ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখের রাজধানী লেহে তরুণদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এই বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিচ্ছে স্বাধীন সংগঠন ‘লেহ অ্যাপেক্স বডি’। তারা কয়েক দিন আগে সতর্ক করেছিল, জনগণের ধৈর্যের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। বিক্ষোভকারীদের মূল দাবি লাদাখের আদিবাসী চরিত্র ও স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করা। গতকাল বুধবার লাদাখের সহিংসতায় চারজনের মৃত্যু হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯ সালে জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যকে দ্বিখণ্ডিত করার পরে লাদাখকে পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল।
নরেন্দ্র মোদির সরকারের এই পদক্ষেপের পরে, ২০২৪ সালে লাদাখের মানুষ রাস্তায় নামেন চার দফা দাবি নিয়ে:
১. লাদাখকে রাজ্য ঘোষণা করা, কারণ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মর্যাদা তাদের স্বশাসন এবং সুরক্ষার দাবি পূরণ করেনি।
২. লাদাখের আদিবাসী মর্যাদা রক্ষা করার জন্য অন্তর্ভুক্তি, ভারতীয় সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলে এর অন্তর্ভুক্তি
৩. বেকারত্ব দূর করার জন্য লাদাখের জন্য একটি পৃথক পাবলিক সার্ভিস কমিশন গঠন
৪. কেন্দ্রে লাদাখের কণ্ঠস্বর জোরাল করার জন্য লাদাখে দুটি সংসদীয় আসন গঠন করা। বর্তমানে লাদাখে একটি সংসদীয় আসন রয়েছে।
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুধু শেষ দু’টি দাবি নিয়ে আলোচনা করতে সম্মত হয়েছে। তাদের বক্তব্য, লাদাখ ইতিমধ্যেই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মর্যাদা পেয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের অংশ থাকাকালীন এটাই তাদের দাবি ছিল।
ভারতে কি জেন-জি আন্দোলন শুরু হলো?
জার্মানির সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, লাদাখে তরুণদের এই আন্দোলনকে জেন জি-র আন্দোলন বলা যেতে পারে। অনশনরত দুই জনের শরীর খারাপ হওয়ার পর তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হলে জেন জি’দের একাংশ ক্ষুব্ধ হন। তারাই মূলত রাস্তায় নামেন। বিকেল চারটের পর থেকে পরিস্থিতি শান্ত হয়। যদিও কারফিউ বহাল রাখা হয়েছে। সিআরপিএফের গুলি চালানো নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, এটা ছিল তরুণদের আন্দোলন।
স্থানীয় বিজেপি নেতারা অবশ্য দাবি করেছেন, এটা জেন জি-র আন্দোলন নয়, এই সহিংস আন্দোলনের পেছনে আসলে কংগ্রেসের মদত আছে। তারাই অস্থিরতা তৈরি করছে।
কেন ষষ্ঠ তফসিলের অন্তর্ভুক্ত হতে চায় লাদাখ?
আসাম, মেঘালয়, মিজোরাম এবং ত্রিপুরার মতো আদিবাসী অধ্যুষিত রাজ্যগুলো ষষ্ঠ তফসিলের আওতাধীন হওয়ায় বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসন পায়।
স্বায়ত্তশাসিত জেলা পরিষদ জমির ব্যবহার, উত্তরাধিকার আইন এবং সামাজিক রীতিনীতি পরিচালনা করে। স্বায়ত্তশাসিত জেলা পরিষদের হাতে আইনসভা, কার্যনির্বাহী এবং আর্থিক ক্ষমতা, কর সংগ্রহ এবং স্থানীয় সম্পদ পরিচালনা করার মতো ক্ষমতা থাকে।
রাজ্যের আইনের বাইরেও আইন তৈরি করার ক্ষমতাও রয়েছে স্বায়ত্তশাসিত জেলা পরিষদের। যদিও এই ক্ষেত্রে রাজ্যপালের অনুমোদন লাগে।
বর্তমানে, লাদাখ স্বায়ত্তশাসিত পাহাড় উন্নয়ন পরিষদের জেলা-স্তরে পরিকল্পনা ও উন্নয়নের জন্য কার্যনির্বাহী ক্ষমতা রয়েছে। আরও বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসন চেয়ে ষষ্ঠ তফসিলের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার দাবি জানিয়েছে লাদাখ।
বেকারত্বই প্রধান সমস্যা
তরুণদেরও ক্ষোভের মূল কারণ বেকারত্ব এবং সরকারি কাজে নিয়োগের ক্ষেত্রে ধীর গতি। তার জন্যই তারা পৃথক সার্ভিস কমিশনের দাবি করছে।
সাম্প্রতিক এক সরকারি সমীক্ষা অনুযায়ী লাদাখে স্নাতক পাশ করেছে এমন তরুণদের ২৬ দশমিক ৫ শতাংশই কর্মহীন। দেশের ক্ষেত্রে এই হার ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ।
সরকারি তথ্য অনুসারে, দেশের সব রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির মধ্যে বেকারত্বের হার সবথেকে বেশি আন্দামান ও নিকোবরে, ৩৩ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানেই রয়েছে লাদাখ।