Advertisement Banner

ইস্পাত শিল্পে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহারের দাবি

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
ইস্পাত শিল্পে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহারের দাবি
ছবি: সংগৃহীত

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির ফলে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দেশের স্টিল বা ইস্পাত শিল্প চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসএমএ)। আজ সোমবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য অবিলম্বে প্রত্যাহার করে পূর্ববর্তী হার পুনর্বহালের দাবি জানায় সংগঠনটি।

সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “নতুন বিদ্যুৎ ট্যারিফ কার্যকর হওয়ায় প্রতি মেট্রিক টন স্টিল উৎপাদনে শুধুমাত্র বিদ্যুৎ ব্যয়ই প্রায় ১ হাজার ৭৮৫ টাকা বেড়ে যাবে। এর সঙ্গে ভ্যাট, বন্দর চার্জ, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয়, ফেরো-অ্যালয় এবং অন্যান্য কনজিউমেবলসের মূল্যবৃদ্ধি যুক্ত হলে মোট অতিরিক্ত ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ৩ হাজার ৫৬০ টাকা প্রতি মেট্রিক টনে।”

জাহাঙ্গীর আলম আরও জানায়, বর্তমানে দেশের স্টিল শিল্প এমনিতেই কঠিন সময় পার করছে। নির্মাণখাতে দীর্ঘস্থায়ী মন্দা, বাজারে চাহিদা হ্রাস, টাকার অবমূল্যায়ন, ডলার সংকট, এলসি খোলার জটিলতা এবং কার্যকরী মূলধনের ঘাটতির কারণে অধিকাংশ কারখানা টিকে থাকার লড়াই করছে।

সংগঠনটির তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে প্রায় ৪০টি আধুনিক স্টিল মিল এবং ১৫০টির বেশি রি-রোলিং মিল রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা বছরে প্রায় ১ কোটি ২২ লাখ মেট্রিক টন হলেও বর্তমান চাহিদা প্রায় ৫০ লাখ মেট্রিক টন। ফলে অধিকাংশ কারখানাই তাদের উৎপাদন সক্ষমতার অর্ধেকেরও কম ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সদস্য রাশেদুল ইসলাম বলেন, “দেশের বড় স্টিল কারখানাগুলো ৩৩, ১৩২ ও ২৩০ কেভি উচ্চ ভোল্টেজ লাইনের সরাসরি গ্রাহক। এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান নিজস্ব অর্থায়নে সাবস্টেশন, ট্রান্সফরমার এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামো নির্মাণ করায় তাদের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সিস্টেম, ট্রান্সমিশন বা ডিস্ট্রিবিউশন লস নেই। তারপরও ডিমান্ড চার্জ, পাওয়ার ফ্যাক্টর চার্জ, ভ্যাটসহ বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ বহন করতে হচ্ছে।”

রাশেদুল ইসলাম আরও বলেন, “দেশে উৎপাদিত মোট স্টিলের প্রায় ৬০ শতাংশ সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যবহৃত হয়। ফলে স্টিলের উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পেলে সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে। এর প্রভাব জাতীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং অবকাঠামো খাতের ওপরও পড়বে।”

সংগঠনটির মতে, বিদ্যুৎ খাতের কাঠামোগত অদক্ষতা ও ক্যাপাসিটি চার্জের আর্থিক বোঝা উৎপাদনশীল শিল্পখাতের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে সামগ্রিক জাতীয় উন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সংগঠনটির নেতারা জানান, নির্মাণখাতের দীর্ঘমেয়াদি মন্দা, ডলার সংকট, উচ্চ সুদের হার এবং গ্যাস সরবরাহ সমস্যার মধ্যেই নতুন বিদ্যুৎ ট্যারিফ শিল্পটিকে আরও বড় সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

সম্পর্কিত