Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১১ অক্টোবর, ২০২৬
১১ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১১ অক্টোবর, ২০২৬
১১ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> সংক্ষেপে

রবার্টস-স্মিথ: যুদ্ধনায়ক থেকে যুদ্ধাপরাধী

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২১: ০৩
রবার্টস-স্মিথ: যুদ্ধনায়ক থেকে যুদ্ধাপরাধী

অস্ট্রেলিয়ার সাম্প্রতিক রাজনীতিতে সবচেয়ে বিভাজনমূলক ঘটনাগুলোর একটি হলো সাবেক যুদ্ধনায়ক বেন রবার্টস-স্মিথকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক। একসময় যিনি দেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান ‘ভিক্টোরিয়া ক্রস’প্রাপ্ত বীর হিসেবে জাতীয় গৌরবের প্রতীক ছিলেন, এখন তিনি যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত। এই রূপান্তর কেবল ব্যক্তিগত পতনের গল্প নয়; এটি অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতি, গণমাধ্যম এবং সামরিক প্রতিষ্ঠানের গভীর সংকটের প্রতিফলন।

Advertisement

২০২৬ সালের এপ্রিলে রবার্টস-স্মিথকে ফেডারেল পুলিশ গ্রেপ্তার করে এবং ২০০৯ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে আফগানিস্তানে পাঁচজন নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিক হত্যার অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি নিজে দুজনকে হত্যা করেন এবং তার অধীনস্থ সৈন্যদের দিয়ে আরও তিনজনকে হত্যা করান। এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রতিটি অভিযোগের জন্য তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে হবে।

এই ঘটনা হঠাৎ করে আসেনি; বরং প্রায় এক দশক ধরে চলা একটি বিতর্কের চূড়ান্ত পরিণতি। ২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার একটি গণমাধ্যম অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যেখানে দাবি করা হয় যে আফগানিস্তানে অস্ট্রেলীয় সৈন্যরা যুদ্ধাপরাধে জড়িত ছিল। এই প্রতিবেদনই প্রথমবারের মতো বিষয়টি জনসমক্ষে নিয়ে আসে– যদিও সামরিক মহলে এসব অভিযোগ আগে থেকেই প্রচলিত ছিল।

রবার্টস-স্মিথ এই প্রতিবেদনগুলোর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন। কিন্তু ২০২৩ সালে আদালত রায় দেয় যে, অভিযোগগুলো ‘সম্ভাবনার ভারসাম্য’ (balance of probabilities) অনুযায়ী সত্য। আদালত বিশ্বাস করেন যে, তিনি নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের হত্যায় জড়িত ছিলেন। পরবর্তী আপিলও ব্যর্থ হয়। এর ফলে তার ব্যক্তিগত সুনাম ধ্বংস হয়ে যায়, এবং অস্ট্রেলীয় সামরিক বাহিনীর ভাবমূর্তিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

এই পুরো ঘটনাটি এখন অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে এক ধরনের ‘কালচার ওয়ার’-এ পরিণত হয়েছে। ডানপন্থীদের কাছে রবার্টস-স্মিথ এখনো একজন বীর, যিনি দেশের জন্য লড়েছেন এবং অন্যায়ভাবে অভিযুক্ত হয়েছেন। বিপরীতে, বামপন্থী ও প্রগতিশীল গোষ্ঠীর কাছে তিনি একজন যুদ্ধাপরাধী, যার বিচার হওয়া জরুরি।

রাজনীতিবিদদের অবস্থানও এই বিভাজনকে আরও স্পষ্ট করে। গ্রিনস দলের সিনেটর ডেভিড শোয়েব্রিজ বলেছেন, “সাজানো সম্মাননা যুদ্ধাপরাধ থেকে আইনি সুরক্ষা দিতে পারে না।” অন্যদিকে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী জন হাওয়ার্ড ও টনি অ্যাবট রবার্টস-স্মিথের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন। তারা যুক্তি দিয়েছেন, যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতিকে সাধারণ নাগরিক জীবনের মানদণ্ডে বিচার করা ঠিক নয়।

এই বিতর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো– সামরিক নেতৃত্বের দায়বদ্ধতা। এখন পর্যন্ত তদন্তগুলো মূলত মাঠপর্যায়ের সৈন্যদের কর্মকাণ্ডের ওপর কেন্দ্রীভূত হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, উচ্চপর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তারা, যারা এই অভিযান পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তারা কি সম্পূর্ণ দায়মুক্ত থাকবেন?

এই প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির বিচার নয়; বরং একটি পুরো সামরিক কাঠামোর নৈতিকতা ও জবাবদিহিতার বিষয়। যদি উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের ভূমিকা খতিয়ে না দেখা হয়, তাহলে বিচার প্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।

একইসঙ্গে, এই ঘটনা অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রনীতির দিকেও আলোকপাত করে। কেন অস্ট্রেলিয়া যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আফগানিস্তান যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল? এবং কেন এখনো দেশটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সামরিক অভিযানে যুক্ত থাকে? এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা জরুরি।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো– এই পুরো বিতর্ক বাস্তব সমস্যাগুলোকে আড়াল করছে। ‘কালচার ওয়ার’-এর উত্তাপে প্রকৃত ইস্যুগুলো, যেমন যুদ্ধাপরাধের কাঠামোগত কারণ, সামরিক সংস্কৃতি, এবং রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা–এসবই পেছনে পড়ে যাচ্ছে।

শেষ পর্যন্ত, রবার্টস-স্মিথ দোষী নাকি নির্দোষ– তা আদালতই নির্ধারণ করবে। কিন্তু তার ঘটনাটি ইতিমধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার সমাজ ও রাজনীতিকে গভীরভাবে বিভক্ত করেছে। এটি দেখিয়ে দিয়েছে, কীভাবে একটি ব্যক্তি একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক ও আদর্শিক সংঘাতের প্রতীকে পরিণত হতে পারে।

সমসাময়িক অস্ট্রেলিয়ায়, বেন রবার্টস-স্মিথ যেন সেই প্রতীক– যার মাধ্যমে রাজনীতিবিদরা নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে পারেন। যদি তিনি না থাকতেন, হয়তো এই বিভাজন তৈরি করার জন্য আরেকজনকে খুঁজে নেওয়া হতো।

বিষয়: যুদ্ধাপরাধীঅভিযোগমামলাসামরিক বাহিনীঅস্ট্রেলিয়াপুলিশহত্যাযুদ্ধগ্রেপ্তাররাজনীতিগণমাধ্যম
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    সেনাবাহিনী ও সেনাপ্রধানকে জড়িয়ে অপপ্রচারে প্রভাবিত না হওয়ার অনুরোধ আইএসপিআরের

  • ২

    ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা রুটে ফ্লাইট স্থগিত করেছে বিমান

  • ৩

    যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় বন্দুক হামলায় নিহত ৯

  • ৪

    ফিলিস্তিনের নির্বাচন কেন স্থগিত করলেন আব্বাস?

  • ৫

    রিয়াদের কিং খালেদ বিমানবন্দরে হামলায় কয়েকজন আহত, কার্যক্রম বন্ধ

সম্পর্কিত
  • সেনাবাহিনী ও সেনাপ্রধানকে জড়িয়ে অপপ্রচারে প্রভাবিত না হওয়ার অনুরোধ আইএসপিআরের

    সেনাবাহিনী ও সেনাপ্রধানকে জড়িয়ে অপপ্রচারে প্রভাবিত না হওয়ার অনুরোধ আইএসপিআরের

    বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে জড়িয়ে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য প্রচার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ও অপপ্রচারে প্রভাবিত না হওয়ার অনু

  • ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা রুটে ফ্লাইট স্থগিত করেছে বিমান

    ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা রুটে ফ্লাইট স্থগিত করেছে বিমান

    অপ্রত্যাশিত এ বিঘ্নের জন্য এবং যাত্রী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের অসুবিধার কারণে দুঃখ প্রকাশ করেছে বিমান কর্তৃপক্ষ।

  • যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় বন্দুক হামলায় নিহত ৯

    যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় বন্দুক হামলায় নিহত ৯

    শনিবার সকালে (স্থানীয় সময়) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গভর্নর শাপিরো লেখেন, “গত রাতে ইরিতে মর্মান্তিক বন্দুক হামলায় আমাদের পেনসিলভানিয়ার নয়জন নাগরিক নিহত হওয়ার পর আমি মেয়র ডারিয়া ডেভলিনের সঙ্গে কথা বলেছি এবং আমার প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছি।”

  • রিয়াদের কিং খালেদ বিমানবন্দরে হামলায় কয়েকজন আহত, কার্যক্রম বন্ধ

    রিয়াদের কিং খালেদ বিমানবন্দরে হামলায় কয়েকজন আহত, কার্যক্রম বন্ধ

    শনিবার বিমানবন্দরে থাকা এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তিনি একটি বিস্ফোরণ দেখেছেন। এরপর ভেতরে মাটিতে বেশ কয়েকজনকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। এক ডজনের বেশি অ্যাম্বুলেন্সকে বিমানবন্দরের দিকে ছুটে যেতে দেখা যায়।