
ক্ষমতার ২৫ বছরে কীভাবে এই বাচ্চাদের থামাবেন মোদি?
সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী ও অধিকারকর্মী প্রশান্ত ভূষণ আল জাজিরাকে বলেন, “মোদি সরকারকে জনগণের কাছে বেশ ভীত বলে মনে হচ্ছে।”
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শত শত যুদ্ধবিমান নিয়ে একযোগে ইরানে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। পরবর্তী ৪০ দিন পর্যন্ত নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে তারা হামলা অব্যাহত রাখে। এ সময়ে তাদের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা ছিল ঘনিষ্ঠ ও নিবিড়।
তবে সম্প্রতি এই সম্পর্কে পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো ও সংঘাত অবসানে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সই করলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়।
ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টের এক বিশ্লেষণে ইসরায়েলের পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে।
ইরানের সঙ্গে আলোচনায় ইসরায়েলকে কার্যত বাইরে রাখা হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চুক্তিতে ইসরায়েলের উদ্বেগের বিষয়গুলো খুব কমই স্থান পেয়েছে, এমনকি দেশটি চুক্তির কোনো কপিও পায়নি।
জেরুজালেমে দায়িত্ব পালনরত ইসরায়েলের এক কূটনীতিকের মতে, এ ঘটনা ইসরায়েলের জন্য ‘চরম ব্যর্থতা’। সেই সঙ্গে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জন্যও একে ব্যক্তিগত ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দ্য ইকোনমিস্টের ভাষ্য, নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্পকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন যে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিতে মৌলিক পরিবর্তন আনতে পারে। এমনকি ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির শাসনব্যবস্থার পতনের পথও তৈরি করতে পারে।
গত ১৫ জুন ইসরায়েলি গণমাধ্যমের সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ সফল হয়েছে এবং তারা ইসরায়েলকে পারমাণবিক ধ্বংসের হুমকি থেকে রক্ষা করেছেন। তবে ট্রাম্পের সঙ্গে ইরানের চুক্তির বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।
দ্য ইকোনমিস্ট বলছে, নেতানিয়াহু এই যুদ্ধে সফলতার দাবি করলেও এবং ইরানের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হলেও দেশটির শাসনব্যবস্থা এখনো টিকে আছে। কট্টরপন্থীরা আরও শক্তিশালী হয়েছে।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্টের যে চুক্তি সইয়ের আলোচনা চলছে তাতে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সমাধান নেই। এটি ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ। বিষয়টি নিয়ে আগামী ৬০ দিন আলোচনা চলবে। তবে এসব আলোচনা চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছাবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। আলোচনার সময়সীমা আরও বাড়তেও পারে বলেও মনে করছেন অনেক বিশেষজ্ঞরা।
এ ছাড়া ইরানের কাছে এখনো এমন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে যা ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ এবং আরও দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া চুক্তিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির বিষয়টিও থাকার সম্ভাবনা নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের আরেকটি বড় উদ্বেগ হলো, ইরানের আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলো। এর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী লেবাননের হিজবুল্লাহ। চুক্তির ফলে গোষ্ঠীটি ইসরায়েলি হামলা থেকে কিছুটা সুরক্ষা পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসার কয়েক ঘণ্টা আগে হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলার জবাবে বৈরুতে হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে আলোচনা ভেস্তে যেতে পারে বলে আশঙ্কা ছিল। তবে এমন কিছুই হয়নি। বরং এটি ট্রাম্পকে আরও দ্রুত চুক্তি সম্পন্ন করতে উৎসাহিত করেছে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেছেন, দক্ষিণ লেবাননে তাদের দখল করা এলাকাগুলোতে সেনা মোতায়েন অব্যাহত থাকবে। তবে ইরান চাইছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির অংশ হিসেবে ইসরায়েল সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার করুক।
দ্য ইকোনমিস্টের ভাষ্য, এ বিষয়ে ইসরায়েল আর যুক্তরাষ্ট্রের নিঃশর্ত সমর্থনের ওপর ভরসা করতে পারছে না। ট্রাম্প একাধিক সাক্ষাৎকারে বৈরুতে হামলার জন্য নেতানিয়াহুর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ইসরায়েলের উচিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা।
যুদ্ধ চলাকালেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল যে, দুই দেশের লক্ষ্য এক নয়। বিশেষ করে ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় ইসরায়েলের হামলা ট্রাম্পকে ক্ষুব্ধ করেছিল। ইসরায়েল ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল বা অপসারণ করতে চাইলেও ট্রাম্প সেই একই সরকারের সঙ্গে সমঝোতায় বেশি আগ্রহী ছিলেন।
ওয়াশিংটনে দায়িত্ব পালন করা এক সাবেক ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেন, আগে দুই দেশের কর্মকর্তারা বিভিন্ন স্তরে খোলামেলা আলোচনা করতেন। এখন সম্পর্কটি অনেকটাই নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
যুদ্ধ শুরুর দিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা মহলের কিছু কর্মকর্তা সতর্ক করেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্য পুরোপুরি এক নয়। তারা ইসরায়েলকে বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণের পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রাথমিক সামরিক সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে তারা যুদ্ধ চালিয়ে যায়। পরে ট্রাম্প যুদ্ধ থামানোর সিদ্ধান্ত নেন এবং সেই মুহূর্ত থেকে ইসরায়েল অনেকটা একা হয়ে পড়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে মোকাবিলা করা নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের প্রধান রাজনৈতিক লক্ষ্য। তিনি দুই দফায় এ উদ্দেশ্যে ইসরায়েলকে যুদ্ধে জড়িয়েছেন। এসব অভিযানে ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ক্ষতি হলেও তা স্থায়ী হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ইসরায়েল তার মূল কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং ইরানবিরোধী অবস্থানে থাকা কয়েকটি আরব দেশের সঙ্গে সম্পর্কও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই পরিস্থিতি আগামী অক্টোবরে নেতানিয়াহুর পুনর্নির্বাচনকেও প্রভাবিত করতে পারে। ইরান ইস্যুতে দৃশ্যমান সাফল্য না থাকলে নিজেকে দেশের নিরাপত্তার প্রধান রক্ষক হিসেবে তুলে ধরা তার জন্য কঠিন হবে। আবার ট্রাম্পের সঙ্গে প্রকাশ্য বিরোধেও জড়াতে পারবেন না, কারণ ইসরায়েলে ট্রাম্প এখনো জনপ্রিয়।
তবে নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছেও ইরান বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বিকল্প কৌশল নেই। যুদ্ধ শুরুর সময় প্রধান বিরোধী দলগুলোর নেতারাও সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে ছিলেন। ফলে তাদের সমালোচনা যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়ে নয়, বরং কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে।
এক সামরিক পরিকল্পনাবিদ বলেন, “ইরান নিয়ে আমাদের নতুন নীতি খুবই প্রয়োজন।” তবে আপাতত ইসরায়েলের সামনে এমন কোনো নতুন নীতির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

ক্ষমতার ২৫ বছরে কীভাবে এই বাচ্চাদের থামাবেন মোদি?
সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী ও অধিকারকর্মী প্রশান্ত ভূষণ আল জাজিরাকে বলেন, “মোদি সরকারকে জনগণের কাছে বেশ ভীত বলে মনে হচ্ছে।”

ব্রাজিলের নির্বাচন ও লাতিন আমেরিকায় মার্কিন আধিপত্য
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তারের কৌশল, রাজনৈতিক মেরুকরণ, ডিজিটাল প্রচারণা এবং আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে

মোদির সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ
বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর প্রায় প্রতিদিনের বিক্ষোভ মোদির সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এর মাত্র কয়েক মাস আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় একই ধরনের বিক্ষোভের মুখে তার শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল।

নড়বড়ে মুশফিকুরকে কেন খেলাচ্ছে বাংলাদেশ?
আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের একমাত্র টেস্টের স্কোয়াড যখন ঘোষিত হয়, তখন থেকেই আলোচনা ছিল মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বাইরের এরকম একটা অগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কেন মুশফিকুরকে দলে রাখা হলো, সেটা প্রশ্নের উদ্রেক করেছিল। কেননা মুশফিকুরের স্কোয়াডে থাকা মানেই একাদশে থাকাটাও ন