বিশ্ব ফুটবলের আঞ্চলিক পরাশক্তিগুলো ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে সরাতে অনাস্থা ভোটের উদ্যোগ নেওয়া যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা করছে। বিশ্বকাপের মালিকানাধীন বাণিজ্যিক স্বত্বে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের অংশীদার করার প্রস্তাব দিয়ে তাদের ক্ষুব্ধ করার পরই তাকে সরানোর এ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
অনাস্থা ভোটের উদ্যোগের সঙ্গে জড়িত কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই তথ্য রয়টার্সকে জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফা, এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন এএফসি এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলকে প্রতিনিধিত্বকারী কনকাকাফ এই পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করছে। ১২২ বছরের ফিফার ইতিহাসে দায়িত্বে থাকা কোনো সভাপতির বিরুদ্ধে কংগ্রেসে অনাস্থা ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার নজির রয়টার্স খুঁজে পায়নি।
বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সূত্র বলেন, “এখান থেকে বের হওয়ার আর কোনো পথ নেই। হয় তিনি শান্তিপূর্ণভাবে সরে দাঁড়িয়ে মার্চে আর প্রার্থী না হওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন, নয়তো কঠিন পথ বেছে নিতে হবে”— অর্থাৎ সম্ভাব্য অনাস্থা ভোট।
ফিফার গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, ফিফা কাউন্সিল যেকোনো সময় একটি বিশেষ কংগ্রেস আহ্বান করতে পারে। আবার ফিফার ২১১ সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের অন্তত এক-পঞ্চমাংশ লিখিতভাবে এজেন্ডায় নির্দিষ্ট বিষয় উল্লেখ করে অনুরোধ করলে কাউন্সিলকে বিশেষ কংগ্রেস ডাকতে হয়।
এরপর তিন মাসের মধ্যে বিশেষ কংগ্রেস আহ্বান করতে হবে এবং উপস্থিত প্রতিটি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের একটি করে ভোট থাকবে। তবে ফিফার গঠনতন্ত্রে সভাপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো বিধান নেই।
রয়টার্সের পক্ষ থেকে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও ফিফা কোনো জবাব দেয়নি।
উয়েফা অনাস্থা ভোট নিয়ে আলোচনা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করেনি। তারা রয়টার্সকে আগের এক বিবৃতির দিকে পাঠিয়েছে, যেখানে ফিফার নেতৃত্ব ও পরিচালনব্যবস্থার “পুঙ্খানুপুঙ্খ ও মৌলিক” পর্যালোচনার দাবি জানানো হয়েছিল এবং বলা হয়েছিল, “কোনো বিকল্পই আলোচনার বাইরে রাখা উচিত নয়।”
কনকাকাফও সরাসরি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে উয়েফা ও এএফসির সঙ্গে দেওয়া আগের যৌথ বিবৃতির কথা উল্লেখ করেছে। ওই বিবৃতিতে ফিফার নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আস্থার মৌলিক লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছিল। এএফসি তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি।
ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, তিনি ২০২৭ সালের মার্চে নির্ধারিত ফিফা কংগ্রেসে পুনর্নির্বাচনের জন্য প্রার্থী হতে চান। ফিফার সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর মধ্যে তার এখনো উল্লেখযোগ্য সমর্থন রয়েছে, যার মধ্যে আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন সিএএফও রয়েছে।
বিষয়টির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, তিনটি কনফেডারেশনই অনাস্থা ভোটের পক্ষে থাকলেও একটি ব্যর্থ চ্যালেঞ্জ নিয়ে তাদের উদ্বেগ রয়েছে। কারণ, ভোটে ইনফান্তিনো জয়ী হলে তা তার অব্যাহত নির্বাচনী সমর্থনের প্রমাণ হয়ে উঠতে পারে এবং আগামী বছরের নির্ধারিত সভাপতি নির্বাচনের আগে তার অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে পারে।