনদের কপি শুধু অনুষ্ঠানে নয়, পরবর্তীতেও যেন প্রত্যেক নাগরিকের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়। এ বিষয়ে সরকারকেও অনুরোধ জানানো হবে, যেন এটি সবার কাছে বিতরণের ব্যবস্থা করে।’
বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের জরুরি সভার প্রারম্ভিক বক্তব্য আলী রীয়াজ এসব কথা বলেন। জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।
আলী রীয়াজ বলেন, ‘নাগরিকেরা যেন বুঝতে পারেন, রাষ্ট্র সংস্কারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো কী ঐক্যমতে পৌঁছেছে। রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা কী, এবং অগ্রগতি কতদূর হয়েছে—সেটি তারা পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।’
জুলাই সনদের যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্নমত রয়েছে তা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে জানিয়ে আলী রীয়াজ বলেন, ‘প্রায় এক বছর আগে এই প্রক্রিয়ার সূচনা হয়। গত বছরের সেপ্টেম্বরের পর যে সংস্কার কমিশনগুলো গঠিত হয়েছিল, তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সুপারিশ প্রণয়ন করে। আপনাদের মতামতের ভিত্তিতে আমরা ৮৪টি বিষয়ে সিদ্ধান্ত ও ঐকমত্যে পৌঁছেছি। কিছু বিষয়ে সামান্য ভিন্নমত বা নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে, যা জাতীয় সনদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে। এতে বোঝা যাবে—কোন বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছে, কোথায় ভিন্নমত ছিল, এবং ভবিষ্যতে কোন প্রস্তাব বা সুপারিশ কীভাবে বাস্তবায়িত হবে।’
তিনি জানান, ‘অনুষ্ঠানের একটি বিষয়ে আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই—আমরা এমনভাবে আয়োজন করব যাতে প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি অংশ নিতে পারেন। যদিও জাতীয় সনদে সব তথ্য মিলিয়ে প্রায় ৪০ পৃষ্ঠার মতো হয়েছে, তবে স্বাক্ষরের জন্য আমরা কেবল অঙ্গীকারনামার পাতাটি রাখব, যাতে আপনারা সবাই স্বাক্ষর করতে পারেন। স্বাক্ষর সম্পন্ন হলে সেটি সংরক্ষিত হবে।’
‘আমরা লক্ষ্য করেছি, গতকাল ও আজকে কিছু তথ্য এদিক-সেদিক প্রচারিত হয়েছে। অনেক রাজনৈতিক দলের নেতা এবং সাংবাদিক আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তবে আমি জাতীয় কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমাদের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ, এবং আপনাদের সহযোগিতায় আমরা আশাবাদী যে কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও জাতীয় সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন হবে।’
‘অনুষ্ঠানের একটি বিষয়ে আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই—আমরা এমনভাবে আয়োজন করব যাতে প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি অংশ নিতে পারেন। যদিও জাতীয় সনদে সব তথ্য মিলিয়ে প্রায় ৪০ পৃষ্ঠার মতো হয়েছে, তবে স্বাক্ষরের জন্য আমরা কেবল অঙ্গীকারনামার পাতাটি রাখব, যাতে আপনারা সবাই স্বাক্ষর করতে পারেন। স্বাক্ষর সম্পন্ন হলে সেটি সংরক্ষিত হবে।’