উয়েফা নেশনস লিগের প্রথম ম্যাচ খেলার পর যেভাবে পর্তুগাল দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, তাতে অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, জাতীয় দলের হয়ে হয়তো শেষটা দেখে ফেলেছেন আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ গোলস্কোরার। তবে সেই ধারণা উড়িয়ে দিয়েছেন রোনালদো নিজেই। পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশন ও কোচের সঙ্গে সবকিছু মিটমাট করে আবারও জাতীয় দলে ফিরতে প্রস্তুত তিনি।
আন্তর্জাতিক বিরতিতে পর্তুগাল দলে রোনালদোর সমস্যার শুরুটা হয়েছিল কোচ জর্জ জেসুসকে ঘিরে। বিশ্বকাপের পর পর্তুগাল জাতীয় দলের দায়িত্ব নেন জেসুস। এর আগে গত মৌসুমে সৌদি প্রো লিগের ক্লাব আল নাসরে দুজন একসঙ্গে কাজ করেছিলেন।
বুধবার রাতে দেওয়া এক বিশাল বিবৃতিতে রোনালদো দাবি করেছেন, তার মতামত নিয়েই পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশন জেসুসকে জাতীয় দলের কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। সে সময় তার কাছে মনে হয়েছিল, জেসুসই এই দায়িত্বের জন্য যোগ্য ব্যক্তি।
দায়িত্ব পাওয়ার পর জেসুস নাকি সদ্য শেষ হওয়া আন্তর্জাতিক বিরতিতে পর্তুগালের চার ম্যাচের দুটিতে রোনালদোকে খেলানোর ব্যাপারে মৌখিকভাবে কথা দিয়েছিলেন। সেই দুটি হওয়ার কথা ছিল প্রথম ও শেষ ম্যাচ। শুরুতে রোনালদো এই প্রস্তাবে রাজি ছিলেন না। তবে কোচের কথায় শেষ পর্যন্ত তিনি সম্মতি দেন।
রোনালদোর বিবৃতি অনুযায়ী, প্রথম ম্যাচের পর তাকে দ্বিতীয় ম্যাচে ৩০ মিনিট বদলি হিসেবে খেলানোর আশ্বাস দিয়েছিলেন জেসুস। কোচ নাকি আল নাসর তারকাকে স্পষ্ট করে বলেছিলেন, অন্তত ৩০ মিনিটের জন্য হলেও তিনি অবশ্যই রোনালদোকে মাঠে নামাবেন এবং তাকে প্রস্তুত থাকতে হবে। সেই অনুযায়ী নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে রোনালদো ওয়ার্ম আপও করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোচ তার কথা রাখেননি, এক মিনিটের জন্যও মাঠে নামানো হয়নি তাকে।
রোনালদো আরও জানিয়েছেন, কোচ দুই দফায় দেওয়া প্রতিশ্রুতি না রাখার পরও তিনি জাতীয় দলের হয়ে খেলার জন্য নিজেকে প্রস্তুত রেখেছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে আরেকটি বৈঠকে জেসুস যখন তাকে স্পষ্ট করে জানান, পরের ম্যাচ কিংবা শেষ ম্যাচে তাকে খেলাবেন কি না, সে ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত নন, তখনই ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন রোনালদো।
এর আগে আরেকটি বৈঠকে জেসুস নাকি রোনালদোকে বলেছিলেন, তাকে না খেলিয়ে তিনি বড় একটি ভুল করেছেন। পেলে কিংবা দিয়েগো ম্যারাডোনার মতো একজন খেলোয়াড়কে এভাবে বেঞ্চে বসিয়ে রাখা তার ভুল হয়েছে এবং এমন ভুল তিনি আর করবেন না। সংবাদ সম্মেলনে নিজের ভুল স্বীকার করে প্রকাশ্যেই বলবেন, রোনালদো খেলার জন্য বিশেষ কোনো শর্ত দেননি—এমন কথাও কোচ তাকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জেসুস সেটিও করেননি বলেই দাবি রোনালদোর।
কোচের কথা না রাখায় অভিমান করে দলের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য দেশবাসী, পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশন ও সতীর্থদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন রোনালদো। অধিনায়ক হিসেবে এভাবে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার কারণে ফেডারেশন যদি তাকে কোনো শাস্তি দিতে চায়, সেটিও মাথা পেতে নেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
তবে জাতীয় দলের দরজা আপাতত বন্ধ করে দিতে চান না রোনালদো। পর্তুগাল যদি পরবর্তী আন্তর্জাতিক বিরতিতে তাকে জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য ডাকে, ফিট থাকলে তিনি সেই ডাকে সাড়া দেবেন। তবে এখনই কোনো বিদায়ী ম্যাচ খেলার ইচ্ছা নেই পর্তুগালের অধিনায়কের।