প্রধান উপদেষ্টাকে ছয় মানবাধিকার সংস্থার খোলা চিঠি

আওয়ামী লীগ সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রমাণবিহীন মামলা বন্ধের আহ্বান

র‍্যাব বিলুপ্ত ও ডিজিএফআই-এর ক্ষমতা সীমিত করা

আন্তর্জাতিক মান মেনে গুমকে অপরাধ হিসেবে ঘোষণা

সাইবার সিকিউরিটি অধ্যাদেশ ২০২৫ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
আওয়ামী লীগ সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রমাণবিহীন মামলা বন্ধের আহ্বান
মানবাধিকার বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার কাছে খোলা চিঠি পাঠিয়েছে ছয় মানবাধিকার সংস্থা।

র‍্যাব বিলুপ্তি, ডিজিএফআইকে সীমিত করা, আওয়ামী লীগসহ রাজনৈতিক বিবেচনায় এবং প্রমাণ ছাড়াই আটক বন্ধ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক যাবতীয় আইন সংশোধনে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে ছয় মানবাধিকার সংস্থা খোলা চিঠি পাঠিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে।

সংস্থাগুলো হলো–সিভিকাস, কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্ট (সিপিজে), ফর্টিফাই রাইটস, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ), রবার্ট এফ কেনেডি হিউম্যান রাইটস ও টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট।

চিঠিটি হুবহু নিচে তুলে ধরা হলো–

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে আমাদের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব এবং শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এক বছরেরও বেশি সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মৌলিক স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার, আইন সংস্কার শুরু এবং গুম ও অন্যান্য নির্যাতনের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে।

আমরা আপনাকে আহ্বান জানাচ্ছি, ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে স্বল্প এই সময়েই মানবাধিকার সুরক্ষা আরও জোরদার করুন এবং এমন শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলুন, যা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারে এবং ভবিষ্যতে স্বৈরাচারী পুনরুত্থান রোধে সক্ষম। আমরা উদ্বিগ্ন যে নিরাপত্তা খাত এখনো বড় পরিবর্তন ছাড়াই আগের মতোই রয়ে গেছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা জবাবদিহি ও সংস্কার কার্যক্রমে পুরোপুরি সহযোগিতা করছে না। আগের সরকারের সময় সংঘটিত গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি, বর্তমান সরকারকে অবশ্যই চলমান নির্বিচার গ্রেপ্তার ও আটক কার্যক্রম–বিশেষত আওয়ামী লীগ সদস্যদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও প্রমাণবিহীন মামলাগুলো বন্ধ করতে হবে।

জাতিসংঘের রোহিঙ্গা বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে আপনি বলেছিলেন যে, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোই এই সংকটের একমাত্র সমাধান এবং নতুন করে আগত শরণার্থীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে হবে। রোহিঙ্গারা বহুদিন ধরেই জানিয়ে আসছে, তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো–নিজভূমি মিয়ানমারে ফিরে যাওয়া। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ২০২৩ সালের শেষ থেকে আসা প্রায় দেড় লাখ নতুন শরণার্থীসহ কোনো রোহিঙ্গার জন্যই বর্তমানে মিয়ানমারের কোনো অংশ নিরাপদ নয়। তাই স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসইভাবে ফেরত যাওয়ার মতো পরিস্থিতি সেখানে এখনো তৈরি হয়নি।

আমরা আপনাকে আহ্বান জানাচ্ছি, বাংলাদেশে বসবাসরত সবার অধিকার ও স্বাধীনতা সুরক্ষিত রাখতে নিচে উল্লেখিত পদক্ষেপগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করুন।

● জুলাই বিপ্লব এবং গত পনেরো বছরে সংঘটিত গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন—যেমন গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও নির্যাতনের জন্য দায়ী সকল অপরাধীকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) ইতিমধ্যেই মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে র‍্যাব ও ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্সের (ডিজিএফআই) বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) একটি বেসামরিক আদালত হওয়ার পাশাপাশি সেনা সদস্যদের বিচারকার্য পরিচালনার যে এখতিয়ার রাখে, তার প্রতি সম্মান জানিয়ে সেনাবাহিনীকে এই জবাবদিহি প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অনুরোধ করি আইসিটি-এর জন্য প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো, সম্পদ ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে, যাতে এটি আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী প্রাতিষ্ঠানিক বা রাজনৈতিক অবস্থান নির্বিশেষে সবার ন্যায়সংগত বিচার পরিচালনা করতে পারে। পাশাপাশি আইসিটির আওতাধীন ও এর বাইরে বাকি সব মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর অবিলম্বে স্থগিতাদেশ দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে হবে।

● নিরাপত্তা খাতে বড় সংস্কারের অংশ হিসেবে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত করা এবং ডিজিএফআই-এর ক্ষমতা সীমিত করা জরুরি। এর মাধ্যমে অতীতের অপব্যবহার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সম্ভব হবে। র‍্যাব দীর্ঘদিন ধরে বিনা শাস্তিতে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন করে আসছে, যা প্রমাণ করেছে এই বাহিনী সংস্কারের ঊর্ধ্বে চলে গেছে। তাই বেসামরিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থেকে সব সামরিক সদস্যকে প্রত্যাহার করতে হবে। ডিজিএফআই-এর বিরুদ্ধে গুম ও অন্যান্য গুরুতর নির্যাতনের অভিযোগ স্পষ্ট করে দেয়–এই সংস্থার ভূমিকা ও ক্ষমতা কঠোরভাবে সামরিক গোয়েন্দা কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে এবং নির্দিষ্ট আইনগত দায়িত্ব ও কার্যক্রমের সীমা নির্ধারণ করতে হবে।

● আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী গুমকে অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করতে হবে এবং গুম বিষয়ক তদন্ত কমিশনকে তার দায়িত্ব পালনে পূর্ণ সহায়তা দিতে হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে “গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ”-এর খসড়া আইনটি অনুমোদন করতে হবে। তবে তার আগে নিশ্চিত করতে হবে যে, এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সাথে বিশেষ করে জোরপূর্বক নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের সুরক্ষা সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক কনভেনশনের (আইসিপিপিইডি) সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এতে শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান বাদ দিতে হবে। গুম তদন্ত কমিশনের কাজ শেষ করার জন্য যথেষ্ট সময় ও সম্পদ রয়েছে কিনা, তা সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। তদন্তকারীদের আটককেন্দ্রে অবাধ প্রবেশাধিকার প্রদান এবং প্রাসঙ্গিক সব রেকর্ড প্রদানসহ নিরাপত্তা বাহিনীকে এই তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে।

● জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে (এনএইচআরসি)প্যারিস প্রিন্সিপলস অনুযায়ী সংস্কার করতে হবে, যাতে এটি কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে এবং এর কার্যক্রম, সদস্য নির্বাচন ও অর্থায়ন রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত থাকে। কমিশনকে এমন ক্ষমতা দিতে হবে, যাতে তারা নিরাপত্তা বাহিনী ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় সংস্থার বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে তদন্ত করতে পারে এবং এই তদন্ত যাতে দেশীয় আইনের সীমাবদ্ধতার মধ্যে নয়; বরং, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুযায়ী পরিচালিত হয়।

● আন্তর্জাতিক মান অনুসারে সাইবার সিকিউরিটি অধ্যাদেশ ২০২৫ এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন, রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন ও দণ্ডবিধির অধীনে মানহানির মামলা সম্পর্কিত ধারার মতো সেসব আইন, যা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার দমনে ব্যবহৃত হয়েছে, সেগুলো বাতিল বা সংশোধন করতে হবে।

যদিও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সাইবার সিকিউরিটি আইন ২০২৩ বাতিল করেছে, তার পরিবর্তে আনা সাইবার সিকিউরিটি অধ্যাদেশ ২০২৫ এখনো আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ। এতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করে এবং সরকারের ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ বাড়ায়–এমন অনেক অস্পষ্ট ও অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রদানকারী ধারা রয়েছে।

● আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা অধ্যাদেশ ও জাতীয় তথ্য ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশের খসড়া সংশোধন করতে হবে। বর্তমান খসড়াগুলোয় রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষকে অতিরিক্ত ছাড় বা ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যাতে নাগরিকদের তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষায় ব্যর্থ হওয়ার এবং সরকারের নজরদারি বা ক্ষমতা অপব্যবহারের ঝুঁকি রয়েছে। এই অধ্যাদেশগুলো যেন মানবাধিকারের মানদণ্ড অনুযায়ী কাজ করে এবং এর মাধ্যমে যেন সেরা দৃষ্টান্ত তৈরি হয়। সেজন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে অর্থবহ পরামর্শ ও আলোচনা জরুরি।

● মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে এবং সাংবাদিকদেরকে দলমত নির্বিশেষে ইচ্ছামতো গ্রেপ্তার বা আটক না করা হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে যেসব অভিযোগের কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ নেই বা যেগুলো মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও অন্যান্য অধিকার লঙ্ঘন করে, সেসব ক্ষেত্রে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছি, যাতে তারা রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় উভয় পক্ষের হয়রানি ও সহিংসতা থেকে সাংবাদিকদের সুরক্ষা দেয় এবং যেকোনো হামলার দ্রুত, নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে। পাশাপাশি গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবগুলোর মধ্যে যেগুলো আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করে, তার বাস্তবায়নও জরুরি।

● অযৌক্তিক গ্রেপ্তার ও আটক বন্ধ করতে হবে এবং যেসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে, সেসব মামলা বাতিল বা প্রত্যাহার করতে হবে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকাররের উচিত আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, আগস্ট ২০২৪-এর আগে ও পরে করা এসব মামলা পর্যালোচনা করে, তা বাতিল করা। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের সদস্য ও সমর্থকেরাও অন্তর্ভুক্ত, যারা কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ ছাড়াই অভিযুক্ত বা আটক হয়েছেন।

● সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আওয়ামী লীগের ওপর চালানো ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা বাতিল করতে হবে। এই নিষেধাজ্ঞা সমিতি গঠন, সভা-সমাবেশ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে লঙ্ঘন করছে এবং শান্তিপূর্ণ কর্মকাণ্ডে নিযুক্ত আওয়ামী লীগের সদস্য ও সমর্থকদের গ্রেপ্তারের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। জাতিসংঘ ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে সুপারিশ করেছে যে, রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের মতো পদক্ষেপ গণতন্ত্র পুনরায় প্রতিষ্ঠায় বাধা সৃষ্টি করে এবং দেশের বড়সংখ্যক নাগরিকের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

● সিভিল সোসাইটি সংস্থাগুলোর তহবিল এবং কার্যক্রমের ওপর থাকা সীমাবদ্ধতা তুলে নিতে হবে এবং এনজিও অ্যাফেয়ার্স ব্যুরোকে সংস্কার করতে হবে। অতীতে এই ব্যুরো সিভিল সোসাইটি সংস্থাগুলোকে হয়রানির জন্য, প্রকল্প অনুমোদন বিলম্ব বা বাতিল করার মাধ্যমে এবং আন্তর্জাতিক তহবিল সীমিত করার মাধ্যমে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে এনজিও অ্যাফেয়ার্স ব্যুরো এবং বিদেশি অনুদান (স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম) নিয়ন্ত্রণ আইন পর্যালোচনা ও সংস্কার করতে হবে, যাতে সিভিল সোসাইটি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে। আন্তর্জাতিক তহবিল বা অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের কারণে এর কার্যক্রম যাতে বাধাপ্রাপ্ত না হয়।

● রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জোরপূর্বক মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো থেকে রক্ষা করতে হবে এবং তাদের চলাচল, জীবিকা ও শিক্ষার ওপর থাকা সীমাবদ্ধতা শিথিল করতে হবে। বাংলাদেশে এক মিলিয়নের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছেন, যার মধ্যে ২০২৩ সালের শেষ থেকে আসা প্রায় দেড় লাখ শরণার্থীও অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে রাখাইন রাজ্যসহ মিয়ানমারের কোনো অংশই নিরাপদ নয়। তাই স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসইভাবে ফেরত যাওয়ার উপযোগী পরিস্থিতি তৈরি না হওয়া পর্যন্ত জোরপূর্বক প্রত্যাবাসন বন্ধ করতে হবে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতর চলাচল, জীবিকার সুযোগ এবং প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় প্রবেশের ওপর থাকা সীমাবদ্ধতা শিথিল করতে হবে। ক্যাম্পের পরিস্থিতির উন্নয়ন, সাহায্যপ্রাপ্তির ওপর নির্ভরতা কমানো, এবং শরণার্থীদেরকে স্বনির্ভর ও ক্ষমতায়িত করতে পারাটা এই মুহূর্তে; অর্থাৎ, রোহিঙ্গাদের জন্য আসা বাইরের সহায়তা কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ।

● বাংলাদেশ–মিয়ানমারের পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) চলমান তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। আইসিসি বাংলাদেশের ভেতরে রয়েছে–এমন কোনো ব্যক্তিকে যদি তলব করে, তবে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হস্তান্তর করতে হবে।

সম্পর্কিত