ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটের ককপিটে কুড়াল নিয়ে হামলার অভিযোগে আলোচনায় আসা সহকারী পাইলটের পরিচয় প্রকাশ্যে এসেছে। ওই পাইলটের নাম হামাম আল-হামামি। তিনি ওমানের নাগরিক।
সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, গত বছর ওমানের জাতীয় বিমান সংস্থার চাকরি থেকে ওই পাইলটকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তার উগ্রপন্থী মতাদর্শ নিয়ে উদ্বেগের কারণেই তাকে চাকরি থেকে সরানো হয়েছিল।
গত বুধবার ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড-১০৭৩ ফ্লাইটে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল-শামসি জানিয়েছেন, সহকারী পাইলট ককপিটে বিমানের জরুরি কুড়াল নিয়ে আরেক পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মছারের ওপর হামলা চালান এবং উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন।
সিএনএন জানিয়েছে, হামামি ওমানের নাগরিক হলেও সংযুক্ত আরব আমিরাতে জন্মগ্রহণ করেন। তার মা ছিলেন সিরিয়ার নাগরিক। প্রথম জীবনে কয়েক বছর তিনি আমিরাতেই কাটিয়েছেন।
‘হামাম আল-হামামি’ নামে একটি লিংকডইন প্রোফাইল থেকে জানা গেছে, তিনি সাত বছর ওমান এয়ারে কাজ করেছেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি সেখান থেকে চলে যান। এরপর ওই বছরের জুনে মরক্কোর বিমান সংস্থা রয়্যাল এয়ার মারকে যোগ দেন এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সেখান থেকেও চলে যান। ওই প্রোফাইলে ফ্লাইদুবাইয়ে কাজ করার কোনো তথ্য ছিল না।
তবে একটি সূত্র সিএনএনকে নিশ্চিত করেছে, প্রোফাইলটি বুধবারের ঘটনায় জড়িত ফ্লাইদুবাইয়ের ওই পাইলটেরই। পরে প্রোফাইলটি মুছে ফেলা হয়েছে।
দ্বিতীয় সূত্রটি সিএনএনকে জানিয়েছে, উগ্রপন্থী মতাদর্শ নিয়ে উদ্বেগের কারণে আল-হামামিকে ওমান এয়ারের পাইলট প্রশিক্ষণ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে তাকে ওমানের জাতীয় বিমান সংস্থাটিতে অন্য একটি পদে দেওয়া হয়।
ইসরায়েলি এক কর্মকর্তা সিএনএনকে জানান, হামামি ফ্লাইদুবাইয়ে মাত্র আট মাস কাজ করেছিলেন। আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, বুধবারের ঘটনায় অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি এর আগে রয়্যাল এয়ার মারকেও কাজ করেছিলেন।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) দেওয়া এক বিবৃতিতে এয়ার মারক জানিয়েছে, ২০২৫ সালে চাকরিতে নিয়োগের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ওই ব্যক্তি তাদের কাছে তিন মাস প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
এই তথ্য প্রকাশের পর বিমান সংস্থায় পাইলট নিয়োগের সময় প্রার্থীদের অতীত ও ব্যক্তিগত তথ্য ভালোভাবে যাচাই করা কতটা জরুরি, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
এ ঘটনার তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছে আবুধাবি। হামলার পরিস্থিতি, উদ্দেশ্য এবং এর সঙ্গে অন্য কারও সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল কি না বিষয়গুলো তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন।