মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে প্রথম নির্বাচিত মুসলিম হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ।
মিশরীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান এল-সাইয়েদ জনস্বাস্থ্য বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা। এর আগে তিনি কখনো কোনো নির্বাচিত পদে দায়িত্ব পালন করেননি। আজ বুধবার ডেট্রয়েটে সমর্থকদের এক সমাবেশে তিনি নিজের বিজয় ঘোষণা করেন।
বার্তা সংস্থা এপির বরাতে বার্তা সংস্থা ইউএনবি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা এমন একজন প্রার্থীর ওপর আস্থা রেখেছেন, যার জয়ের সম্ভাবনা ছিল সবচেয়ে কম।” এ সময় ভোটারদের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান তিনি।
তৃণমূল পর্যায়ের প্রচারাভিযানে এল-সাইয়েদ সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, নির্বাচনে বাইরের অর্থের প্রভাব কমানো এবং ইসরায়েলের সমালোচনাকে গুরুত্ব দেন। ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে তার এই জয় ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রগতিশীল অংশের জন্য বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-করতেজ এবং সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সসহ প্রভাবশালী প্রগতিশীল নেতারা তার প্রচারে সমর্থন দেন।
নির্বাচনী প্রচারে ইসরায়েল নিয়ে এল-সাইয়েদের সমালোচনাকে কেন্দ্র করে তীব্র বাক্যবিনিময় হয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ অন্য রিপাবলিকান নেতারা কোনো প্রমাণ ছাড়াই তাকে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তার আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
এল-সাইয়েদ অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে কুৎসিত নির্বাচনী প্রচারাভিযানগুলোর একটি চালিয়েছে রিপাবলিকানরা।
তিনি বলেন, “তারা হয়তো আমার নাম ও ধর্মবিশ্বাসকে সামনে এনেছে। কিন্তু আমরা সবাই জানি, আমার নাম ও ধর্মবিশ্বাসের কারণে আপনাদের গ্যাস কেনার সামর্থ্য কমে যায়নি।”
গত আগস্টে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়ন পান এল-সাইয়েদ। ব্যয়বহুল প্রাথমিক নির্বাচনে দলীয় প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্বের সমর্থনপুষ্ট প্রতিনিধি হ্যালি স্টিভেন্সকে পরাজিত করেন তিনি।
ওই নির্বাচনে বাইরের বিভিন্ন পক্ষ প্রায় ৬ কোটি ডলার ব্যয় করে। ইসরায়েলপন্থী লবি আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি তার বিরোধিতায় প্রায় ৩ কোটি ডলার খরচ করে।
ডেমোক্র্যাট হ্যালি স্টিভেন্স নির্বাচনের দুই দিন আগে রিপাবলিকান মাইক রজার্সকে সমর্থন দেন, যা ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ বিভাজন স্পষ্ট করে তোলে। ভোটারদের উপস্থিতি বাড়াতে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস ডেট্রয়েটে এল-সাইয়েদের পক্ষে প্রচার চালান।
এল-সাইয়েদের নির্বাচনী প্রচারের মূল প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে ছিল ‘মেডিকেয়ার ফর অল’—একটি প্রগতিশীল কর্মসূচি, যার আওতায় বিদ্যমান সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থার পরিবর্তে সরকার পরিচালিত স্বাস্থ্যসেবা চালুর কথা বলা হয়েছে।
সাবেক কংগ্রেস সদস্য রজার্স ২০২৪ সালের সিনেট নির্বাচনে অল্প ব্যবধানে হেরে গিয়েছিলেন। এবার ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন বজায় রাখার পাশাপাশি জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, শুল্ক এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে জনমতের উদ্বেগ সামাল দিতে তাকে হিমশিম খেতে হয়।
সেপ্টেম্বরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রজার্স লিখেছিলেন, “ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান হওয়া প্রয়োজন, এবং তা দ্রুতই হতে হবে।”
দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করা ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্স পুনর্নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আসনটি শূন্য হয়েছিল।
বিজয় ভাষণে রজার্সকে অবসরজীবন উপভোগ করার পরামর্শ দিয়ে এল-সাইয়েদ বলেন, “আপনারা ঘৃণাকে বেছে নিয়েছেন, আর মিশিগান বেছে নিয়েছে আশাকে।”