সম্প্রতি ঢাকার কেরানীগঞ্জ, সাভার ও আশুলিয়া থেকে একাধিক প্রেশার কুকার বোমা উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, ঢাকার আশপাশ থেকে দুটি প্রেশার কুকার সদৃশ শক্তিশালী বোমা এবং অন্তত ১৪টি পাইপ বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। এসব বোমা কোথায় তৈরি হয়েছে, কারা তৈরি করেছে, কেন তৈরি করা হয়েছে- তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
প্রশ্ন হলো- প্রেশার কুকার বোমা আসলে কী? আর এটি কতটা ভয়ংকর?
প্রেশার কুকার বোমা মূলত এক ধরনের ‘ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস’ বা আইইডি। সাধারণ রান্নার পাত্রকে ব্যবহার করে তৈরি করা বিস্ফোরক ডিভাইসকেই প্রেশার কুকার বোমা বলা যায়।
প্রেশার কুকার নিজে কোনো বোমা নয়। এর ভেতরে বিস্ফোরক উপাদান স্থাপন করা হয়। বোমা বিস্ফোরণের ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে প্রচুর গ্যাস ও তাপ তৈরি হয়। শক্ত কনটেইনার সেই শক্তিকে আটকে রাখে- প্রেশার কুকারের ধাতব আবরণ সহজে ভাঙে না বলে ভেতরে অত্যন্ত দ্রুত চাপ তৈরি হয়। চাপ যখন কনটেইনারের সহনক্ষমতা ছাড়িয়ে যায়- তখনই কুকারের ধাতব আবরণ ভেঙে যায়। আবরণ ভেঙে গিয়ে ধাতব টুকরো ছিটকে পড়ে এবং আশপাশের মানুষ নিহত ও গুরুতর আহত হতে পারে। বিস্ফোরণের সময় কনটেইনারের ভাঙা ধাতব অংশ স্প্লিন্টারের মতো কাজ করে। এর আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো, সাধারণ রান্নার পাত্র হওয়ায় কেউ এটি দেখে সন্দেহ করে না।
প্রেশার কুকার বোমার সবচেয়ে আলোচিত ঘটনার একটি হলো ২০১৩ সালের বোস্টন ম্যারাথন হামলা।
এফবিআইর তথ্য অনুযায়ী, ম্যারাথনের ফিনিশিং লাইনের কাছে দুটি প্রেশার কুকার বোমা বিস্ফোরিত হয়েছিল। সেই হামলায় তিনজন নিহত এবং পাঁচ শতাধিক মানুষ আহত হন। এই ঘটনার পরই প্রেশার কুকার বোমা আন্তর্জাতিকভাবে আইইডির একটি পরিচিত ধরন হিসেবে আলোচনায় চলে আসে।
বাংলাদেশে পাওয়া প্রেশার কুকার বোমাগুলোর সঙ্গে কারা জড়িত, কোথায় তৈরি হয়েছে, কতগুলো তৈরি হয়েছিল এবং কোনো হামলার পরিকল্পনা ছিল কি না- এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। তাই আতঙ্ক নয়, প্রয়োজন সতর্কতা। সন্দেহজনক কোনো বস্তু দেখলে- দূরে থাকুন, স্পর্শ করবেন না এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে খবর দিন।