দক্ষিণ এশিয়ার দুই দেশ পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের তালেবানের মধ্যে বিমান হামলা এবং স্থল লড়াইয়ে ডজনখানেক মানুষ নিহত হয়। খণ্ডকালীন এ সংঘাতের পর সামরিক শক্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০২১ সালে তালেবান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশ দুটির মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়।
গত বুধবার শুরু হওয়া ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে এই সংকট সমাধানের চেষ্টা করছে উভয় দেশ। লন্ডনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ-এর গবেষণা অনুযায়ী আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী এবং তাদের অস্ত্রাগারের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
লন্ডনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ-এর তথ্য অনুযায়ী, সামরিক শক্তি ও সরঞ্জামের দিক থেকে পাকিস্তান তালেবান-শাসিত আফগানিস্তানের তুলনায় অনেক এগিয়ে।
সামরিক জনবলের দিক থেকে পাকিস্তানের অবস্থান অনেক শক্তিশালী। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীতে ৬ লাখ ৬০ হাজার সক্রিয় সদস্য রয়েছে। এর মধ্যে স্থলসেনা ৫ লাখ ৬০ হাজার, বিমান বাহিনীতে ৭০ হাজার এবং নৌবাহিনীতে ৩০ হাজার। অন্যদিকে তালেবানের সক্রিয় সদস্য সংখ্যা ১ লাখ ৭২ হাজার।
আধুনিক ও উন্নত সামরিক সরঞ্জামের ক্ষেত্রে পাকিস্তান বহির্বিশ্ব থেকে সুবিধা ভোগ করে। চীনের মতো প্রধান প্রতিরক্ষা অংশীদারের কাছ থেকে সরঞ্জাম পাওয়ায় পাকিস্তান সেনাবাহিনী সুসংগঠিত। পাকিস্তানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে বিনিয়োগ এবং বিমান ও নৌবাহিনীকেও আধুনিক করছে চীনা সরকার।
অন্যদিকে, তালেবানের সামরিক সক্ষমতা কমেছে। ২০২১ সালে তারা ক্ষমতা দখলের সময় বিদেশি সরঞ্জামগুলো দখল করলেও তা ব্যবহারের পর্যাপ্ত ও দক্ষ জনবল নেই। আফগানিস্তান আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি না পাওয়ায় দেশটির সামরিক আধুনিকীকরণও ব্যাহত হচ্ছে।
ভারী সামরিক সরঞ্জামের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের পাল্লা ভারী। পাকিস্তানের কাছে ৬,০০০-এর বেশি সাঁজোয়া যান এবং ৪,৬০০-এর বেশি কামান রয়েছে। আফগানিস্তানের রয়েছে সোভিয়েত আমলের ট্যাংক, সাঁজোয়া যান ও অটোনোমাস আন্ডারওয়াটার ভেহিকল (এইউভি) রয়েছে। তবে এর সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি।
বিমান বাহিনীর সক্ষমতায় দুই দেশের মধ্যে অনেক দুরত্ব রয়েছে। পাকিস্তানের বিমান বাহিনীতে ৪৬৫টি যুদ্ধবিমান এবং পরিবহন হেলিকপ্টারসহ ২৬০টিরও বেশি হেলিকপ্টার রয়েছে। অন্যদিকে, আফগানিস্তানের কোনো যুদ্ধবিমান নেই। আফগানিস্তানের ছয়টি সোভিয়েত আমলের বিমান এবং ২৩টি হেলিকপ্টার আছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হিসেবে পাকিস্তানের ১৭০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে। আর আফগানিস্তানের কোনো পারমাণবিক অস্ত্রই নেই।
দুই দেশের চলমান সংঘাতে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান উভয় দেশেরই ড্রোন সক্ষমতা রয়েছে। তবে পাকিস্তান প্রযুক্তিগত দিক থেকে আফগানিস্তানের থেকে অনেক এগিয়ে।