Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১২ অক্টোবর, ২০২৬
১২ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১২ অক্টোবর, ২০২৬
১২ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> এক্সপ্লেইনার

সমুদ্রের এক এলাকাতেই ডুবেছে ১২৪ জাহাজ, কারণ কী

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৩: ৪৩
সমুদ্রের এক এলাকাতেই ডুবেছে ১২৪ জাহাজ, কারণ কী

হরমুজ প্রণালি দীর্ঘদিন ধরেই নৌবাণিজ্য ও সংঘাতের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। একইভাবে ইউরোপের দক্ষিণ প্রান্ত ও আফ্রিকার উত্তর-পশ্চিম প্রান্তের মাঝে অবস্থিত জিব্রাল্টার প্রণালিও ইতিহাসজুড়ে কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে এসেছে।

Advertisement

ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ মিলেছে প্রণালীর পূর্বদিকে অবস্থিত আলজেসিরাস উপসাগর বা জিব্রাল্টার উপসাগরে। আটলান্টিক মহাসাগর থেকে ভূমধ্যসাগরে (বা উল্টো পথে) যাওয়া বড় বড় তেলবাহী জাহাজগুলো প্রায়ই এখানে নোঙর করে। তাই এই উপসাগর শুধু ভৌগোলিকভাবে নয়, বাণিজ্যিক দিক থেকেও খুব গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

স্পেনের প্রত্নতত্ত্ববিদরা ২০২০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে পরিচালিত এক জরিপে এই ২৯ বর্গমাইল আয়তনের উপসাগরের নিচে ১৫১টি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের সন্ধান পেয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ১২৪টি জাহাজডুবির নিদর্শন।

গবেষণা অনুযায়ী, এসব জাহাজডুবি বিভিন্ন সময়কাল ও সভ্যতার সাক্ষ্য বহন করে। এরমধ্যে প্রাচীন পিউনিক (কার্থাজিনীয়), রোমান, মধ্যযুগীয় এবং আধুনিক যুগেরও নিদর্শন রয়েছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
গবেষকদের মতে, ইউরোপ ও আফ্রিকার মধ্যবর্তী জিব্রাল্টার প্রণালিটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংকীর্ণ নৌপথ, যা হরমুজের মতোই কৌশলগতভাবে অপরিহার্য। ভূমধ্যসাগর থেকে আটলান্টিক মহাসাগরে যেতে হলে সব জাহাজকেই এই প্রণালী অতিক্রম করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে খারাপ আবহাওয়া এড়াতে জাহাজগুলোকে আলজেসিরাস উপসাগরে নোঙর করে অপেক্ষা করতে হয়।

গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার উপসাগরটির আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সামুদ্রিক কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। প্রাচীনকাল থেকেই এখানে নগর বসতি ছিল। মধ্যযুগে আইবেরীয় উপদ্বীপে প্রবেশের অন্যতম পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে এই উপসাগর। আধুনিক যুগে আবার প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নৌ-সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দু ছিল এটি।

দীর্ঘদিন ধরে চাপা পড়ে থাকা বহু জাহাজডুবির নিদর্শন ধীরে ধীরে উন্মোচিত হচ্ছে। ছবি: ফেলিপে সেরেজো আন্দ্রেও
দীর্ঘদিন ধরে চাপা পড়ে থাকা বহু জাহাজডুবির নিদর্শন ধীরে ধীরে উন্মোচিত হচ্ছে। ছবি: ফেলিপে সেরেজো আন্দ্রেও

স্পেনের ইউনিভার্সিটি অফ কাডিজের পানির নিচের প্রত্নতত্ত্বের গবেষক ফেলিপে সেরেজো আন্দ্রেও জানিয়েছেন, যদিও অধিকাংশ জাহাজডুবি আধুনিক সময়ের, তবে গবেষকরা কিছু অজানা ও গুরুত্বপূর্ণ জাহাজডুবির সন্ধানও পেয়েছেন।

হরমুজের পরে কি মালাক্কা প্রণালিতেও টোল দিতে হবে?malacca strait

গবেষকরা বলছেন, ঐতিহাসিক ও সংরক্ষণাগারের নথিতে হাজারো নৌদুর্ঘটনার উল্লেখ থাকলেও পানির নিচে থাকা এসব নিদর্শনের ওপর পর্যাপ্ত প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা না হওয়ায় অনেক জাহাজডুবির সন্ধান এখনো অজানাই রয়ে গেছে।

আন্দ্রেও সিএনএনকে জানান, সবচেয়ে প্রাচীন যে ধ্বংসস্তূপের নিদর্শনটি পাওয়া গেছে তা খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীর একটি জাহাজডুবির ঘটনার। তিনি আরও জানান, জাহাজটি সম্ভবত স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কাদিজে উৎপাদিত মাছের সস বহন করছিল এবং তা ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে পরিবহন করা হচ্ছিল।

আধুনিক সময়ের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে নেপোলিয়নের যুদ্ধের সময়ের জাহাজডুবির ঘটনা। উনিশ শতকের শুরুর দিকে ফ্রান্স ও ইউরোপের বিভিন্ন জোটের মধ্যে সংঘটিত এসব যুদ্ধের সঙ্গে এসব নিদর্শনের সম্পর্ক রয়েছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

এছাড়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরুর সময়কার জাহাজডুবিরও সন্ধান মিলেছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘মাইয়ালে’ বা ‘পিগ’ নামে পরিচিত এক ধরনের ক্ষুদ্র সাবমেরিনের ধ্বংসাবশেষ, যা ইতালির নৌবাহিনী জিব্রাল্টার প্রণালিতে ব্রিটিশ নৌবহরের ওপর হামলার জন্য ব্যবহার করত।

ছবি: ফেলিপে সেরেজো আন্দ্রেও
ছবি: ফেলিপে সেরেজো আন্দ্রেও

গবেষকদের মতে, ইউরোপ ও আফ্রিকার মধ্যবর্তী জিব্রাল্টার প্রণালিটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংকীর্ণ নৌপথ, যা হরমুজের মতোই কৌশলগতভাবে অপরিহার্য। ভূমধ্যসাগর থেকে আটলান্টিক মহাসাগরে যেতে হলে সব জাহাজকেই এই প্রণালী অতিক্রম করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে খারাপ আবহাওয়া এড়াতে জাহাজগুলোকে আলজেসিরাস উপসাগরে নোঙর করে অপেক্ষা করতে হয়। একারণে এটি প্রণালির ‘বন্দর’ হিসেবেও পরিচিত।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গবেষণা শুরুর আগে এসব জাহাজডুবির অধিকাংশের কোনো প্রত্নতাত্ত্বিক নথি ছিল না। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের আগে এই এলাকায় পানির নিচের মাত্র চারটি প্রত্নস্থানের কথা জানা ছিল, যার মধ্যে কেবল একটি জাহাজডুবির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে বিবেচিত হতো।

ইরানে মার্কিন যুদ্ধের চড়া দাম দিচ্ছে পুরো বিশ্বiran-war-suffer

গবেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রস্রোত ও উপসাগরের তলদেশে পলির গতিবিধিতে পরিবর্তন ঘটছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে চাপা পড়ে থাকা বহু জাহাজডুবির নিদর্শন ধীরে ধীরে উন্মোচিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান গবেষক আন্দ্রেও।

প্রত্নতত্ত্ববিদরা সমুদ্রতল চিহ্নিত করতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে মাল্টিবিম ইকোসাউন্ডার—যা শব্দ তরঙ্গের মাধ্যমে সমুদ্রতলের ত্রিমাত্রিক মানচিত্র তৈরি করে। এছাড়া রয়েছে ম্যাগনেটোমিটার, যা চৌম্বক ক্ষেত্র পরিমাপ করে। এসব প্রযুক্তির সাহায্যে তলদেশে থাকা বস্তু ও পলির নিচে চাপা অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করার পর ডুবুরিরা সরেজমিনে নেমে পরিমাপ ও ডিজিটাল মডেল তৈরি করেন।

গবেষকদের মতে, এসব প্রত্নস্থল সংরক্ষণ ও বিশদভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি, কারণ এগুলোতে ওই অঞ্চলের সামুদ্রিক ইতিহাস সংরক্ষিত রয়েছে। এরমধ্যে নৌপথ, বাণিজ্য, নৌপ্রযুক্তি এবং সমুদ্রযাত্রীদের তথ্য উল্লেখযোগ্য। তবে উপসাগরে নোঙর করা বড় জাহাজের কার্যক্রম এবং পরিবর্তনশীল ভৌগোলিক অবস্থার কারণে এসব নিদর্শন ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

আন্দ্রেও বলেন, “এসব নিদর্শন সংরক্ষণের জন্য সেগুলো নথিভুক্ত করা এবং প্রযুক্তিগতভাবে ডিজিটাল রূপে সংরক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি জানান, এখন পর্যন্ত গবেষকরা প্রায় ১০ মিটার গভীরতা পর্যন্ত অনুসন্ধান চালিয়েছেন। তবে আলজেসিরাস উপসাগরের গভীরতা প্রায় ৪০০ মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। আরও গভীরে প্রাগৈতিহাসিক যুগের নিদর্শনও থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন এই গবেষক।

গবেষকরা সিএনএনকে জানিয়েছেন, ভবিষ্যৎ প্রকল্পগুলোতে প্রতিটি জাহাজডুবির বিস্তারিত বিশ্লেষণ করা হবে। এখন পর্যন্ত শনাক্ত প্রত্নস্থলগুলোর মাত্র ২৪ শতাংশ নিয়ে কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি আরও গভীর এলাকায় অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

বিষয়: তেলবাহী জাহাজজাহাজডুবিজাহাজহরমুজ প্রণালিনৌপথবন্দর
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    রাজশাহীতে জমি নিয়ে বিরোধে মারামারি, নিহত ১

  • ২

    রিয়াদে নিহত দুই বাংলাদেশির পরিচয় জানাল সরকার

  • ৩

    স্থানীয় নির্বাচনে একক প্রার্থী চায় বিএনপি, হস্তক্ষেপ না করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

  • ৪

    মসজিদের সামনে ছাত্রলীগ সন্দেহে মারধর, কয়েকজন আহত

  • ৫

    ‘একজন মুক্তিযোদ্ধা বেঁচে থাকতে তোদের আধিপত্য এইখানে চলবে না’

সম্পর্কিত
  • ২১০০ সালের মধ্যে বিলুপ্ত হতে পারে মানবজাতি, কীভাবে ?

    ২১০০ সালের মধ্যে বিলুপ্ত হতে পারে মানবজাতি, কীভাবে ?

    পারমাণবিক যুদ্ধ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহারের কারণে ২১০০ সালের মধ্যে মানবজাতি বিলুপ্ত হতে পারে বলে সতর্ক বার্তা দিয়েছে আন্তর্জাতিক চিকিৎসাবিজ্ঞান সাময়িকী ‘দ্য ল্যানসেট’। সংস্থাটির নতুন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। যদিও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে এই সম্ভাবনার হার তুলনামূলকভাবে কম।

  • কীভাবে ‘অপহরণ’ করা হয় ধ্রুব রাঠিকে

    কীভাবে ‘অপহরণ’ করা হয় ধ্রুব রাঠিকে

    ভারতের জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি আজ রোববার অভিযোগ করেছেন যে, গতকাল শনিবার পুলিশ তাকে দিল্লির বাড়ি থেকে জোর করে নিয়ে যায় এবং প্রায় এক দিন আটক করে রাখে। এ সময় তাকে কোনো আইনজীবী বা নিজের ফোন ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়নি। তিনি এই ঘটনাকে ‘অপহরণ’ বলে অভিহিত করেন এবং দাবি করেন যে, এটি পুলিশের কোনো বৈধ

  • ‘নিষিদ্ধ’ রাশিয়ার তেলই কিনবে যুক্তরাষ্ট্র, কেন ও কীভাবে? লাভ হবে এই চুক্তিতে?

    ‘নিষিদ্ধ’ রাশিয়ার তেলই কিনবে যুক্তরাষ্ট্র, কেন ও কীভাবে? লাভ হবে এই চুক্তিতে?

    যে রাশিয়ার ওপর বছরের পর বছর ধরে নানান নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে, গত মাসেই রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা দেশগুলোর ওপরই যেখানে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে, সেই রাশিয়ার কাছ থেকেই এবার ডিজেল সরবরাহের চুক্তি করেছে যুক্তরাষ্ট্র!

  • নতুন গঙ্গা চুক্তিতে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’-এ গুরুত্ব ঢাকার, কেন?

    নতুন গঙ্গা চুক্তিতে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’-এ গুরুত্ব ঢাকার, কেন?

    বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। তবে দুই দেশের মধ্যে পানি বণ্টন নিয়ে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি রয়েছে কেবল গঙ্গা নদীকে ঘিরে। আগামী ১২ ডিসেম্বর গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। নতুন বা সংশোধিত চুক্তিতে শুষ্ক মৌসুমে পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে গ্যারান্টি ধারা অন্তর্ভুক্ত করাকে