ইরানের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, দেশটির ভূখণ্ডে আর কোনো হামলা না চালানোর নিশ্চয়তা এবং তেহরানের অন্য শর্ত পূরণ করলেই কেবল হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. জলিল রহিমি জাহানাবাদি।
আজ বুধবার ঢাকায় নিজ বাসভবনে মধ্যপ্রাচ্যের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।
বার্তা সংস্থা ইউএনবি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আকস্মিক হামলা চালিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করেছে। এসব হামলায় অন্তত ৪০ জন জ্যেষ্ঠ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তার পাশাপাশি প্রায় ৪ হাজার ৫০০ বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া, বহু স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে।
তিনি বলেন, ওমানের মধ্যস্থতায় যখন আলোচনা চলছিল, তখনই এসব হামলা চালানো হয়। এর জবাবে ইরান পাল্টা হামলা চালায়।
তিনি বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ঘাঁটিই আমাদের হামলা থেকে রেহাই পায়নি।” যুক্তরাষ্ট্র আবার ইরানের ভূখণ্ডে হামলা চালালে দেশটি সমান মাত্রায় জবাব দেবে বলেও জানান তিনি।
তবে রাষ্ট্রদূত বলেন, ইরান সব সময় যুদ্ধ ও সংঘাতের বিরোধিতা করে এসেছে। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মতো অন্য দেশের ভূখণ্ডে আগ্রাসন চালানোর কোনো নজির ইরানের নেই।
কবি শেখ সাদি, হাফিজ শিরাজি ও মাওলানা রুমির দেশ হিসেবে ইরানের পরিচয় তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশটির রয়েছে সমৃদ্ধ সভ্যতা, সংস্কৃতি ও মানবিক ঐতিহ্য। ইরান যুদ্ধ ও সহিংসতায় বিশ্বাস করে না।
আরেক প্রশ্নের জবাবে জাহানাবাদি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অতীতে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে—এ বিষয়টি বিবেচনায় নিলে ইরানের বিরুদ্ধে দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের ওপর আবার হামলা হলে দেশটি তার সমানুপাতিক জবাব দেবে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের জাহাজ চলাচলের বিষয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, বর্তমানে কোনো বাংলাদেশি জাহাজ ওই জলপথ দিয়ে চলাচল করছে কি না, সে তথ্য দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারই অধিকতর উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ।
তিনি বলেন, ঢাকায় আসার পর থেকেই তিনি নিয়মিত তেহরানকে জানিয়ে আসছেন যে বাংলাদেশের জনগণ ইরানের বন্ধু ও ভাই এবং ইরানের মানুষের প্রতি তাদের গভীর ভালোবাসা রয়েছে।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে আমি তেহরানকে অনুরোধ জানিয়েছি।”
মক্কা চুক্তির বিষয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে কোনো চুক্তিকে ইরান নিজেদের বিরুদ্ধে পরিচালিত উদ্যোগ বলে মনে করে না।
তিনি বলেন, বিদেশি শক্তির সম্পৃক্ততা ছাড়াই আঞ্চলিক দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পক্ষে ইরান দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান নিয়ে আসছে।
সৌদি আরবের সঙ্গে ইয়েমেনের হুতি আন্দোলনের দীর্ঘদিনের সংঘাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রিয়াদ ও ইয়েমেনের মধ্যকার বর্তমান সমস্যার মূলে রয়েছে সৌদি আরবের ভুল পররাষ্ট্রনীতি। এর সমাধান নির্ভর করছে সৌদি সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির ওপর।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরোধিতাকারী আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোকে ইরান রাজনৈতিক ও নৈতিক সমর্থন দিয়ে থাকে। এসব গোষ্ঠীর মধ্যে হুতি ও হিজবুল্লাহও রয়েছে।