প্রধানত শিয়া মুসলমানরা ‘ঈদুল গাদির’ পালন করে। তাদের কাছে অন্য দুই ঈদের চেয়েও এই ঈদ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আশুরার পরই এই দিনটির অবস্থান। ঈদুল আজহা তো পালিত হয় জিলহজ মাসের দশম দিনে, ঈদুল গাদির পালিত হয় একই মাসে, ১৮তম দিনে। ঈদুল গাদিরে অবশ্য পশু কোরবানি দেওয়া হয় না। মূলত বিশেষ নামাজ আদায় ও রোজা রাখা হয়।
এবার জানা যাক কোথা থেকে এল এই ঈদুল গাদির। আমরা তো জানি, বিদায় হজে মহানবী মুহাম্মদ (সা.) জীবনের শেষ ভাষণটি দেন। ভাষণে তিনি ইসলামের সারাংশ তুলে ধরেন। ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী, সেসময় নাজিল হয় সুরা মায়েদার ৩ নম্বর আয়াত, ‘আজকের এই দিনে তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করে দিলাম।’ কিন্তু শিয়া মুসলমানদের বিশ্বাস, এই ভাষণ শেষ করে নবীজি মদিনায় ফেরার পথে ‘খুম’ নামের একটি জায়গায় অবস্থান নেন এবং সবাইকে জড়ো হতে বলেন। খুম ছিল একটি মোড়, সেখান থেকে বিদায় নিয়ে হাজি যার যার পথে বেরিয়ে যান। খুমে নবীজি আরও একটি ভাষণ দেন। ৬৩২ খ্রিস্টাব্দের ১৬ মার্চে দেওয়া এই ভাষণটি ‘গাদিরে খুম’ নামে পরিচিত।
শিয়ারা তো বিশ্বাস করেই, অনেক গবেষকও মনে করেন, ‘গাদিরে খুম’ ভাষণে নবীজি হজরত আলী (রা.) নিয়ে কয়েকটি কথা বলেছিলেন, যা বিদায় হজের ভাষণে নেই।
সুফিসাধক ও গবেষক আবদেল মাননান লিখেছেন, ভাষণের এক পর্যায়ে মহানবী (স.) হজরত আলী সম্পর্কে বলেন, ‘‘আমি যার মাওলা, আলী তার মাওলা।’’ এবং দোয়া করেন, ‘‘হে আল্লাহ, তুমি তাকে ভালোবেস, যে আলীকে ভালোবাসবে, তুমি তার দুশমন হয়ে যাও, যে আলীর সাথে দুশমনি করে। আমার পর আলী সকল মুমিনের মাওলা।’’
এ জন্যই শিয়াদের কাছে দিনটি ভীষণ তাৎপর্যপূর্ণ। তাদের বিশ্বাস এই দিনটিতেই মহানবী (স.) হজরত আলীকে তার উত্তরসূরি নির্বাচন করেছিলেন। তাই তারা দিনটিকে ঈদ হিসেবে উদযাপন করে।
তবে সুন্নি আলেমদের একটি বড় অংশ এই দিনটিকে শরিয়তবিরোধী মনে করেন। তাদের মতে, দিনটিকে ঈদ হিসেবে পালন করা বিদআত। কোরআন ও হাদিসের বাইরে কোনো কিছু করাই বিদআত। সুন্নিমত হলো, ইসলামে নির্ধারিত ধর্মীয় উৎসব দুটি—ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। তবে হ্যাঁ, এ দিনটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব সুন্নিরাও স্বীকার করে। তারা ঈদ পালন না করে এই দিনে রোজা রাখতে উৎসাহিত করে।
তথ্যসূত্র: সুফিকোষ, মোহাম্মাদ আবুল খায়ের
সুফিজগতের ভাষারহস্য, আবদেল মাননান
Ashura and Eid-ul-Ghadeer, BBC
islamqa. info