প্রতিপক্ষের জন্য স্পিন ফাঁদ পেতে অতীতে বিভিন্ন সময় দেশের মাটিতে টেস্টে ধরাশায়ী হতে হয়েছে বাংলাদেশকে। সেই ধারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে বড় স্কোরের আশা শেষ করে দিয়েছেন ক্যারিবীয় স্পিনাররা। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংসে যেভাবে ব্যাটিং করেছে, তাতে উইকেটে বিশেষ কোনো সমস্যা ছিল না বলেই প্রতীয়মান হয়েছে।
আলো স্বল্পতার কারণে মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনের খেলাও নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৩৪ রান। তারা এখনো পিছিয়ে আছে ১৩৮ রানে। দুই উইকেট নিয়েছেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম।
বাংলাদেশ দিন শুরু করেছিল ৩ উইকেটে ২১৩ রান নিয়ে। কিন্তু এরপর ইনিংস খুব বেশি এগোয়নি। সেঞ্চুরি করার পরপরই জোসুয়া বিশপের বলে লেগ বিফোর উইকেটের শিকার হন সাদমান ইসলাম (১০৫)। সেই শুরু। এরপর বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে কেউই সেভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেননি।
তাওহীদ হৃদয় প্রথম দিন রিটায়ার্ড হার্ট হয়েছিলেন। ফিরে এসে জোসুয়া বিশপের বলে কাট করতে গিয়ে বোল্ড হওয়ার আগে তিনি করতে পেরেছেন ৪২ রান। ২৯ রানে শেষ ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুলরা সেভাবে ব্যাট হাতে অবদান রাখতে পারেননি। হাতে চোট নিয়ে ব্যাট করা লিটন দাস অপরাজিত থাকেন ৩৪ রানে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাঁহাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিকান ৫৫ রানে নিয়েছেন ৫ উইকেট।
প্রথম দিন থেকেই উইকেটে স্পিনাররা বেশ সহায়তা পাচ্ছিলেন। পেসাররা যে এখানে খুব বেশি কিছু করতে পারবেন না, সেটা স্পষ্টই ছিল। তবুও শুরুর দিকে পেসারদের কাছ থেকে ব্রেকথ্রু প্রত্যাশা করেছিল বাংলাদেশ দল। সেই প্রত্যাশা পূরণে সফল হন হাসান মাহমুদ। ব্র্যান্ডন কিংকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরান ১৫ রানে।
এরপর থেকেই শুরু হয় বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণ। দুই প্রান্ত থেকে মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম টানা বল করে যান। মেলে সফলতাও। তবে তার আগে জন ক্যাম্পবেল ও তেজনারায়ণ চন্দ্রপল মিলে দ্বিতীয় উইকেটে গড়ে তুলেছিলেন ৬১ রানের জুটি। সেই জুটিতে ভাঙন ধরান মিরাজ। ডানহাতি এই অফ স্পিনারের ফ্লাইটেড ডেলিভারিতে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন ক্যাম্পবেল (৫৪)।
এরপর কেভাম হজ খুব বেশি সময় টিকতে পারেননি। তাঁকে ৭ রানে আউট করেন তাইজুল। এরপর আরও একটি উইকেট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বেশ ভালোই চাপে ফেলে দিয়েছিলেন এই বাঁহাতি স্পিনার।
সেই সময়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ৯৭ রান। তবে এরপর বাবা শিবনারায়ণ চন্দরপলের মতোই উইকেটে মাটি কামড়ে পড়ে থাকার কৌশল বেছে নেন তেজনারায়ণ। ১৪৫ বলে ৪৩ রানে অপরাজিত থেকে বাংলাদেশের স্পিনারদের হতাশ করেন তিনি। তাঁর সঙ্গে আছেন ১৫ রান করা জাস্টিন গ্রিভস।