Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১৩ অক্টোবর, ২০২৬
১৩ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১৩ অক্টোবর, ২০২৬
১৩ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> বিশ্লেষণ

এবারের গণভোটও কি বিতর্কিত হতে যাচ্ছে, ইতিহাস কী বলে

চরচা প্রতিবেদক

চরচা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ২১: ২০
এবারের গণভোটও কি বিতর্কিত হতে যাচ্ছে, ইতিহাস কী বলে

দেশের ইতিহাসে চতুর্থ গণভোটটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই।

Advertisement

জুলাই সনদের আলোকে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, নির্বাচন কমিশনসহ অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান গঠন, ভবিষ্যতে দুই কক্ষবিশিষ্ট সংসদ চালুর প্রশ্ন এবং জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত ৩০ দফা সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে জনগণের সম্মতি আদায়ের জন্যই হবে এই গণভোট।

যদি ‘হ্যাঁ’ জয় পায়, তাহলে সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। তবে গণভোটের আগেই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরকারের প্রচার বিতর্ক উঠেছে আগেই। সরকার যেখানে এই গণভোটের আয়োজক, তাই গণভোটে যেকোনো একটি পক্ষ নেওয়াটা সরকারের উচিত হচ্ছে কি না, বিতর্ক সেটি নিয়েই।

সরকার অবশ্য বলছে, যেহেতু অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কার করার লক্ষ্যেই গঠিত, তাই তারা সংস্কার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রচার চালাতেই পারে। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, গণভোটে সরকারের পক্ষ নেওয়া এর বিশ্বাসযোগ্যতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

অতীতে দেশে আরও তিনটি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারের গণভোটটি হচ্ছে সর্বশেষ গণভোটের ৩৫ বছর পর। ১৯৯১ সালের সেপ্টেম্বরের গণভোট ছিল সরকার পদ্ধতি প্রশ্নে। ১৯৭৭ সালে প্রথম গণভোট ছিল লে. জেনারেল জিয়াউর রহমানের শাসনের পক্ষে জনগণের সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে। আর ১৯৮৫ সালে লে. জেনারেল এইচ এম এরশাদের শাসনামলের গণভোটটি ছিল জিয়ার সময়কার গণভোটের মতোই। তার শাসনের পক্ষে জনগণের সমর্থন আদায়ের জন্য।

অতীতের ইতিহাস থেকে দেখা যায়, প্রতিটি গণভোটেই সরকার ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছিল। ১৯৭৭ ও ১৯৮৫ সালের প্রথম দুই গণভোটে তো রীতিমতো জিয়াউর রহমান ও এরশাদের ছবি দিয়ে পোস্টার ছাপিয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালানো হয়েছিল।

গণভোট নিয়ে ভজঘটgono-vote-yes-campaign-from-ca

১৯৯১ সালে সরকার পদ্ধতি প্রশ্নে সর্বশেষ গণভোটটিতেও সরকার চেয়েছিল ‘হ্যাঁ’ যেন জয়যুক্ত হয়! ১৯৯০ সালে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের পর সংসদীয় পদ্ধতির সরকার নিয়েই আলোচনা ছিল, ওই সময় সরকার সরাসরি ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার না চালালেও আলাপ-আলোচনায় ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষেই সরকারের পক্ষপাত প্রকাশ পেত।

সরকারের মনোভাব ও ভূমিকাতে নিরপেক্ষতার ঘাটতি থাকার কারণেই অতীতের গণভোটগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ১৯৭৭ সালে দেশের ইতিহাসের প্রথম গণভোটে ভোট প্রদানের হার ছিল ৮৮ দশমিক ১ শতাংশ। ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে রায় ছিল ৯৮ দশমিক ৯ ভাগ।

গণভোট
গণভোট

১৯৮৫ সালে দ্বিতীয় গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় ছিল ৯৪ দশমিক ৫ ভাগ ভোটারের। ভোট প্রদানের হার ছিল ৭২ দশমিক ২ ভাগ। এই অঙ্কগুলোই প্রশ্ন ওঠার জন্য যথেষ্ট ছিল।

এমনকি ১৯৯১ সালে সরকার পদ্ধতি প্রশ্নে গণভোট নিয়েও প্রশ্ন আছে। সেই গণভোটে ভোটার উপস্থিতি ছিল খুবই কম। মাত্র ৩৫ দশমিক ২ ভাগ ভোটার গণভোটে নিজেদের মতামত দিয়েছিলেন। তার মধ্যে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট পড়েছিল ৮৪ দশমিক ৩৮ ভাগ।

এবারের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরকারি প্রচার নিয়ে দাবি করা হয়েছে, এ প্রচারণায় আইনি কোনো বাধা নেই।

কিন্তু একদিন আগেই নির্বাচন কমিশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, সরকারি কর্মচারীরা গণভোটে কোনো কিছুর পক্ষে প্রচার চালাতে পারবে না। নির্বাচন সংক্রান্ত আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ এবং গণভোট অধ্যাদেশ দেখিয়ে নির্বাচন কমিশন বলেছে, গণভোটে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের কোনো পক্ষ নিয়ে প্রচার চালানো দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে সরকারপ্রধান বা উপদেষ্টারা প্রচার চালালে কী হবে তা নিয়ে নির্বাচন কমিশন এখনো কিছু বলেনি।

বিশ্লেষকেরা আগেই বলেছিলেন, সরকারের প্রচারে আইনি জটিলতা না থাকলেও অতীতের প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের মতো এই নির্বাচনও ভবিষ্যতে আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে।

সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত এই গণভোটে মূলত চারটি প্রশ্নে ভোটারদের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে-জুলাই সনদের আলোকে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, নির্বাচন কমিশনসহ অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান গঠন, ভবিষ্যতে দুই কক্ষবিশিষ্ট সংসদ চালুর প্রশ্ন এবং জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত ৩০ দফা সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন।

সরকারের প্রচারণায় উল্লেখ করা হচ্ছে, ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না, দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীকে রাষ্ট্রপতি ইচ্ছেমতো ক্ষমা করতে পারবেন না, এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও পিএসসি গঠনে সরকারি ও বিরোধী দল একসঙ্গে ভূমিকা রাখবে। এর সপক্ষে এখন চলছে জোর প্রচার।

রাজনৈতিক দলগুলো অবশ্য গণভোট প্রশ্নে বিভক্ত। সংস্কার সবাই চায়, তবে বিএনপি ‘হ্যাঁ’ কিংবা ‘না’ ভোটের বিষয়টি জনগণের হাতে ছেড়ে দেওয়ারই পক্ষপাতী। জামায়াতে ইসলামী অবশ্য সক্রিয়ভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছে। সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থীরা নিজেদের নির্বাচনী প্রচারণার সঙ্গে সঙ্গে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারও চালাচ্ছে।

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিক চরচাকে বলেন, “প্রত্যাশা হলো একটি নির্বাচনের ব্যাপারে অন্তর্বর্তী সরকার নিরপেক্ষ থাকবে। তার মানে দলের ব্যাপারেও নিরপেক্ষ থাকবে। ইস্যুর ব্যাপারেও নিরপেক্ষ থাকবে। সেই মাপকাঠিতে একটা ইস্যুর পক্ষে প্রচারণা চালানো হয়তো সঠিক হচ্ছে না। অন্যদিকে সরকারের যদি এটা বক্তব্য হয়, যেহেতু একটা গণভোটের প্রশ্ন এবং কী নিয়ে গণভোট হচ্ছে সেটা জনগণ যাতে সঠিকভাবে বুঝতে পারে, বুঝে তাদের সিদ্ধান্ত নিতে পারে এই জন্য জনগণকে জানানো দরকার-এভাবে যুক্তি দিলে আপত্তির জায়গা নেই।”

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ এই আইনজীবী বলেন, “উপদেষ্টাদের হ্যাঁ-এর পক্ষে প্রচার না করাই শ্রেয়। তাতে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট হয়ে যায়। সরকার হয়তো গভীরভাবে বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করে নাই। আশা করব, চিন্তা করে হ্যাঁ-এর পক্ষে প্রচার থেকে বিরত থাকবে।”

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম চরচাকে বলেন, “গণভোট সম্পর্কে আগেও বলেছি। এটা প্রয়োজনীয় না, এটা টোটাল প্রতারণামূলক, ভুয়া এবং মানুষকে মিথ্যাচারে ফোর্স করায়। এইটাকে মানুষ মোকাবিলা করবে তার নিজের বুদ্ধি বিবেচনা অনুযায়ী।”

এই সিপিবি নেতা বলেন, “সরকার অর্থ এবং শক্তি ব্যবহার করে ব্যবহার করে জোর করে ম্যানিপুলেটেড ফলাফল বের করতে চায়। আমরা মানুষকে ইনভাইট করব যে, আপনাদের কেন্দ্রে যান এবং নিজেদের মতামত দিন। ইলেকশনে যাতে কোনোভাবেই দেশের শত্রু জয় লাভ না করতে পারে সেটা নিশ্চিত করুন।

বিষয়: হুসেইন মুহম্মদ এরশাদনির্বাচনসংসদত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনজিয়াউর রহমানইতিহাসঅন্তর্বর্তী সরকার
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    দিল্লিতে ভোটার তালিকা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত বিরোধী দলের মিছিল

  • ২

    মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে রেমিট্যান্স কমার শঙ্কা, নতুন শ্রমবাজার খুঁজছে সরকার: শামা ওবায়েদ

  • ৩

    সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের সময়সীমা ও পর্যটকের সংখ্যা পর্যালোচনা করা হবে: পরিবেশমন্ত্রী

  • ৪

    মেটলাইফের বীমা সুবিধা পাবেন উল্কাসেমির কর্মীরা

  • ৫

    ৭ ইসলামী দলের ঐক্য কি আদৌ হবে?

সম্পর্কিত
  • থিয়েটার থেকে রাজপথে, ভারতের তরুণদের অসন্তোষের নতুন মুখ জেন-জি আন্দোলনকর্মী নেহা বোরা

    থিয়েটার থেকে রাজপথে, ভারতের তরুণদের অসন্তোষের নতুন মুখ জেন-জি আন্দোলনকর্মী নেহা বোরা

    চলতি মাসে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বোরা বলেন, স্নাতক পর্যায়ে পড়ার সময় তিনি একটি থিয়েটার দলে যোগ দিয়েছিলেন। সেখানে নিজের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন মানুষের জীবন ও দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে শেখেন তিনি।

  • ফিলিস্তিনের নির্বাচন কেন স্থগিত করলেন আব্বাস?

    ফিলিস্তিনের নির্বাচন কেন স্থগিত করলেন আব্বাস?

    গত ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে আব্বাস নভেম্বরে নির্বাচন আয়োজনের সময়সূচি পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন। আন্তর্জাতিকভাবে সমর্থিত সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অংশ হিসেবেই তিনি ওই অঙ্গীকার করেছিলেন। এর দুই সপ্তাহ পর আব্বাসের নির্বাচনের সময়সূচি পেছানোর সিদ্ধান্ত এলো।

  • ক্ষমতার ২৫ বছরে কীভাবে এই বাচ্চাদের থামাবেন মোদি?

    ক্ষমতার ২৫ বছরে কীভাবে এই বাচ্চাদের থামাবেন মোদি?

    সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী ও অধিকারকর্মী প্রশান্ত ভূষণ আল জাজিরাকে বলেন, “মোদি সরকারকে জনগণের কাছে বেশ ভীত বলে মনে হচ্ছে।”

  • ব্রাজিলের নির্বাচন ও লাতিন আমেরিকায় মার্কিন আধিপত্য

    ব্রাজিলের নির্বাচন ও লাতিন আমেরিকায় মার্কিন আধিপত্য

    ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তারের কৌশল, রাজনৈতিক মেরুকরণ, ডিজিটাল প্রচারণা এবং আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে