
বাটন ফোন ছাড়তে প্রস্তুত দেশের ৭ কোটি মানুষ?
এক হাতে বাটন ফোন, অন্য হাতে স্মার্টফোন। মোবাইল যোগাযোগের দুই ভিন্ন যুগের প্রতীক এই দুই ডিভাইস। বাংলাদেশ এখন বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বহু নাটকীয়তা, রক্তক্ষয়ী সংঘাত আর ভূ-রাজনীতির নানা সমীকরণ পেরিয়ে যুদ্ধ বন্ধে অবশেষে স্বাক্ষরিত হলো ইরান-আমেরিকা সমঝোতা স্মারক। আজ বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইলেকট্রনিকভাবে এই স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
এ ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ট্রাম্প যখন চুক্তিতে সই করছিলেন, তখন মাখোঁ পাশে দাঁড়িয়ে তালি দিচ্ছিলেন এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তার পেছনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ফ্রান্সে চলমান জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকেই এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি সম্পন্ন হয়।

সমঝোতা স্মারক সই করার ট্রাম্প বলেন, “এটা সহজ ছিল না — এটুকু আমি আপনাদের বলতে পারি।”
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধ এখন পর্যন্ত ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির সবচেয়ে বড় ভুলের এক উদাহরণ হয়ে থাকবে। এ যুদ্ধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভবিষ্যতে শত্রুদের দমানো আরও কঠিন হয়ে পড়বে। এই সমঝোতা স্মারকে দিনশেষে ইরান যথেষ্ট সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। এতে লেবাননসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্যের সবকটি ফ্রন্টে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের কথা বলা হয়েছে।

সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক করা হবে এবং ইরানের বন্দরগুলো থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া হবে।
এছাড়া ইরানের ওপর থেকে আমেরিকার সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে, তাদের আটকে থাকা তহবিল ফেরত দেওয়া হবে এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানের অর্থনীতি সচল করতে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল সহায়তার পরিকল্পনা রাখা হয়েছে।
এর বিপরীতে ইরান তাদের আগের অবস্থান বজায় রেখে স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা কোনো পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না।
যদি কিছুটা পেছনে ফিরে তাকানো যায়, তবে দেখা যাবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারির চিত্রটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথবাহিনী যখন ইরানে একযোগে হামলা শুরু করে, তখন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছিলেন, এই অভিযানের একমাত্র লক্ষ্য ইরানের আয়াতুল্লাহের শাসনের হুমকি চিরতরে মুছে দেওয়া। তিনি দাবি করেছিলেন, ইরানি কূটনীতিকদের আলোচনা স্রেফ ‘সময়ক্ষেপণের প্রতারণা।’
কিন্তু ১৫ সপ্তাহ পর বাস্তবতার চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। চুক্তির পথে বাধা হওয়ায় নিজের ঘনিষ্ঠ মিত্র নেতানিয়াহুকে খোদ ট্রাম্পই গণমাধ্যমের সামনে ‘কাণ্ডজ্ঞানহীন’ বলে ভর্ৎসনা করেছেন। ফলে আয়াতুল্লাহ শাসন গুঁড়িয়ে দেওয়ার নেতানিয়াহুর স্বপ্ন যেন কর্পূরের মতো উড়ে গেছে।

২৮ ফেব্রুয়ারির ইসরায়েল-আমেরিকার ভয়াবহ বিমান হামলায় তেহরানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা নিহত হন। অভ্যন্তরীণ মুদ্রাস্ফীতি ও রাজনৈতিক জটিলতার মাঝেই খামেনির শেষকৃত্যের প্রক্রিয়া চলছে, যা আগামী ৪ থেকে ৯ জুলাইয়ের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে মৃত্যুর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে জেনারেল কাসেম সোলাইমানির শাহাদাত বার্ষিকীতে দেওয়া আয়াতুল্লাহ খামেনির একটি ভাষণ এখন নতুন করে আলোচনায় আসছে। সেদিন তিনি ট্রাম্পের নীতিকে মিথ্যা ও ফাঁকা প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি আখ্যা দিয়ে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন। খামেনি দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করেছিলেন, ‘‘শত্রু কখনো বসে থাকবে না, তারা প্রতিটা সুযোগের অপব্যবহার করতে চাইবে। কিন্তু আমরা আল্লাহর ওপর ভরসা রাখি। আমরা শত্রুর সামনে কখনো মাথা নত করব না এবং আল্লাহর রহমতে, আমরা শত্রুকে হাঁটু গেঁড়ে বসতে বাধ্য করবই।’’
আমেরিকা-ইসরায়েল জোটের সাথে যুদ্ধ শুরু হওয়ার মাত্র ৪ মাসের মাথায় ওয়াশিংটনের আলোচনার টেবিলে ফিরে আসা এবং নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার এই সিদ্ধান্ত যেন প্রয়াত এই নেতার সেই ভবিষ্যৎবাণীকেই সত্য প্রমাণিত করল।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স, গার্ডিয়ান, খামেনি ডট আইআর

এক হাতে বাটন ফোন, অন্য হাতে স্মার্টফোন। মোবাইল যোগাযোগের দুই ভিন্ন যুগের প্রতীক এই দুই ডিভাইস। বাংলাদেশ এখন বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের রাজনৈতিক দলগুলোর সামনে একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। সংসদীয় রাজনীতিকে যদি আবার কার্যকর করতে হয়, তাহলে রাজনৈতিক দলগুলোকে কেবল ক্ষমতা ভাগাভাগি বা নির্বাচনকেন্দ্রিক সমীকরণে আটকে থাকলে চলবে না।

চলতি মাসে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি হয়। ‘মক্কা চুক্তি’ নামের এই প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশ যোগ দেওয়ার কথা বিবেচনা করতে পারে বলে জানিয়েছেন সরকারের একজন মন্ত্রী। এই পদক্ষেপটি বিশেষ করে প্রতিবেশী ভারতের সাথে বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্কে জটিলতা

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক চাপ এবার নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। সামরিক অভিযান ও কূটনৈতিক উদ্যোগ প্রত্যাশিত ফল না দেওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আবার অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাকে সামনে এনেছে। তবে এবারের কৌশল আগের চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত। লক্ষ্য শুধু ইরান নয়; ত