রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর সশস্ত্র হামলার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করেছেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবনের সামনে এ বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনার সংবাদ সংগ্রহ করতে যান ক্যাম্পাসের সাংবাদিকরা। সংবাদ সংগ্রহের একপর্যায়ে কয়েকজন দুষ্কৃতকারী দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হঠাৎ করে হামলা চালায় এবং একাধিক সাংবাদিককে বেধড়ক মারধর করে। এতে কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন। অন্য সহকর্মীরা তাদের বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাদেরও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও প্রক্টর ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন এবং আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
মানববন্ধনে সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোজ্জাম্মেল হোসেন বকুল বলেন, “পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের হামলা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও স্বাধীন সাংবাদিকতার মুখে চপেটাঘাত। অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”
বিভাগটির অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল-মামুন তার বক্তব্যে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কাজ করা সাংবাদিকদের ওপর এমন বর্বর আক্রমণ ক্যাম্পাসের গণতান্ত্রিক ও মুক্তচিন্তার পরিবেশকে বিনষ্ট করে। প্রশাসনকে অবিলম্বে অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও স্থায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।”
শিক্ষার্থী শাহাদাত বলেন, “ক্যাম্পাসে যদি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা না থাকে, তবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কোথায় যাবে? হামলাকারীদের দ্রুত চিহ্নিত করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করতে হবে।”
শিক্ষার্থীরা জানান, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত তাদের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষকরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে সব ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের সিদ্ধান্ত বজায় রেখেছেন।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে হামলায় সম্পৃক্ত অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।