আর্জেন্টিনার জার্সিতে বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে সব আলো ছিল একজনের দিকেই। তিনি লিওনেল মেসি। ম্যাচের ফলাফল ছাপিয়ে ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ফুটবলারের জাতীয় দলের হয়ে যে এটাই ছিল শেষ ম্যাচ। কানায় কানায় পূর্ণ গ্যালারিতে হাজারো দর্শকের উপস্থিতিতে মেসিময় এক ম্যাচে এই মহাতারকা ছিলেন স্বমহিমায় উজ্জ্বল। গোল করে, করিয়ে সবাইকে চোখের জলে ভাসিয়েই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিয়েছেন মেসি।
ম্যাচ শুরুর আগেই সতীর্থদের সঙ্গে যখন ওয়ার্মআপ করতে মাঠে নামেন মেসি, তার অনেক আগেই পূর্ণ হয়ে যায় গ্যালারি। একটু পরপর ‘মেসি, মেসি’ ধ্বনিতে পুরো স্টেডিয়াম প্রকম্পিত করে তোলেন সমর্থকেরা। ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ফুটবলারকে শেষবারের মতো মাঠে দেখতে উপস্থিত হয়েছিলেন হাজারো আর্জেন্টাইন সমর্থক।
মাঠের খেলায় অবশ্য শুরু থেকেই আর্জেন্টিনাকে ছেড়ে কথা বলেনি র্যাংকিংয়ে ৯৩তম অবস্থানে থাকা বেনিন। অন্তত প্রথম ২০-২৫ মিনিট মেসিদের সঙ্গে সমানে সমান লড়াই করেছে আফ্রিকান দেশটি। এর মাঝে ম্যাচের সপ্তম মিনিটে একটি সুযোগ তৈরি করেছিলেন মেসি। বেশ দূর থেকে নেওয়া তার বাঁ পায়ের শট অবশ্য ঝাঁপিয়ে পড়ে আটকে দেন বেনিনের গোলরক্ষক।
ম্যাচের বয়স যখন ১০ মিনিট, তখন খেলা বন্ধ করে দেওয়া হয়। আতশবাজির শব্দে চারদিক মুখরিত হয়ে ওঠে মেসির ১০ নম্বর জার্সির সম্মানে। সেই মুহূর্তে দুই দলের সব খেলোয়াড়, কোচ এবং দর্শকেরা একসঙ্গে করতালি দিয়ে অভিনন্দন ও সংবর্ধনা জানান ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী মেসিকে।
প্রথমার্ধে বেনিনও কয়েকবার আক্রমণে উঠেছিল। তবে সেগুলো থেকে কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি তারা। শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয়ার্ধে গিয়ে আর্জেন্টিনার ত্রাতা হয়ে আসেন মেসি। তার কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে গোল করেন এই ম্যাচ দিয়েই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেওয়া অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওটামেন্ডি।
এরপর ৬৩তম মিনিটে লিওনেল মেসির পাস থেকে বাড়ানো বলেই গোল করেন তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে ১০ নম্বর জার্সির জন্য যাকে বিবেচনা করা হচ্ছে, সেই নিকো পাজ।
তবে আর্জেন্টিনা দল থেকে শুরু করে দর্শক—সবার মনেই তখন একটা খুঁতখুঁত ছিল। মেসি যে এখনও গোলের দেখা পাননি! যিনি দেশকে এত কিছু দিয়েছেন, দুটি কোপা আমেরিকা জিতিয়েছেন, ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন, দুটি ফাইনালে দলকে একাই টেনে নিয়ে গেছেন—সেই মেসি যদি বিদায়ী ম্যাচে একটি গোলও না পান, তাহলে তো উপলক্ষ্যটা অপূর্ণই থেকে যায়।
শেষ পর্যন্ত গোলের দেখা পান মেসি। ৭১তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে দর্শকদের দিকে ছুটে যান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তবে তার চোখেমুখে তখন উচ্ছ্বাসের চেয়ে আবেগই বেশি ছিল। আনন্দ আর আবেগের মিশ্র অনুভূতিতে তখন চোখ টলমল করছিল মেসির।
এর মধ্য দিয়ে ২০৮ ম্যাচে ১২০ গোল, ৬১ অ্যাসিস্ট, দুটি বিশ্বকাপে গোল্ডেন বল জেতাসহ অসংখ্য রেকর্ডকে সঙ্গী করে আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন মেসি।