ads

কে হচ্ছেন নতুন রাষ্ট্রপতি?

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
কে হচ্ছেন নতুন রাষ্ট্রপতি?
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির বাসভন ও কার্যালয় বঙ্গভবন। ছবি: বাসস

সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাষ্ট্রপতির পদ ত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি এখন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়া পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন।

Advertisement

সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর থেকেই সবার দৃষ্টি পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, সেদিকে। সরকার গঠনের পর থেকেই এ পদে বিএনপির জ্যেষ্ঠ কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় থাকলেও গত দুই দিনে সম্ভাব্যদের তালিকায় নতুন আরও কয়েকটি নাম যুক্ত হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রগুলোর ভাষ্য, সম্ভাব্যদের তালিকা এখন অনেকটাই সংক্ষিপ্ত।

নতুন রাষ্ট্রপতি কে হতে পারেন, তা নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র।

শুরুতে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খানসহ কয়েকজনের নাম আলোচনায় ছিল। জোর আলোচনা রয়েছে মানবাধিকারকর্মী এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান হতে পারেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি। তেমনটি হলে তিনিই হবেন দেশের প্রথম নারী রাষ্ট্রপতি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির নামও শোনা যাচ্ছে। সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের খবর চাউর হওয়ার সাথে সাথেই নাসিমুল গণির নাম শোনা যায়।

সরকার ও বিএনপির নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা একটি সূত্র জানিয়েছে, বাইরে থেকে নয় বরং বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে থেকেই দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হতে পারেন।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে যাদের নাম গণমাধ্যমে এসেছে এবং রাজনৈতিক মহলে আলোচনা হয়েছে তাদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য চরচাকে বলেন, “মূলত প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের আস্থা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করার সক্ষমতার বিষয়গুলো বিবেচনায় এনে তার নাম আলোচনায় এসেছে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।”

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার গঠনের সময় থেকেই রাষ্ট্রপতি পদে দলের সম্ভাব্য অনেকের নাম আলোচনায় আসে। এর মধ্যে দলের জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অন্যতম। এ ছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খানের নামও আলোচনায় এসেছে।

এ বিষয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, তিনি এমন কোনো আলোচনা সম্পর্কে জানেন না। তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমি একেবারেই অবগত নই। আর এমন কিছু ঘটলে (রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ) শূন্য পদে অনেক নামই আলোচিত হবে, এটাই স্বাভাবিক।”

একই কথা বলেন রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় আসা দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। চরচাকে তিনি বলেন, “এই সিদ্ধান্ত তো কারও একার না। দেশ, সরকার, দল, জনগণ সকল ক্রাইটেরিয়া মাথায় রেখে যেটা উপর্যুক্ত, সেটাই হবে।”

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে এখনো কিছু সময় বাকি রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমানে রাষ্ট্রপতি হিসেবে যাদের নাম আলোচনার রয়েছে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের অবস্থান পরিবর্তন হতে পারে। তাই দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগপর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলতেই থাকবে বলে মত তাদের।

সংসদে বিএনপির যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে, তাতে রাষ্ট্রপতি পদে তাদের পছন্দসই প্রার্থীকে জিতিয়ে আনতে বিরোধী দলের কাছে ধরনা দিতে হবে না। কিন্তু তাদের পছন্দসই প্রার্থীটা কে হবেন? বিএনপি নেতৃত্ব কাকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে বেছে নেবেন?

সম্পর্কিত