ফ্লাইদুবাইয়ের এক সহকারী পাইলট ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আবিবগামী একটি ফ্লাইটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেটি ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের একটি টার্মিনালে আছড়ে ফেলার পরিকল্পনা করেছিলেন। আত্মঘাতী হামলার এই চেষ্টা পাইলটের বাধায় ব্যর্থ হয় বলে গতকাল শুক্রবার জানিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) অ্যাটর্নি জেনারেল।
অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল শামসির বিবৃতিতে ফ্লাইদুবাইয়ের কোনো অনিয়মের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনাটি সম্পর্কে সরকারি কৌঁসুলিদের ধারণার সবচেয়ে বিস্তারিত বিবরণ এতে উঠে এসেছে। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য ফ্লাইদুবাইয়ের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকারি কৌঁসুলিদের ধারণা, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে চালানো সন্ত্রাসী হামলা থেকে এই পরিকল্পনার অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন সন্দেহভাজন ব্যক্তি। এ ঘটনায় ১ অক্টোবর শুরু হওয়া ফৌজদারি তদন্তে এ তথ্য উঠে এসেছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ডব্লিউএএম জানিয়েছে, তদন্তে দেখা গেছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি আগের দুটি তেল আবিবগামী ফ্লাইটে যাত্রা করেছিলেন, যাতে তিনি ‘ফ্লাইটের রুট ও বিমানবন্দর সম্পর্কে পরিচিত হতে পারেন’। সহকারী পাইলটের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলা থেকে অনুপ্রাণিত হওয়ার বিষয়টি এই প্রথম প্রকাশ্যে নিশ্চিত করা হলো।
ঘটনার সময় উড়োজাহাজটি সৌদি আরবের আকাশসীমায় ছিল। তখন সহকারী পাইলট ককপিটে জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য রাখা একটি কুঠার দিয়ে ক্যাপ্টেনের ওপর হামলা করেন।
এ ঘটনায় মাত্র ৩০ সেকেন্ডে উড়োজাহাজটি ১৬ হাজার ফুট (৪ হাজার ৯০০ মিটার) নিচে নেমে যায়। পরে হামলাকারীকে কাবু করা হয় এবং উড়োজাহাজে থাকা অন্য দুই পাইলট সেটিকে নিরাপদে সৌদি আরবে অবতরণ করান। এরপর সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ফ্লাইদুবাইয়ের স্বদেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে হস্তান্তর করা হয়।
সন্দেহভাজন ব্যক্তি পেশাগত ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত সব শর্ত পূরণ করেছিলেন
তদন্তকারীরা ফ্লাইদুবাইয়ের নিয়োগপ্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে দেখেছেন যে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি পেশাগত ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত সব শর্ত পূরণ করেছিলেন। এর মধ্যে বৈধ পাইলট লাইসেন্স থাকা এবং চারিত্রিক সনদ জমা দেওয়ার বিষয়টিও ছিল।
আল শামসি বলেন, “তবে এসব প্রক্রিয়ার কোনোটিতেই তার উগ্রপন্থী দৃষ্টিভঙ্গি কিংবা সন্ত্রাসী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অভিপ্রায়ের কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।”
তিনি জানান, ২৯ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেওয়ার আগে ওমান এয়ারসহ বিভিন্ন দেশের বিমান সংস্থায় কাজ করেছিলেন। তদন্তে দেখা গেছে, ২০১৭ সালেই, অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনার সময়, তার মধ্যে ‘উগ্রপন্থা ও সন্ত্রাসবাদের’ দিকে ঝুঁকে পড়ার লক্ষণ দেখা গিয়েছিল।
রয়্যাল এয়ার মারোক জানিয়েছে, ২০২৫ সালে তিনি ওই বিমান সংস্থায় তিন মাসের প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। তবে প্রশিক্ষণ শেষে সেখানে চাকরির জন্য আবেদন করলে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্মকর্তারা সন্দেহভাজন ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করেননি। তবে বিষয়টি সম্পর্কে সরাসরি অবগত একজন ব্যক্তি রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তার নাম হাম্মাম আল-হাম্মামি এবং তিনি ওমানের নাগরিক।
আল শামসি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে সন্দেহভাজন ব্যক্তি তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, সন্ত্রাসবাদে উৎসাহিত করে—এমন প্রচারমূলক উপকরণ দেখে এবং বক্সিংয়ের প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি হামলার জন্য মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন।
রয়টার্সকে সূত্রগুলো জানিয়েছে, ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটের ঘটনা নিয়ে সৌদি আরব পৃথকভাবে বিমান নিরাপত্তা তদন্ত শুরু করেছে।