ন্যাশনাল ব্যাংকের আমানতকারীরা যাতে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী টাকা তুলতে পারেন, সে বিষয়ে ব্যাংকটিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে ব্যাংকটির সব শাখা ও এটিএম বুথে প্রয়োজনীয় নগদ অর্থের সরবরাহ নিশ্চিত করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।গতকাল বুধবার সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান মেলিতা মেহজাবীন ও ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদুল হক সাক্ষাৎ করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে ন্যাশনাল ব্যাংকে সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
ব্যাংকটির দক্ষতা ও কার্যক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হয়েছে বলেও জানানো হয়। সাক্ষাতে ন্যাশনাল ব্যাংকের সাম্প্রতিক তারল্য পরিস্থিতি এবং আমানতকারীদের চাহিদা অনুযায়ী অর্থ উত্তোলনের বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরে আসে।
এ পরিস্থিতিতে আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ, ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা বজায় রাখা এবং ব্যাংকের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে আমানতকারীদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা উত্তোলনের বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন গভর্নর।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে আমানতকারীরা যাতে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ উত্তোলন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে ন্যাশনাল ব্যাংকের সব শাখা ও এটিএম বুথে প্রয়োজনীয় নগদ অর্থের সরবরাহ নিশ্চিত করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ন্যাশনাল ব্যাংকের আমানতকারীদের টাকা উত্তোলনে ভোগান্তির বিষয়টি নতুন নয়। গত সেপ্টেম্বরেও ব্যাংকটির কয়েকজন গ্রাহক পর্যাপ্ত টাকা থাকা সত্ত্বেও নিজেদের হিসাব থেকে টাকা তুলতে না পারার অভিযোগ করেন। চারজন আমানতকারী টাকা তুলতে ব্যর্থ হয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলে আদালত বাংলাদেশ ব্যাংককে তাদের টাকা উত্তোলনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।
ওই মামলার আবেদনে বলা হয়েছিল, গ্রাহকেরা চেক নিয়ে শাখায় গেলেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ টাকা পরিশোধ করেনি। এমনকি টাকা না দেওয়ার বিষয়ে তাদের কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়নি। পরে ২৮ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নিয়ে ওই চার গ্রাহককে তাদের আমানতের অর্থ উত্তোলনের সুযোগ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।
এর ফলে ন্যাশনাল ব্যাংকের তারল্য পরিস্থিতি এবং আমানতকারীদের অর্থ ফেরত পাওয়ার সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়। ন্যাশনাল ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। চলতি বছরের শুরুতেও ব্যাংকটির তারল্য সংকটের কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক জরুরি সহায়তা দেয়। গত ফেব্রুয়ারিতে ঈদের আগে গ্রাহকদের টাকা তোলার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে তারল্য সহায়তা চেয়েছিল।
জুনের শুরু পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ন্যাশনাল ব্যাংককে প্রায় ১০ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা জরুরি তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সহায়তার মূল উদ্দেশ্য ছিল আর্থিকভাবে চাপে থাকা ব্যাংকগুলোকে আমানতকারীদের পাওনা পরিশোধে সক্ষম রাখা।
ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থার দুর্বলতার আরেকটি বড় সূচক খেলাপি ঋণ। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ন্যাশনাল ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়ায় ২৪ হাজার ৩০২ কোটি টাকা, যা ব্যাংকটির মোট বিতরণ করা ঋণের ৫৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ।