গত ছয় বছর ধরে কারাবন্দী উমর খালিদ ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে কর্মরত মানবাধিকার রক্ষকদের জন্য দেওয়া ‘ফ্রন্ট লাইন ডিফেন্ডার্স অ্যাওয়ার্ড’ (২০২৬)-এর বিজয়ী হয়েছেন। খালিদ ছাড়াও অন্য বিজয়ীরা হলেন: আফ্রিকার জন্য লরিন্ডা ম্যানুয়েল গোভেইয়া (অ্যাঙ্গোলা), আমেরিকার জন্য আড্ডা ভিক্টোরিয়া কায়তানো (ব্রাজিল), ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ার জন্য লিলিয়ানা নেসিক (সার্বিয়া) এবং মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার জন্য আহমাদরেজা হায়েরি (ইরান)।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্ট জানিয়েছে, পুরস্কারপ্রাপ্তদের সম্মান জানাতে ডাবলিনের ট্রিনিটি কলেজে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। খালিদের পক্ষে তার বাবা সৈয়দ কাসিম রাসুল ইলিয়াস অনুষ্ঠানে প্রতিনিধিত্ব করেন।
“উমর খালিদ ‘ফ্রন্ট লাইন ডিফেন্ডার্স অ্যাওয়ার্ড’ ২০২৬ সালের এশিয়া অঞ্চলের বিজয়ী। যারা তার কাজকে স্তব্ধ করতে চায়, তাদের কাছে তিনি ‘রাষ্ট্রের শত্রু’ ও ‘দেশবিরোধী’ হিসেবে বিবেচিত হন; কিন্তু অন্যদের কাছে তিনি একজন জাতীয় বীর, জনগণের কণ্ঠস্বর এবং মানবাধিকার রক্ষক।” গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ‘ফ্রন্ট লাইন ডিফেন্ডারস’ এই মন্তব্য করে বলেছে, “ভারতের নাগরিকত্ব আইনের অসাংবিধানিক ও মুসলিম-বিরোধী সংশোধনীর বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক নাগরিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে গত ছয় বছর ধরে উমর খালিদকে কারাবন্দী করে রাখা হয়েছে।”
২০২০ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর দিল্লি দাঙ্গা মামলায় ‘মূল ষড়যন্ত্রকারী’ হিসেবে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল খালিদকে গ্রেপ্তার করার পর থেকেই তিনি কারাগারে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ‘আনলফুল অ্যাক্টিভিটিস (প্রিভেনশন) অ্যাক্ট’ বা ইউএপিএ, রাষ্ট্রদ্রোহ এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির আরও ১৮টি ধারায় (যার মধ্যে হত্যা ও হত্যার চেষ্টার মতো অভিযোগও রয়েছে) মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচিত খালিদ ২০১৯-২০ সালে নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সংগঠিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
‘ফ্রন্ট লাইন ডিফেন্ডারস’-এর বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সিএএ কীভাবে ভারতের মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর প্রভাব ফেলেছে এবং খালিদ কীভাবে এই চরম অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন। “ক্রমবর্ধমান হিন্দু জাতীয়তাবাদের বৈরী পরিবেশের মধ্যে প্রবর্তিত এই আইনটি মুসলিমদের নথিপত্র ও আইনি মর্যাদা থেকে বঞ্চিত করার ঝুঁকি তৈরি করেছে—যার প্রভাব তাদের ওপরই সবচেয়ে বেশি পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ছাত্র, সংখ্যালঘু ও নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া উমর খালিদকে এই অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার অন্যতম প্রধান কণ্ঠস্বর হিসেবে বিবেচনা করা হয়।” বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “বেশ কয়েকটি প্রধান আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং ‘নির্বিচার আটক সংক্রান্ত জাতিসংঘের ওয়ার্কিং গ্রুপ’ তাঁর গ্রেপ্তার ও আটকের বেআইনি দিকটি তুলে ধরেছে।”