
চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরী হত্যার ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে পিস্তল ও গুলিও উদ্ধার করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবারের হামলার পর বুধবার হবিগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ডাক দিয়েছিল এনসিপি। পাল্টা কর্মসূচির পরিপ্রেক্ষিতে হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন, যা অমান্য করে হবিগঞ্জ পৌঁছাতে চেয়েছিলেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা। তবে পুলিশের বাধায় শেষ পর্যন্ত তারা হবিগঞ্জ শহরে যেতে পারেননি।

ডিবির ভাষ্য, ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ১১টার দিকে হাফিজুল ইসলাম বাবু কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে অবস্থানকালে সন্দেহ হলে তাদের পরিচয় জানতে চান। একপর্যায়ে তাদের দেহ তল্লাশির চেষ্টা করলে অভিযুক্তদের একজন পিস্তল বের করে গুলি চালায়। এতে বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতদের হাসপাতালে নিয়ে আসা স্থানীয় বাসিন্দা মো. সুজন জানান, রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে যুবদল নেতা হাফিজুর রহমানসহ ৭ থেকে ৮ জন আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ তিনজন অস্ত্রধারী এসে তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে ইউসুফ আলী বুকের ডানপাশে গুলিবিদ্ধ হন। এছাড়া আরও দুজন আহত হন।

স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, রাত প্রায় ১১টার দিকে হোমিওপ্যাথি কলেজের কাছে জাহিন শেখের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। হামলায় তার বাম হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ছাড়া, শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়।

আবদুল মোনায়েম মুন্না দাবি করেন, আন্দোলনে যুবদলের ৭৮ জন কর্মী নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন সংগঠনের হাজারো নেতা-কর্মী।

গত ১৩ জুন দুপুরে রাউজানের পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনি বাজারের আশরাফিয়া ফার্মেসির সামনে ওষুধ কিনতে গিয়ে খুন হন মাসুদুল।

রাজনীতিতে প্রতীকী সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। সজীবের ঘটনা সেই ধরনের একটি পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন নজর থাকবে-এটি কি কেবল একজন সংসদ সদস্যের ছেলের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি ভবিষ্যতে অন্য প্রভাবশালী নেতাদের পরিবারের ক্ষেত্রেও একই মানদণ্ডে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে?

মোনায়েম মুন্না বলেন, “প্রত্যেক নেতা-কর্মীদের রাজপথের ত্যাগ ও সংগ্রামকে আমরা মুল্যায়ন করেছি। আগের কমিটির প্রায় ১১৪ জনকে আমরা এই কমিটিতে রেখেছি। আমরা তাদের রাজপথের লড়াই ও অবদানকে স্বীকার করেছি, বিবেচনায় নিয়েছি। আরও কয়েকজন ত্যাগী নেতাদের আমরা জায়গায় দিতে পারিনি।”

আবদুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি অনুমোদন করা হয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা খবর পেয়ে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। বর্তমানে জরুরি বিভাগে তার চিকিৎসা চলছে।

মির্জা ফখরুল আরো বলেন, “আজকে আমাদের সামনে অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা একটি ধ্বংসস্তুপের মধ্যে থেকে সরকারে এসেছি। যেদিকে তাকাবেন সেদিকে শুনবেন নাই, নাই, নাই।

একপর্যায়ে অভিযুক্তরা প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন লোক সমবেত করে সিকেডি হাসপাতালের সামনে অবস্থান নেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। তারা উচ্চস্বরে স্লোগান, গালাগালি এবং উচ্ছৃঙ্খল আচরণের মাধ্যমে পরিবেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেন।

যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন হাসপাতালে গিয়ে কামরুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করেন। তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি যুবদলের কেউ নন এবং সংগঠনের নাম ব্যবহার করে অপকর্ম করছেন।

গত বছরের ১৭ নভেম্বর রাজধানীর পল্লবী থানার সেকশন সি ব্লকে বিক্রমপুর হার্ডওয়্যার নামের একটি দোকানে ঢুকে পল্লবী থানা যুবদলের সদস্য সচিব গোলাম কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যা করে হেলমেট পরা দুর্বৃত্তরা।

অন্তর্বর্তী সরকার তাকে ‘জুলাই শহীদ’ হিসেবে গেজেটভুক্ত করে। গেজেটে তার নম্বর ৬৪৩। হত্যা মামলার অভিযোগে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে উবাইদুলের মৃত্যুর কথা বলা হয়। তবে বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন।

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে চাঁদা না পেয়ে প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল্লাহ খানের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। এ সময় ঘরের আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামালও লুটপাট করে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রানীগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম উদ্দিন।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ ‘আত্মস্বীকৃত চাঁদাবাজ’ ও তেজগাঁও থানা যুবদলের বহিষ্কৃত সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান ও তার অনুসারীরা দীর্ঘদিন যাবৎ কারওয়ান বাজারের চাঁদাবাজি করছে।

পূর্ব শত্রুতার জেরে ঢাকা উদ্যান এলাকার মহিউদ্দিন ও রাজু গ্রুপের লোকজন এই হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা।

এ ঘটনায় নিহতের বোন রিমা আক্তার বাদী হয়ে সুব্রত বাইনের সহযোগী মাহফুজুর রহমান বিপুসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে হাতিরঝিল থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেছিলেন।