Advertisement Banner

মিয়ানমারকে কি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে চীন?

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
মিয়ানমারকে কি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে চীন?
ছবি: রয়টার্স

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারের তৎকালীন সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং একটি সামরিক অভ্যুত্থান ঘটান। তখন চীন বিষয়টিকে কেবল একটি বড় ধরনের মন্ত্রিসভা রদবদল বলে অভিহিত করেছিল। চলতি বছরের জুনে মিন অং হ্লাইং মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হিসেবে বেইজিংয়ে তার প্রথম সফরে চীনের নেতা শি জিনপিংয়ের সাথে দেখা করেন। এই সাক্ষাতের ব্যাপারে কোনো লুকোছাপা বা অজুহাতের প্রয়োজন ছিল না, কারণ এটি ছিল মিয়ানমারের সাম্প্রতিক নির্বাচনের প্রতি চীনের সরাসরি সমর্থন।

মিয়ানমারে চলমান গৃহযুদ্ধের মধ্যেই গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে কোনো বড় বিরোধী দল ছাড়া একটি নামমাত্র নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যাতে সেনাবাহিনী সমর্থিত দল বিপুল ভোটে জয়লাভ করে। মিন অং হ্লাইং রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে চীনের এই উষ্ণ অভ্যর্থনা বেশ উপভোগ করছেন, ঠিক যেমনটি তিনি এই মাসের শুরুর দিকে ভারত সফরে গিয়েও পেয়েছিলেন।

ব্রিটিশ সাময়িকী ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই নামমাত্র নির্বাচন আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে হয়ে থাকা মিয়ানমারের সামরিক সরকার ও তাদের নেতার ওপর থেকে সমস্ত নিষেধাজ্ঞা বা বিচ্ছিন্নতা পুরোপুরি দূর করতে পারেনি। তবে আন্তর্জাতিক মহলে নিজের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে মিন অং হ্লাইং বেশ সফল হচ্ছেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট ‘আসিয়ান’ এখনো তাকে তাদের মূল বৈঠকগুলোতে ডাকছে না, তবে জোটের দেশগুলো এখন দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে। এক দল জান্তাকে পুরোপুরি বয়কট করতে চায়, আর অন্য দল তাদের সাথে মানিয়ে নিয়ে সম্পর্ক গড়ার কথা ভাবছে।

ছবি: রয়টার্স
ছবি: রয়টার্স

অন্যদিকে, যে যুক্তরাষ্ট্র একসময় জান্তাকে আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে করে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল, তারা এখন মিয়ানমার নিয়ে এক ধরনের উদাসীনতা দেখাচ্ছে। এক বছর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাঠানো একটি চিঠি জান্তা সরকারকে বেশ খুশি করেছিল। ওই চিঠিতে মিয়ানমারের পণ্যের ওপর ৪০% শুল্ক বসানোর হুমকি দেওয়া হলেও, সেখানে জান্তা প্রধানের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়েছিল। এটিকে মিয়ানমার একটা পরোক্ষ স্বীকৃতি হিসেবে ধরে নেয়। এরপর থেকে মার্কিন সরকার গোপনে জান্তাপ্রধানের কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগীর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞাও তুলে নিয়েছে। তবে আমেরিকার সাহায্য সংস্থা ‘ইউএসএইড’ -এর তহবিল কমিয়ে দেওয়ায় মিয়ানমারের সাধারণ মানুষ চরম সংকটে পড়েছে এবং বাধ্য হয়ে জান্তার হাসপাতাল ও সংবাদমাধ্যমের ওপর নির্ভর করছে।

মিয়ানমারের সামরিক সরকার মূলত রাশিয়া এবং চীনের মতো অল্প কিছু দেশের সমর্থনেই টিকে আছে। জাতিসংঘে কূটনৈতিক ঢাল হওয়ার পাশাপাশি রাশিয়া ও চীন জান্তাকে যুদ্ধবিমান, জ্বালানি, ড্রোন এবং ড্রোন নিষ্ক্রিয় করার প্রযুক্তি দিচ্ছে, যা তাদের গৃহযুদ্ধে তীব্র করছে। এছাড়া, দেশের প্রাকৃতিক গ্যাস বিক্রি করে আয়ের জন্য জান্তা চীন ও থাইল্যান্ডের ওপর নির্ভরশীল।

মিয়ানমারে চীন সবচেয়ে বড় বিদেশি বিনিয়োগকারী। এর বদলে জান্তা জেনারেলরা চীনকে ভারত মহাসাগরে সরাসরি যাতায়াতের সুযোগ দিচ্ছেন। এতে করে চীনের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য ‘মালাক্কা প্রণালি’র মতো ঝুঁকিপূর্ণ নৌপথ এড়িয়ে সরাসরি চলতে পারছে। তবে এই সম্পর্ক পুরোপুরি আদান-প্রদানের। গত এক বছরে চীন মিয়ানমার সীমান্তের শক্তিশালী বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করে জান্তাকে সাহায্য করেছে, যার ফলে বেশ কয়েকটি বিদ্রোহী দল যুদ্ধবিরতি করে তাদের এলাকা সেনাবাহিনীর হাতে ছেড়ে দিয়েছে। অবশ্য জান্তার সব সাফল্য চীনের কারণে নয়। ২০২৪ সালে মিয়ানমারে বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগ আইন চালুর পর থেকে সেনাবাহিনীতে নতুন সদস্য সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

বর্তমানে জান্তা বাহিনী দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে। এপ্রিল ও মে মাসে তারা উত্তর সাগাইং প্রদেশের বেশ কিছু শহর দখলে নিয়েছে এবং বর্ষা ঋতুতে তারা আরও সামনের দিকে এগোবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জান্তা সেনারা এখন ভারত, থাইল্যান্ড ও চীন সীমান্তের বিদ্রোহী এলাকাগুলোর দিকে এগোচ্ছে, যা ‘কাচিন ইন্ডিপেনডেন্স আর্মি’ বা কেআইএ-র জন্য বড় বিপদ। এই আদিবাসী বিদ্রোহী দলটি উত্তর মিয়ানমারের বেশিরভাগ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করলেও কাচিন রাজ্যের রাজধানী মিতকিনা এখনো তাদের দখলে নেই।

বৈদ্যুতিক গাড়ি, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও স্যাটেলাইটে ব্যবহৃত অত্যন্ত মূল্যবান ভারী বিরল খনিজ উপাদানের ৯০ শতাংশই উৎপাদন করে চীন ও মিয়ানমার। আর এই খনিজের বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় অর্ধেকই আসে কেআইএ-র নিয়ন্ত্রণে থাকা খনিগুলো থেকে, যা পরে প্রক্রিয়াজাত করার জন্য চীনে পাঠানো হয়।

মিয়ানমারের সাথে লেনদেনের ক্ষেত্রে চীন দীর্ঘদিন ধরেই বাস্তবসম্মত নীতি অনুসরণ করে আসছে। মিয়ানমারের বর্তমান নিয়ন্ত্রণ জান্তা, কেআইএ এবং অন্যান্য বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বিভক্ত, যার প্রতিটি পক্ষই চীনা বাজার, অস্ত্রের রুট এবং বেইজিংয়ের সদিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। ফলস্বরূপ, চীন সবার জন্যই এক অপরিহার্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। চীন কাচিন আর্মিকে বিরল খনিজ ব্যবসা বন্ধের হুমকি দিয়ে, তাদের অস্ত্র কেনার পথ রুদ্ধ করে কিংবা চীনের সীমান্তে বসবাসকারী তাদের নেতাদের আটক করে সহজেই চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ঠিক একইভাবে, তারা জান্তার ওপরেও চাপ বজায় রাখতে পারে সেই বাণিজ্য ও বিনিয়োগের মাধ্যমে। এটি পাওয়ার আশায় মিন অং হ্লাইং চীনে ছুটে গিয়েছিলেন। তবে এই প্রভাব খাটানোর অর্থ এই নয় যে চীন পুরো বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করছে।

মিন অং হ্লাইং। ছবি: রয়টার্স
মিন অং হ্লাইং। ছবি: রয়টার্স

ইকোনমিস্ট বলছে, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির বৈশ্বিক হিসাব-নিকাশে মিয়ানমার এখনও খুবই কম অগ্রাধিকার পায়। এটি তাদের কাছে কেবল একটি বিরক্তিকর সীমান্ত সমস্যা। চীন মূলত চায় বিরল মৃত্তিকার প্রবাহ সচল থাকুক, তার পাইপলাইন ও রেলপথগুলো চালু থাকুক এবং দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তটি যেন স্থিতিশীল থাকে, যাতে শরণার্থী, মাদক এবং সাইবার জালিয়াতির প্রভাব চীনের ভেতরে ছড়াতে না পারে। এর কোনোটির জন্যই চীনের একটি ঐক্যবদ্ধ মিয়ানমারের প্রয়োজন নেই, তাদের শুধু এমন একটি মিয়ানমার দরকার যেখানে চীনই হবে একমাত্র পক্ষ যার সাথে সব পক্ষকে বাধ্য হয়ে লেনদেন করতে হবে।

মিন অং হ্লাইংয়ের বেইজিং সফরে তার সাথে কাচিন ও শান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও ছিলেন, যা নির্দেশ করে যে এই সফরের মূল ফোকাস ছিল সীমান্ত বাণিজ্য, বিরল মৃত্তিকা উপাদান এবং ২০১১ সাল থেকে জনরোষের কারণে বন্ধ থাকা কাচিনের ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের চীনা প্রকল্প মিতসোনে বাঁধ পুনরায় চালু করা।

২০১১ সালে তীব্র গণবিক্ষোভের মুখে যখন মিয়ানমার সরকার এই মিতসোনে বাঁধ প্রকল্পের কাজ স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছিল। তখন এই প্রকল্পটি মিয়ানমারের গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ এবং চীনের বিরুদ্ধে এক অবাধ্যতার প্রতীকে পরিণত হয়েছিল। বিশ্বজুড়ে চীনা অর্থায়নে পরিচালিত খুব কম বাঁধই এভাবে জনগণের বিরোধিতার মুখে বন্ধ হয়েছে। তবে জান্তার সেকেন্ড-ইন-কমান্ড সো উইন জানান যে, প্রকল্পটি পুনরায় চালু করার বিষয়ে তারা চীনের সাথে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে। এটি মূলত ইরাবতী নদীর সংযোগস্থলে সাতটি বাঁধের একটি ধারা, যা মিয়ানমারের বহু মানুষের কাছে দেশের মাতৃনদী হিসেবে পরিচিত এবং এই মিতসোনে হলো এই বাঁধগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ও বিতর্কিত।

এই প্রকল্পটি একসময় সবার কাছে রোমহর্ষক ছিল কারণ এর প্রক্রিয়া ছিল অস্বচ্ছ। এই বাঁধ থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের সিংহভাগ চলে যাওয়ার কথা ছিল চীনে এবং এটি ভাটি অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি করা, জীববৈচিত্র্য, মানুষের জীবিকা ও পবিত্র ধর্মীয় স্থানগুলোর ক্ষতি করার হুমকি তৈরি করেছিল, যার কোনোটিরই এখনো পরিবর্তন হয়নি। তা ছাড়া, চীনের এই মুহূর্তে জরুরি ভিত্তিতে কোনো বিদ্যুতের প্রয়োজনও নেই, কারণ তাদের নিজস্ব সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বর্তমানে তাদের সর্বোচ্চ চাহিদাকেও ছাড়িয়ে গেছে। কাজেই, এই বাঁধ তৈরির বিষয়টি আসলে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য নয়, এটি মূলত প্রভাব খাটানোর একটি কৌশল।

চীনের ওপর দিন দিন আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়া জান্তা সরকার এই বিতর্কিত প্রকল্পটিকে ব্যবহার করে একদিকে যেমন চীনকে নিজেদের পক্ষে রাখতে চাইছে, তেমনি অন্যদিকে কাচিন রাজ্যের সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণকারী জাতিগত বিদ্রোহী বাহিনীকে চাপে ফেলতে চাইছে। ফলে প্রকল্পটি এখন জান্তা সরকারের জন্য চীনের সঙ্গে দরকষাকষির হাতিয়ার এবং ভিন্নমত দমনের একটি অজুহাতে পরিণত হয়েছে।

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং। ছবি: রয়টার্স
চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং। ছবি: রয়টার্স

এই মিতসোনে বাঁধ প্রকল্প সফল করতে জান্তা সরকার কঠোর দমনপীড়ন শুরু করেছে। তারা নতুন আদেশ জারি করেছে যে, কোনো শক্ত প্রমাণ ছাড়া কেউ এই বাঁধের বিরোধিতা করলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগেও সমালোচকদের মুখ বন্ধ করতে জান্তা সরকার দুটি কড়া আইন তৈরি করেছিল। একটি হলো ২০২৫ সালের সাইবার নিরাপত্তা আইন, যা দিয়ে অনুমতি ছাড়া ভিপিএন ব্যবহার ও অনলাইনে যেকোনো স্বাধীন বক্তব্যকে অপরাধ বানানো হয়েছে। অন্যটি হলো নির্বাচন আইন, যা দিয়ে সরকারের প্রহসনমূলক নির্বাচনের যেকোনো ধরনের সমালোচনাকে অবৈধ করা হয়েছে। এসব অপরাধের শাস্তি ৩ বছরের জেল থেকে শুরু করে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।

আসলে, বিতর্কিত বাঁধ থেকে বিদ্যুৎ পাওয়ার চেয়ে চীন এখন অন্য একটি বিষয়ে বেশি আগ্রহী। তারা চায় জান্তা সরকার যেন এমন একটি রেললাইন তৈরি করে দেয় যা দক্ষিণ চীনের ইউনান প্রদেশের সাথে উত্তর মিয়ানমারের মান্দালয় এবং বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রবন্দর ‘কিয়াকফিউ’-কে সরাসরি যুক্ত করবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে চীন সম্ভবত জান্তাকে চাপ দিয়ে নিজের এই স্বার্থটিই আদায় করে নেবে।

স্বভাবতই স্থানীয় বাসিন্দারা চরম অসন্তুষ্ট হলেও জান্তার ভয়ে স্তব্ধ হয়ে আছেন। বিভিন্ন এনজিও এই নিষেধাজ্ঞাকে বাকস্বাধীনতার ওপর বড় আঘাত হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, জনগণের জোরপূর্বক সম্মতি দেখানোর জন্য জান্তা সরকার ভুয়া আলোচনার নাটক সাজাচ্ছে। তারা এলাকায় এ ধরনের ১৫টিরও বেশি ভুয়া বৈঠক করেছে। এমনকি একসময় যারা বাঁধের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলেন, এমন অনেক কাচিন বাসিন্দাকে জোর করে বাঁধ চালু করার কমিটিতে যোগ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে, যাতে স্থানীয় মানুষদের নিজেদের মধ্যেই বিভেদ তৈরি হয়। স্থানীয় নেতাদের ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে এবং তারা মুখ খুললে তাদের বা তাদের পরিবারের ওপর হামলা ও গ্রেপ্তারের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

জান্তা সরকারের দ্বিতীয় লক্ষ্য হলো কাচিন এলাকার জমি ও জঙ্গল নিয়ন্ত্রণ করা। মিতকিনা শহর ও বাঁধের মূল জায়গাটি সেনাবাহিনীর দখলে থাকলেও এর চারপাশের জঙ্গলগুলো ‘কাচিন ইন্ডিপেনডেন্স আর্মি’-র নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই বিতর্কিত বাঁধ প্রকল্পটিকে আবার সামনে আনার আড়ালে জান্তা সরকার মূলত কাচিন বিদ্রোহীদের সাথে একটি যুদ্ধ বা সংঘাতের উসকানি দিতে চাইছে, যাতে কাচিন আর্মি বাধ্য হয়ে তাদের নিয়ন্ত্রিত ভূখণ্ড সেনাবাহিনীর হাতে ছেড়ে দেয়।

মিয়ানমারে চীনের এই প্রভাব শুধু ব্যবসা-বাণিজ্য বা সামরিক সাহায্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। দেশটি মাটির নিচ থেকে কী ধরনের খনিজ সম্পদ তুলবে তা নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি, বিশ্বজুড়ে মিয়ানমারকে নিয়ে কী আলোচনা বা সমালোচনা হবে, তাও এখন চীন নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে। যেমন, মিয়ানমারে জন্ম নেওয়া বিখ্যাত মার্কিন রাজনৈতিক গবেষক মিন জিন যখন চীন সফরে যান, তখন দক্ষিণ চীনের কুনমিং শহর থেকে তাকে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে আটক করা হয়। তবে তার এই আটক হওয়াটা মিয়ানমারের জান্তা সরকারকে সুবিধা দেওয়ার জন্য নয় বরং আমেরিকার সাথে চীনের বর্তমান কূটনৈতিক বিরোধের কারণেই বেশি হয়ে থাকতে পারে। তা সত্ত্বেও, এই ঘটনাটি চীন ও মিয়ানমার নিয়ে কাজ করা গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের মনে একটি তীব্র ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছে। মিয়ানমারের ওপর চীনের এই নিয়ন্ত্রণ যত শক্তিশালী হচ্ছে, এই দুই দেশের ভেতরের জটিল রাজনীতি ও শাসনব্যবস্থাকে স্পষ্টভাবে বোঝা আন্তর্জাতিক মহলের জন্য ততটাই কঠিন হয়ে পড়ছে।

সম্পর্কিত