মাদক মামলায় মিশরের টিভি উপস্থাপিকা সারাহ খলিফাসহ ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। তাদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র গঠন করে কৃত্রিম মাদক তৈরি ও পাচারের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।
দেশটির রাষ্ট্রয়াত্ত্ব পত্রিকা আল-আহরাম জানিয়েছে, সারাহ খলিফাসহ যাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে তারা একটি অপরাধী চক্রের সদস্য। যারা বাইরে থেকে মাদক তৈরির উপকরণ আমদানি করে নিয়ে এসেছিলেন। তাদের কাছে অবৈধ অস্ত্র ও গুলিও পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার দেশটির আদালতে আরও নয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সাত আসামিকে সব অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ও অন্য আসামিরা রায়ের বিরুদ্ধে মিসরের সর্বোচ্চ ফৌজদারি আদালতে আপিল করতে পারবেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, প্রায় এক মাস আগে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হলেও এটি প্রকাশিত হয়েছে সম্প্রতি। মৃত্যুদণ্ডের ব্যাপারে প্রধান মুফতির কাছ থেকে ধর্মীয় মতামত আসার পরই রায়টি প্রকাশ পায়। মিশরে মৃত্যুদণ্ডের ব্যাপারে প্রধান মুফতির কাছ থেকে মতামত নেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা আছে।
৩৯ বছর বয়সী সারাহ খলিফা মিশন ইমপসিবল নামে একটি অনুষ্ঠানের জন্য মিশরে ব্যাপক পরিচিত। যেখানে অপরাধ বিষয়ক পোগ্রাম করা হয়। তিনি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। গত মাসে ঘোষণা করা এই মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে তারা আপিল করতে পারবেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের কাছ থেকে ৭৫০ কেজি মাদক ও মাদক তৈরির কাঁচামাল জব্দ করা হয়েছে।
এই মামলায় ২০ জন স্বাক্ষী দিয়েছেন। এরসঙ্গে ইলেকট্রনিক প্রমাণও হাজিরা করা হয়েছে। যারমধ্যে আছের তাদের মধ্যে হওয়া কথোপকথন এবং ভিডিও।
মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে গত বছরের এপ্রিল মাসে কায়রোতে সারাহকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই বছরের ১৭ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। খলিফার দাবি, ওই দিনই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে গ্রেপ্তারের আনুষ্ঠানিক নথিতে তারিখ ১৯ এপ্রিল উল্লেখ করা হয়।
তদন্তে বলা হয়, চক্রটির সদস্যরা নিজেদের মধ্যে কাজ ভাগ করে নিয়েছিল। কেউ কাঁচামাল আমদানি করত, কেউ মাদক তৈরি করত এবং অন্যরা তা সরবরাহ করত।
মামলার ২৮ আসামির মধ্যে দুজন এখনো পলাতক। তাদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এবং নজরদারি তালিকায় রাখা হয়েছে।