বিক্ষোভ সহিংস হওয়ার কারণে ফ্রান্সে ৫০০টি স্কুল পুরোপুরি বা আংশিকভাবে বন্ধ রাখার পরিকল্পনা করছে সরকার। স্থানীয় সময় সোমবার শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে গতকাল রোববার এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন। খবর আল জাজিরার।
এদিকে, প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাখোঁ সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া পদক্ষেপে গাফিলতির কথা উল্লেখ করে আগামীকাল মঙ্গলবার বড় পরিসরে আবারও বিক্ষোভের ডাক দেন আন্দোলনকারীরা।
শিক্ষামন্ত্রী মন্ত্রী বলেন, নিরাপত্তার শর্ত পূরণ না হওয়ায় ৪০০ থেকে ৫০০টি উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্লাস পুরোপুরি বা আংশিকভাবে স্থগিত থাকবে। তিনি আরও বলেন, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে ২৪টি স্কুলে আগুন দেওয়া বা ভাঙচুর করা হয়েছে। তিনি বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থেই স্কুলগুলো বন্ধ রাখার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জেফ্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি প্যারিস অঞ্চলে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ প্রথম শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ১৭০ জন শিক্ষার্থী ও ৭৮ জন শিক্ষা কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।
জাতীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবার ফ্রান্সের ৩ হাজার ৭০০টি উচ্চ বিদ্যালয়ের মধ্যে অন্তত ৪০০টি বন্ধ ছিল। এছাড়া ৫৬০টি স্কুলে বিক্ষোভে কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটেছে।
জেফ্রে বলেন, সোমবার ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলের সংখ্যা শুক্রবারের সংখ্যার কাছাকাছি হতে পারে।
শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ১৭ সেপ্টেম্বর প্যারিসের উপকণ্ঠের একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট, স্কুলে অতিরিক্ত সময় কাটানোসহ বিভিন্ন অভিযোগে প্রথম আন্দোলনে নামেন। পরে এই বিক্ষোভ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ক্লাস বর্জন, অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি দেখা দিয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহে ৫ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৮৫ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক।
বিক্ষোভের জবাবে পুলিশের সহিংসতার সমালোচনা করে মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেন, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ দমন না করে তাদের কথা শুনতে হবে।