রাজধানীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে ভিডিও তথ্যচিত্র প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের আশ্বাসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
আজ বুধবার দুপুরে শেরেবাংলা নগরের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলন নিয়ে একটি তথ্যচিত্র দেখানো হয়। প্রদর্শনী শেষ হওয়ার পর দর্শক সারিতে থাকা গণঅভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তি ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের একাংশ ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে প্রতিবাদ জানান।
প্রতিবাদকারীদের অভিযোগ, তথ্যচিত্রে আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটনা উপেক্ষিত হয়েছে এবং এতে অসংগতি রয়েছে। বিশেষ করে ৩ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ অনুপস্থিত থাকায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মঞ্চ থেকে বারবার আহ্বান জানানো হয়। একপর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন উপস্থিতদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা এখানে নিজেকে জাহির করতে আসছেন।” এ মন্তব্যের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রথমে মঞ্চে আসেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। তিনি উপস্থিতদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য দেন। তবে তার আহ্বানের পরও উত্তেজনা কমেনি এবং প্রতিবাদ অব্যাহত থাকে। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন মঞ্চে এসে উপস্থিতদের শান্ত করার চেষ্টা করেন।
আখতার হোসেন বলেন, “তথ্যচিত্রে অনেক অসংগতি রয়েছে। আমরা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে এসবের জবাবদিহি নিশ্চিত করব। শহীদ পরিবারের সম্মানে আপনারা শান্ত থাকুন।”
এরপর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “তথ্যচিত্রের অসংগতিগুলো খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হবে। এতে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি দুঃখিত।” মন্ত্রীর আশ্বাসের পর পরিস্থিতি শান্ত হলে অনুষ্ঠান পুনরায় শুরু হয়।
পরে রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ তার বক্তব্যে বলেন, “যা দেখলাম এটি অভিপ্রেত ছিল না। জাতীয় অনুষ্ঠানে আমরা তো জাতীয় ঐক্যের কোন বহিঃপ্রকাশ দেখাতে পারলাম না। ভুল তো মানুষ করেই। নিশ্চয়ই এখানে ডকুমেন্টারিতে অনেক ভুল আছে। প্রথম ভুল আমি যেখানে দেখেছি সেখানে তো আবু সাঈদের ছবিই নাই। আবু সাঈদ এই বিপ্লবের প্রতিচ্ছবি।”
রাষ্ট্রপতি বলেন, “প্রতীক তার ছবি না থাকলে এটা কোন ডকুমেন্টারি হলো না। সেখানে আরও নাই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছবিও তো নাই এ ধরনের একটা জাতীয় অনুষ্ঠানে। এটাকে পুষে সংসদের মত একটা ওয়াকআউট এটি বাঞ্ছনীয় নয়।” এদিকে, এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব মাহিন সরকার ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, তথ্যচিত্রের প্রতিবাদ করায় তার ওপর হামলা হয়েছে। তিনি পোস্টে তথ্যচিত্রের বিষয়বস্তুরও সমালোচনা করেন।
ফেসবুক পোস্টে মাহিন লেখেন, ‘‘আজকে প্রধানমন্ত্রীর কুকুর বাহিনী আমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে, কারণ আমি আজকের জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত ডকুমেন্টারির প্রতিবাদ করেছি। রাষ্ট্রপতির সামনে আমাকে হামলা করা হয়েছে এবং আমি এটি নিয়ে গর্বিত। ওই ডকুমেন্টারিতে একদফার ঘোষক বানানো হয়েছে তারেক রহমানকে। যে নাহিদ ইসলাম নিজের মৃত্যুপরওনায় সাইন করে এক দফার ঘোষণা দিলেন তিনি বিএনপির ইতিহাসে নেই, যেই Asif Mahmud মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও লং মার্চ টু ঢাকা ঘোষণা করলেন তিনি ইতিহাসে নেই। জুলাইয়ের পরে বেঁচে থাকাটাই আমাদের অপরাধ। গণঅভ্যুত্থানে আমার নেতা নাহিদ ইসলাম আর আসিফ মাহমুদ, তাদের পদসেবা করা আমার পরম সৌভাগ্য। যেখানে তারা নেই সেখানে আমিও নেই। বিএনপির মুখে থুথু মারি।’’