Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ অক্টোবর, ২০২৬
১০ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ অক্টোবর, ২০২৬
১০ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> বিশ্লেষণ

৪২% রাজস্ব প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য কি বাস্তব?

১৯৭২ সালের পর থেকে বাংলাদেশের রাজস্ব আহরণ ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেলেও সেই বৃদ্ধির গতি কখনোই প্রস্তাবিত ৪২ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছায়নি।

ফজলে রাব্বি

ফজলে রাব্বি

প্রকাশ : ০৮ জুন ২০২৬, ২১: ৪০
৪২% রাজস্ব প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য কি বাস্তব?

চলতি অর্থবছরে রাজস্ব ঘাটতি ইতোমধ্যে ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে মাত্র ১০.৬ শতাংশে। এমন এক বাস্তবতায় আগামী অর্থবছরের জন্য প্রায় ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। যার অর্থ এক বছরে প্রায় ৪২ শতাংশ রাজস্ব প্রবৃদ্ধি।

Advertisement

সংখ্যাটি নিঃসন্দেহে উচ্চাভিলাষী। কিন্তু প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশের রাজস্ব ইতিহাস কি এমন কোনো সাফল্যের নজির রয়েছে?

উত্তরটি সহজ। না।

গত প্রায় পাঁচ দশকে বাংলাদেশের রাজস্ব ইতিহাসে কোনো বছরেই ৪২ শতাংশ রাজস্ব প্রবৃদ্ধির নজির নেই। অর্থনীতির আকার বৃদ্ধি, কর প্রশাসনের সম্প্রসারণ এবং ভ্যাট ব্যবস্থা চালু হওয়া সত্ত্বেও রাজস্ব প্রবৃদ্ধি সাধারণত দুই অঙ্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। ফলে আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত লক্ষ্য শুধু বড় নয়, বাংলাদেশের রাজস্ব প্রশাসনের অতীত সক্ষমতার তুলনায় ব্যতিক্রমী।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

বর্তমান বাস্তবতা কী

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা। একই সময়ে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ১০.৬ শতাংশ।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ-সিপিডির হিসাব অনুযায়ী, সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে অর্থবছরের শেষ দুই মাসে এনবিআরকে ১২৮.৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে, যা বাস্তবতার বিচারে প্রায় অসম্ভব। অর্থাৎ যে প্রতিষ্ঠান চলতি বছর লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছে, আগামী বছর তার কাছ থেকেই প্রত্যাশা করা হচ্ছে ইতিহাসের সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি!

এই বছরের যে বাজেট হতে যাচ্ছে ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। তার মধ্যে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার মত রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা দিতে যাচ্ছে।

বিএনপির অতীত অভিজ্ঞতা কী বলে

বিষয়টির একটি রাজনৈতিক মাত্রাও রয়েছে। বিএনপির সর্বশেষ শাসনামল, অর্থাৎ ২০০১-২০০৬ মেয়াদে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের অধীনে রাজস্ব সংগ্রহে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা ছিল। তবে প্রবৃদ্ধি ছিল সংযত। সে সময় এনবিআরের বার্ষিক রাজস্ব প্রবৃদ্ধি সাধারণত ৬ থেকে ৮ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল এবং বাজেট প্রণয়নেও রক্ষণশীল প্রবণতা লক্ষ্য করা যেত।

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, যে রাজনৈতিক দল একসময় অপেক্ষাকৃত রক্ষণশীল রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করত, সেই দলই এখন কেন ইতিহাসের সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করছে?

স্বাধীনতার পরের ইতিহাস কী বলছে

শুধু সাম্প্রতিক সময় নয়, স্বাধীন বাংলাদেশের পুরো রাজস্ব ইতিহাসও বর্তমান লক্ষ্যমাত্রার পক্ষে খুব বেশি সমর্থন জোগায় না।

১৯৭২ সালের পর থেকে বাংলাদেশের রাজস্ব আহরণ ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেলেও সেই বৃদ্ধির গতি কখনোই প্রস্তাবিত ৪২ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছায়নি। অর্থনীতির আকার বিস্তৃত হয়েছে, কর প্রশাসন আধুনিক হয়েছে, ভ্যাট ব্যবস্থা চালু হয়েছে—তবু রাজস্ব প্রবৃদ্ধি মূলত দুই অঙ্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে।

কারণ, রাজস্ব সংগ্রহ কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর নির্ভর করে না; এটি করভিত্তির বিস্তার, কর প্রশাসনের সক্ষমতা, কর পরিপালনের সংস্কৃতি এবং অর্থনীতির আনুষ্ঠানিকীকরণের ওপরও নির্ভরশীল।

বাজেট ২০২৬-২৭: আসল সংকট কি প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার?gol table (3)

সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতাও একই চিত্র দেখায়। ২০২১-২২ অর্থবছরে কোভিড-পরবর্তী পুনরুদ্ধারের কারণে এনবিআরের রাজস্ব প্রবৃদ্ধি প্রায় ১৬ শতাংশে পৌঁছেছিল, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স। কিন্তু সেই বছরও নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি।

অর্থাৎ বাংলাদেশের রাজস্ব প্রশাসনের সবচেয়ে সফল বছরগুলোও বর্তমান প্রস্তাবিত লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারেনি।

অটোমেশন এবং কাঠামোগত সংস্কার করা গেলে কর আদায়ের সক্ষমতা অনেক বাড়ানো সম্ভব। সেক্ষেত্রে ভবিষ্যতে ২৮ লাখ কোটি টাকার মতো কর সংগ্রহের সক্ষমতাও তৈরি হতে পারে।

৪২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি কত বড় চ্যালেঞ্জ?

শতাংশের হিসাব অনেক সময় বিভ্রান্তিকর হতে পারে। টাকার অঙ্কে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়। বর্তমান অর্থবছরের সংশোধিত রাজস্ব লক্ষ্য প্রায় ৪ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা। সেখান থেকে ৪২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি মানে আগামী অর্থবছরে অতিরিক্ত প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা রাজস্ব সংগ্রহ করতে হবে।

এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বছরে সর্বোচ্চ অতিরিক্ত রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য।

বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ

প্রস্তাবিত লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে শুধু অর্থনীতিবিদরা নন, ব্যবসায়ী ও নীতি বিশ্লেষকরা বিস্ময় প্রকাশ করে প্রশ্ন করছেন কোন জাদুর কাঠির ওপর ভর দিয়ে সরকার এমন লক্ষমাত্রা নির্ধারন করতে যাচ্ছে?

নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ-এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রাকে ‘অবাস্তব’ বলে মনে করেন। চরচাকে তিনি বলেন, “এই বছরের যে বাজেট হতে যাচ্ছে ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। তার মধ্যে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার মত রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা দিতে যাচ্ছে।”

চলতি অর্থবছরের ঘাটতির প্রসঙ্গ টেনে এই ব্যবসায়ী বলেন, “চলতি অর্থবছরের কিন্তু এখনো প্রথম নয় মাসের যে টার্গেট সেই টার্গেটে এক লাখ কোটি টাকা রাজস্ব আহরণের, কিন্তু পিছিয়ে আছে। তাহলে কী করে এমনকি পরিস্থিতি তৈরি হয়ে গেল যে আগামী বছরে আরও দুই বা আড়াই লাখ কোটি টাকার অতিরিক্ত রাজস্ব আহরণ হবে। এটা আমার মনে হয় এটা অসম্ভব একটা কাজ।”

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকসের ডিন অর্থনীতিবিদ এ কে এম ওয়ারেসুল করিম রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত রাজস্ব লক্ষ্য অর্জনের সক্ষমতা নিয়ে তিনি সন্দিহান। এই অধ্যাপক বলেন, “৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব কোথা থেকে উঠবে? এনবিআর গত বছরও ৪ লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারেনি। এপ্রিল পর্যন্ত আদায় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ৭২ হাজার কোটি টাকা।” তিনি বর্তমান অর্জন ও লক্ষ্যমাত্রার ব্যবধান তুলে ধরে বলেন, চলমান প্রবণতায় এত বড় লাফ দেওয়া বাস্তবসম্মত নয়।

আমরা সাধারণত আগের বছরের লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে ১০ শতাংশ, ১৫ শতাংশ বা ২০ শতাংশ যোগ করে নতুন ট্যাক্স টার্গেট নির্ধারণ করি। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, সেই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হয় না।

তবে তিনি বলেন, “অটোমেশন এবং কাঠামোগত সংস্কার করা গেলে কর আদায়ের সক্ষমতা অনেক বাড়ানো সম্ভব। সেক্ষেত্রে ভবিষ্যতে ২৮ লাখ কোটি টাকার মতো কর সংগ্রহের সক্ষমতাও তৈরি হতে পারে।” তিনি মনে করেন, অর্থনীতি সম্প্রসারিত হলে এবং কর্মসংস্থান বাড়লে প্রত্যক্ষ কর বাড়ানো সম্ভব।

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

সাবেক অর্থসচিব মুসলিম চৌধুরী রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের প্রচলিত পদ্ধতির সমালোচনা করে বলেন, বাংলাদেশে রাজস্ব পরিকল্পনা অনেক সময় বাস্তব সক্ষমতার চেয়ে অনুমাননির্ভরভাবে নির্ধারণ করা হয়। তার ভাষায়, “আমরা সাধারণত আগের বছরের লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে ১০ শতাংশ, ১৫ শতাংশ বা ২০ শতাংশ যোগ করে নতুন ট্যাক্স টার্গেট নির্ধারণ করি। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, সেই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হয় না।”

তিনি মনে করেন, এই ধরনের যান্ত্রিক লক্ষ্য নির্ধারণ পদ্ধতি রাজস্ব ব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতা ঢেকে রাখতে পারে না। তার মতে, শুধুমাত্র শতাংশ যোগ করে লক্ষ্য নির্ধারণ করলে বাস্তব অর্থনৈতিক সক্ষমতা প্রতিফলিত হয় না, যার ফলে প্রতি বছরই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও বাস্তব আদায়ের মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হয়। তিনি আরও বলেন, এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে রাজস্ব ব্যবস্থায় কাঠামোগত সংস্কার, কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন এবং অটোমেশন জরুরি। তার মতে, এসব সংস্কার ছাড়া উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

বাজেটের আগে তড়িঘড়ি জ্বালানির দাম বাড়ানো ধোঁকাবাজি: জামায়াত আমিরjamat amir

সম্প্রতি সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন এক আলোচনায় বলেন, সরকারের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ‘বাস্তবায়নের দিক থেকে অবাস্তব’।

সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান মনে করেন, ৪২ শতাংশ রাজস্ব প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন।

সিপিডির ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান মনে করেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ স্থবিরতা এবং অনিশ্চিত ব্যবসায়িক পরিবেশে রাজস্ব আহরণে বড় লাফ দেওয়া কঠিন হবে।

আইএমএফের পর্যবেক্ষণও রয়েছে

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাংলাদেশের রাজস্ব ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে ধারাবাহিকভাবে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে।

সংস্থাটি কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি, করভিত্তি সম্প্রসারণ এবং রাজস্ব প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, রাজস্ব ঘাটতি দীর্ঘস্থায়ী হলে সরকারকে বেশি ঋণের ওপর নির্ভর করতে হয়, যা ভবিষ্যতে ঋণঝুঁকি বাড়াতে পারে।

কাঠামোগত সীমাবদ্ধতাই বড় বাধা

বাংলাদেশে রাজস্ব সংগ্রহের প্রধান সমস্যা হলো সীমিত করভিত্তি এবং দুর্বল কর পরিপালন ব্যবস্থা। বৃহৎ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি বড় অংশ এখনো কর নেটের বাইরে। একই সঙ্গে কর প্রশাসনের সক্ষমতা, মামলা জট এবং জটিল কর কাঠামো রাজস্ব আহরণে বাধা সৃষ্টি করছে।

সরকার ডিজিটাল ট্যাক্স সিস্টেম, নতুন করদাতা অন্তর্ভুক্তি এবং কর প্রশাসনের আধুনিকায়নের কথা বলছে। এনবিআরও প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার বকেয়া রাজস্ব আদায়ের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে।

তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, এসব সংস্কারের ফল এক অর্থবছরের মধ্যে পুরোপুরি পাওয়া কঠিন।

লক্ষ্য পূরণ না হলে কী হবে?

রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলে বাজেট ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হয়। সে ক্ষেত্রে সরকারকে হয় অতিরিক্ত ঋণ নিতে হয়, নয়তো ব্যয় কমাতে হয়।

অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, সাধারণত উন্নয়ন ব্যয় এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) সবচেয়ে বেশি কাটছাঁটের শিকার হয়। অনেক সময় সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিও সংকুচিত হয়। ফলে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা শুধু একটি সংখ্যা নয়—এটি পুরো অর্থনীতির ব্যয় কাঠামোর ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।

আগামী ১১ জুন বাজেট ঘোষণার পর সংখ্যাগুলো সংসদে অনুমোদন পাবে। কিন্তু প্রকৃত পরীক্ষা শুরু হবে ১ জুলাই থেকে।

ইতিহাস বলছে, এমন উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য বাস্তবায়ন সহজ হবে না। এখন দেখার বিষয়, সরকার রাজস্ব ব্যবস্থায় কতটা কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে পারে—নাকি বছর শেষে আবারও সংশোধিত বাজেটেই ছোট হয়ে আসবে এই বড় লক্ষ্য।

বিষয়: অর্থনীতিজাতীয় বাজেটজিডিপিকরব্যবসায়ীরাজস্বসংসদ
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    মহাকাশে অস্ত্রের বিস্তার, জিপিএস থেকে ব্যাংকিং—ঝুঁকিতে যে সেবাগুলো

  • ২

    ‘৫ আগস্টের পর মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা পাহারা দিয়েছে দাড়ি-টুপিঅলা লোকগুলো’

  • ৩

    ‘অনুঘটক না থাকলে আমি অভিনয় করতে চাই না’

  • ৪

    ‘আলেম-ওলামাদের সম্পর্কে বলা হয়- আরে ওরা তো দাওয়াত খাইয়া বেড়াবে’

  • ৫

    ব্রাজিলেও সরকার বদলাতে চায় আমেরিকা?

সম্পর্কিত
  • ব্রাজিলের নির্বাচন ও লাতিন আমেরিকায় মার্কিন আধিপত্য

    ব্রাজিলের নির্বাচন ও লাতিন আমেরিকায় মার্কিন আধিপত্য

    ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তারের কৌশল, রাজনৈতিক মেরুকরণ, ডিজিটাল প্রচারণা এবং আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে

  • মোদির সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ

    মোদির সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ

    বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর প্রায় প্রতিদিনের বিক্ষোভ মোদির সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এর মাত্র কয়েক মাস আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় একই ধরনের বিক্ষোভের মুখে তার শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল।

  • নড়বড়ে মুশফিকুরকে কেন খেলাচ্ছে বাংলাদেশ?

    নড়বড়ে মুশফিকুরকে কেন খেলাচ্ছে বাংলাদেশ?

    আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের একমাত্র টেস্টের স্কোয়াড যখন ঘোষিত হয়, তখন থেকেই আলোচনা ছিল মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বাইরের এরকম একটা অগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কেন মুশফিকুরকে দলে রাখা হলো, সেটা প্রশ্নের উদ্রেক করেছিল। কেননা মুশফিকুরের স্কোয়াডে থাকা মানেই একাদশে থাকাটাও ন

  • নিউইয়র্ক টাইমস: ট্রাম্পের প্রতি রিপাবলিকানদের হতাশা বাড়ছে

    নিউইয়র্ক টাইমস: ট্রাম্পের প্রতি রিপাবলিকানদের হতাশা বাড়ছে

    ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের মধ্যবর্তী নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের আভাস দেখা যাচ্ছে। পরিবর্তনটি সরাসরি ডেমোক্র্যাটদের প্রতি মানুষের ভালোবাসা বা রিপাবলিকান ভোটারদের রাজনৈতিক অবস্থান বদলে যাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। বরং এর কেন্দ্রে রয়েছে ক্লান্তি