ঢাকার সাভারে রংপুরের পীরগাছা পুলিশের অভিযানের সময় ছাত্রদল নেতার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে মরদেহ নিয়ে পীরগাছা থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন নিহতের স্বজনরা।
বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানায়, আজ শনিবার সকাল ৮টার দিকে থানার সামনে নিহতের মরদেহ রেখে সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ স্বজনরা। পরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
নিহত মনোয়ারুল বকসি (৩০) সাভার থানা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি এবং গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ হাতীবান্ধা গ্রামের জাফর বকসির ছেলে। তিনি পরিবারের সাথে সাভারে স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুলাই পীরগাছা উপজেলা থেকে এক কিশোরী নিখোঁজ হলে তার বাবা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। প্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করে পীরগাছা থানার পুলিশ সাভার থানার পুলিশের সহযোগিতায় গতকাল শুক্রবার সাভারে লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (বিপিএটিসি) স্টাফ কোয়ার্টারে অভিযান চালায়।
অভিযান পরিচালনাকারী পুলিশ সদস্যদের ভাষ্য, অভিযান চলাকালে ছাদ থেকে কিছু একটা নিচে পড়ার শব্দ পাওয়া যায়। পরে গিয়ে দেখা যায়, মনোয়ারুল বকসি নিচে পড়ে আছেন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
তবে নিহতের স্বজনদের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাদের অভিযোগ, নিখোঁজ কিশোরীর সঙ্গে মনোয়ারুলের ভাগ্নে শাহরিয়ার কবির সৌমিকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তারা স্বেচ্ছায় বিয়ে করে সাভারে অবস্থান করছিলেন।
নিহতের স্বজনদের দাবি, উদ্ধার অভিযানে পুলিশের সঙ্গে মিমির বাবা ও অপর এক ব্যক্তি পুলিশের পোশাকে উপস্থিত ছিলেন। তারাই মনোয়ারুলকে হত্যা করে ছাদ থেকে ফেলে দিয়েছেন। এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে আজ শনিবার সকালে পীরগাছা থানার সামনে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে পীরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা সেখানে উপস্থিত হয়ে নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
আমিনুল ইসলাম বলেন, “আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। আমরা এই ঘটনার সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনি বিচার দাবি করছি।”
পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক বলেন, “নিহতের স্বজনদের মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মামলা ও তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে। এই ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের কোনো ধরনের অবহেলা বা সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”