Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ | স্বত্ব © চরচা
> বিশ্লেষণ
রয়টার্সের বিশ্লেষণ

ইরান কি ট্রাম্পের দুর্বলতা ফাঁস করে দিল

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৭: ০৪
ইরান কি ট্রাম্পের দুর্বলতা ফাঁস করে দিল

ইরানের সভ্যতা নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার মতো ভয়াবহ হুমকি থেকে নাটকীয়ভাবে সরে আসা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চিরচেনা অনিশ্চিত কূটনৈতিক কৌশলের সীমাবদ্ধতা এবং ঝুঁকিগুলোকে আবারও সামনে এনেছে।

Advertisement

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, গত মঙ্গলবার তিনি হঠাৎ করে পিছু হটার সিদ্ধান্ত নেন এবং দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হন। সমালোচকরা এই আচরণকে বিদ্রূপ করে ‘ট্যাকো’ (ট্রাম্প অলওয়েজ চিকেনস আউট) অর্থাৎ ট্রাম্প শেষ মুহূর্তে পিছু হটে। তবে এই যুদ্ধবিরতি ছিল ৪০ দিনের পুরনো এক সংঘাত থামানোর সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থির করে তুলেছিল এবং বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছিল।

তবে ট্রাম্পের বিজয়ের দাবি অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নকে আড়াল করছে। বিশেষ করে তার কৌশল যেখানে তিনি প্রথমে সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টি করেন, অতিরঞ্জিত ভাষায় হুমকি দেন এবং পরে অবস্থান পরিবর্তন করেন। এ কৌশল কতটা কার্যকর, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

গত মঙ্গলবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি ইরানকে চরম সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, কোনো চুক্তি না হলে আজ রাতেই একটি সভ্যতা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে, যা আর কখনো ফিরে আসবে না।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি হঠাৎই সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, তার আগের হুমকি বাস্তবায়িত হলে তা যুদ্ধাপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারত। তিনি ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য যে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন, তার মাত্র দুই ঘণ্টা আগে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন।

এরপর তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে তার সব সামরিক লক্ষ্য অর্জন করেছে, এমনকি তার চেয়েও বেশি কিছু করেছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তবে পরিস্থিতি এতটা সরল নয়। ইরান সামরিকভাবে দুর্বল হলেও এখন আরও কট্টর নেতৃত্বের অধীনে রয়েছে। তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তেলবাহী জলপথের ওপর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং মাটির নিচে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতও আছে। এটি ভবিষ্যতে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকতে পারে।

রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী থাকাকালেই ট্রাম্প নিজেকে একজন ‘মাস্টার নেগোশিয়েটর’ হিসেবে তুলে ধরেন। কিন্তু অনেক বিশ্লেষকের মতে, তার এই কৌশল অনেক সময় উল্টো ফল দেয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত করে।

গত ২৮ এপ্রিল ইরানে একযোগে হামলা চালায় আমেরিকা-ইসরায়েল। ছবি: রয়টার্স
গত ২৮ এপ্রিল ইরানে একযোগে হামলা চালায় আমেরিকা-ইসরায়েল। ছবি: রয়টার্স

ওয়াশিংটনের থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’-এর জন অল্টারম্যান বলেন, “ট্রাম্প নিজের অতিরঞ্জিত বক্তব্যের ফাঁদে পড়ে গিয়েছিলেন। তার পক্ষে ইরানের সভ্যতা ধ্বংস করা সম্ভব ছিল না, আর এমন হুমকির ইঙ্গিত দেওয়াও বিপজ্জনক।”

এই কৌশলের আরেকটি বড় ঝুঁকি হলো চীন ও রাশিয়ার মতো প্রতিপক্ষ দেশগুলো এখন তার এই আচরণের ধরন বুঝে ফেলছে। হোয়াইট হাউসের সাথে যোগাযোগ রাখা এক রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা রয়টার্সকে বলেন, “ট্রাম্পের চমক দেওয়ার ক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে আসছে।”

তবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট ট্রাম্পের ‘পিছু হটা’র অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার মতে, এই ধরনের বক্তব্য ছিল ট্রাম্পের কঠোর দরকষাকষির কৌশলের অংশ এবং বিশ্বের তার কথাকে গুরুত্ব সহকারে নেওয়া উচিত।

ট্রাম্পের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট ধারা দেখা যায়। তিনি প্রথমে খুব চরম অবস্থান নেন, তারপর পরিস্থিতি অনুযায়ী সরে আসেন। বিশ্লেষকদের মতে, কখনও এটি পরিকল্পিত মনে হলেও, অনেক সময় এটি বিশৃঙ্খল বলে মনে হয়েছে।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, আর্থিক বাজারের চাপ বা তার মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন সমর্থকদের চাপের মুখে প্রশাসনকে অবস্থান পরিবর্তন করতে হয়েছে।

ইরানের ক্ষেত্রেও তার অবস্থান পরিবর্তনের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার বিষয়টি বড় ভূমিকা রেখেছে।

‘ট্যাকো’ শব্দটি প্রায় এক বছর আগে জনপ্রিয় হয়, যখন মাত্র চার দিনে মার্কিন শেয়ারবাজারে ৬.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হওয়ার পর ট্রাম্প তার উচ্চ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। কয়েক সপ্তাহ পর চীনের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে। দুই ক্ষেত্রেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের পর শেয়ারবাজার স্বাভাবিক হয়।

এই ধারাবাহিকতায়, যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক আড়াই শতাংশ বেড়ে যায়।

এছাড়াও, ট্রাম্প ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা দখলের পরিকল্পনা থেকেও পরে সরে আসেন।

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা। ছবি: রয়টার্স
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা। ছবি: রয়টার্স

গাজায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে তার সময়সীমা নির্ধারণ কিছুটা কাজ করলেও, ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিরস্ত্র করার আল্টিমেটাম তারা মানেনি।

তবে তার দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প কিছু ক্ষেত্রে সামরিক হুমকির বাস্তব প্রয়োগও করেছেন, যা তার আগের মেয়াদের তুলনায় বেশি শক্তিশালী। যেমন, জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার কাছে বড় নৌবহর মোতায়েন এবং বিশেষ বাহিনীর মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করা। এ ছাড়া ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের সাথে মিলে ইরানের ওপর সরাসরি হামলাও চালানো হয়েছে।

ট্রাম্প ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, তার এই অনিশ্চিত আচরণ আসলে একটি কৌশল, যাতে প্রতিপক্ষ সবসময় বিভ্রান্ত ও সতর্ক থাকে।

মার্কিন থিঙ্ক ট্যাঙ্ক আটলান্টিক কাউন্সিলের জোনাথন প্যানিকফের মতে, ট্রাম্প সরাসরি পিছু হটেননি; বরং তিনি ইরানকে চরম চাপের মধ্যে নিয়ে গিয়ে সেখান থেকে একটি সাময়িক সমাধান বের করেছেন।

প্রথম ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক কর্মকর্তা আলেকজান্ডার গ্রে ‘ট্যাকো’ শব্দটি মানতে নারাজ। তার মতে, এটি ছিল উত্তেজনা বাড়িয়ে শান্তি আনার কৌশল। অনেকে মনে করেন, ট্রাম্প ‘ম্যাডম্যান থিওরি’ অনুসরণ করেন যেখানে নেতাকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যেন, তিনি অপ্রত্যাশিত ও চরম পদক্ষেপ নিতে পারেন, এমনকি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনাও থাকে। এই তত্ত্বটি প্রথম ব্যবহার করেছিলেন রিচার্ড নিক্সন ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময়।

মার্কিন থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিসের প্রধান নির্বাহী (সিইও) মার্ক ডুবোভিটস এই কৌশলের প্রতি কিছুটা সমর্থন জানিয়ে বলেন, “কখনও কখনও প্রতিপক্ষকে ভয় দেখাতে বেশি ‘পাগলামি’ দেখাতে হয়। তবে তিনি এর বড় সমস্যা নিয়েও সতর্ক করেছেন এই কৌশল শুধু শত্রুদের নয়, বরং মিত্র দেশ ও নিজের দেশের জনগণকেও আতঙ্কিত করে তোলে।”

বিষয়: আমেরিকাইরানমধ্যপ্রাচ্যযুদ্ধইসরায়েল
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    স্থানান্তরিত করা হলো এবি ব্যাংকের অষ্টগ্রাম শাখা

  • ২

    শ্রমিক অসন্তোষে দেড় শতাধিক পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা

  • ৩

    জার্মানিতে জেন-জি বিক্ষোভে সহিংসতা-লুটপাট, নেপথ্যে কী?

  • ৪

    যুক্তরাষ্ট্রে চ্যালেঞ্জের মুখে প্রচলিত সাংবাদিকতা

  • ৫

    পোশাকশিল্পের অস্থিরতা নিয়ে বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী

সম্পর্কিত
  • সৌদিতে হামলা চালাতে রাশিয়ার স্যাটেলাইটের তথ্য নিচ্ছে হুতিরা?

    সৌদিতে হামলা চালাতে রাশিয়ার স্যাটেলাইটের তথ্য নিচ্ছে হুতিরা?

    ইয়েমেনের সৌদি সমর্থিত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সঙ্গে গত জুলাই থেকেই হুতিদের সংঘর্ষ চলছে। সেপ্টেম্বরে এই সংঘাত আরও বেড়ে যায়। ওই সময় হুতিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের পুরো এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়।

  • ইরান যুদ্ধ: বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে উপসাগরীয় দেশগুলো

    ইরান যুদ্ধ: বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে উপসাগরীয় দেশগুলো

    ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য এক কঠিন বাস্তবতা তৈরি করেছে। সামরিক শক্তি বৃদ্ধি, কূটনৈতিক তৎপরতা কিংবা হরমুজ প্রণালির বিকল্প জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা—কোনো উদ্যোগই এখন পর্যন্ত তাদের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি

  • এইচএসসির ফলাফলে বিপর্যয়, দায় কি শুধু শিক্ষার্থীর, নাকি রাষ্ট্রেরও?

    এইচএসসির ফলাফলে বিপর্যয়, দায় কি শুধু শিক্ষার্থীর, নাকি রাষ্ট্রেরও?

    গত ২২ বছরের মধ্যে চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের জন্য প্রচলিত মূল্যায়ন ব্যবস্থা, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের অভাবকে দায়ী করছেন শিক্ষাবিদরা। তারা বলছেন, শিক্ষাদানের দুর্বলতার পাশাপাশি উত্তরপত্র মূল্যায়নের প্রথাগত পদ্ধতিও এই ফলাফলের জন্য দায়ী।

  • রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পশ্চিম ইউরোপ

    রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পশ্চিম ইউরোপ

    পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলো দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফ্রান্স, স্পেন ও পর্তুগালের মতো দেশে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, তরুণ প্রজন্মের অসন্তোষ, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রচলিত রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি আস্থাহীনতা ইউরোপের বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ