রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার ঘটনায় চারজনের ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিলের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। আজ শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কনফারেন্স কক্ষে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম।
পরে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এই চারজন হলেন- আইন বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আহসান হাবীব, অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা বিশাল চক্রবর্তী, ঘটনার ইন্ধনদাতা হিসেবে জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম ও হাসিবুল হাসান।
এছাড়াও, ইন্ধনদাতা হিসেবে রাবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সহ-সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম, ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের সহ-সভাপতি তাকবীর আহমেদ ইমন, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজহারুল ইসলাম এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল কর্মী তানিম রহমানের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ ও বিভিন্ন ধরনের প্রমাণাদি অধিকতর তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি বুলবুল রহমান, শরীফুল ইসলাম ও সহ-দপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলমকে সতর্ক করার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
রাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম চরচাকে বলেন, “তদন্ত কমিটি ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। সেখানে তারা তিনটি সুপারিশ করেছে। প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে- বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। অধিকতর তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে।”
আরিফুল ইসলাম ও রাকিবুলের বিরুদ্ধে সুপারিশের বিষয়ে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক রেজাউল করিম-২ চরচাকে বলেন, “তারা সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পেছনে উসকানিদাতা হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন। আরিফুল ইসলামের বিষয়ে আমাদের কাছে যেসব তথ্য-প্রমাণ ছিল, সেগুলোর ভিত্তিতেই তার ছাত্রত্ব বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।”