গাইবান্ধার সাঘাটায় বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে যুবদল নেতার ছুরিকাঘাতে আহত জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সালাউদ্দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা ইউএনবি।
নিহতের বাবা শামসুজ্জামান দুদু এবং গাইবান্ধা জেলা জামাতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি রোকনুজ্জামান এ তথ্য জানান।
পুলিশ ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ জুন বিকেলে উপজেলার বোনারপাড়া চৌরাস্তা মোড়ে বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান মুকুলের ছুরিকাঘাতে সালাউদ্দিন গুরুতর আহত হন। একই ঘটনায় ওইদিন সাইফুল ইসলাম নামের এক শিবির নেতা মারা যান। তিনি বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনের বিষয়ে উপজেলা চত্বরে স্কুলটির প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লার সঙ্গে মুকুলের কথা কাটাকাটি হয়। পরে স্থানীয় নেতাদের সমঝোতায় বিষয়টির মীমাংসা হয়। এরপর উপজেলা চত্বর থেকে সবাই চলে যায়। তার কিছু সময় পরে বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল ও জামায়াতকর্মী সালাউদ্দিন বোনারপাড়া-সাঘাটা সড়কের উপজেলা-সংলগ্ন বোনারপাড়া চৌমাথায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। সে সময় মুকুল ও তার ছোট ভাই পলাশ, বোনারপাড়া ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য রবিউল ইসলাম, যুবদল নেতা আশরাফ, মোনারুল ও জব্বারসহ কয়েকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে শিবিরকর্মী সাইফুল্লাহ ও সালাউদ্দিনের ওপর হামলা করেন।
হামলাকারীরা সালাউদ্দিনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা ও হাত-পায়ের নানা স্থানে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। ঘটনার পরে স্থানীয়রা আহত দুজনকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সাইফুল্লাহকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত সালাউদ্দিনকে বগুড়া জিয়াউর রহমান হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হয়। ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪৯ দিন পর আজ (শনিবার) সকালে তার মৃত্যু হয়।
জেলা জামায়াত নেতা রোকনুজ্জামান বলেন, “নিহত সালাউদ্দিন ছিলেন জামায়াতের একনিষ্ঠ কর্মী।”