Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> বিশ্লেষণ

৩ অধিবেশনে ৮ ওয়াকআউট: কোন পথে হাঁটছে বিরোধী দল?

তাসীন মল্লিক

তাসীন মল্লিক

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০: ৩৫
৩ অধিবেশনে ৮ ওয়াকআউট: কোন পথে হাঁটছে বিরোধী দল?
সংসদে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির সাংসদ। ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তিন অধিবেশনে আটবার ওয়াকআউট করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলীয় জোট। প্রথম অধিবেশনে ২৫ কার্যদিবসে তিনবার, দ্বিতীয় অধিবেশনে ২৭ কার্যদিবসে একবার এবং তৃতীয় অধিবেশনে ৯ কার্যদিবসেই চারবার ওয়াকআউট করে তারা। রাষ্ট্রপতির ভাষণ থেকে শুরু করে সংবিধান সংস্কার, বিশেষ কমিটি, খসড়া আইনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে আপত্তি জানিয়ে সংসদ কক্ষ ছেড়েছে তারা। সংসদীয় কমিটির বৈঠক বর্জনের ঘটনাও ঘটেছে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী এ সংসদে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

১২ মার্চ সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণের সময় প্রথম ওয়াকআউট করেছিল ১১ দলীয় জোট। এরপর প্রথম অধিবেশনেই ১ এপ্রিল সংবিধান সংস্কার পরিষদ ও ৯ এপ্রিল কয়েকটি বিল নিয়ে আপত্তি জানিয়ে ওয়াকআউট করে তারা। দ্বিতীয় অধিবেশনে একবার সংসদ কক্ষ থেকে বেরিয়ে যায় বিরোধী দল–১৩ জুলাই সংবিধান সংশোধনের বিশেষ কমিটি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে।

২৭ আগস্ট থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা তৃতীয় সেশনে আবারও ওয়াকআউট শুরু হয়। ২৭ আগস্ট সংস্কার প্রক্রিয়া ও সংসদের কার্যপ্রণালি নিয়ে আপত্তিতে পঞ্চমবার কক্ষ ছাড়ার পর, ২ সেপ্টেম্বর সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধের জেরে ষষ্ঠবার ওয়াকআউট করে বিরোধী দলীয় জোট। ৬ সেপ্টেম্বর সপ্তম এবং ৭ সেপ্টেম্বর অষ্টমবার ওয়াকআউট করে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটটি।

রাষ্ট্রপতির ভাষণ দিয়ে শুরু

Advertisement
Advertisement
Advertisement

গত ১২ মার্চ সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম কার্যদিবসে সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংসদে ভাষণ দিতে এলে জামায়াতের সদস্যরা প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদ জানান। ওই দিন নজিরবিহীন বিক্ষোভ হয় সংসদে। রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিতে ডায়াসে দাঁড়ালে তার সামনে গিয়ে ভাষণ দেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও জামায়াতের সংসদ সদস্যরা।

walkout of Jamat2

পরে রাষ্ট্রপতি ভাষণ শুরু করলে বিরোধী দলের সদস্যরা কক্ষ ছাড়েন। এর আগে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান রাষ্ট্রপতির সমালোচনা করেন। তিনি রাষ্ট্রপতিকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ ও ‘খুনির দোসর’ বলে আখ্যায়িত করেন। ত্রয়োদশ সংসদ শুরুই হয় বিরোধী দলের ওয়াকআউট দেখে।

সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে বিরোধ

১ এপ্রিল দ্বিতীয় ওয়াকআউট হয় সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বানের দাবিকে কেন্দ্র করে। এর আগের দিন এ বিষয়ে একটি মুলতবি প্রস্তাব নিয়ে সংসদে আলোচনা হয়। সরকার সংবিধান সংশোধনের জন্য সর্বদলীয় বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেয়।

পরের দিন পয়েন্ট অব অর্ডারে শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটের রায়ের আলোকে তারা স্পিকারের মাধ্যমে প্রতিকার আশা করেছিলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, মুলতবি প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে আরও বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, তাদের প্রস্তাব ‘ধামাচাপা’ দিতে বিকল্প প্রস্তাব আনা হয়েছে। এরপর বিরোধী দলের সদস্যরা ওয়াকআউট করেন।

বিল থেকে বিশেষ কমিটি

৯ এপ্রিল কয়েকটি বিল পাসের প্রতিবাদে তৃতীয় ওয়াকআউট হয়। ওই দিন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ (রহিতকরণ) বিল, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল বিল, জেলা পরিষদ বিল ও পৌরসভা বিলসহ কয়েকটি বিলে আপত্তি জানায় বিরোধী দল।

জামায়াত আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, “দুঃখজনক হলেও সত্য, বিরোধী দলের যৌক্তিক বাধা সত্ত্বেও যে কয়টি গণবিরোধী বিল আজকে পাস হয়েছে, আমরা তার দায় নিতে চাই না। এ জন্য আমরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করছি।” এরপর জামায়াত, এনসিপিসহ বিরোধী দলের সদস্যরা সংসদ কক্ষ ছাড়েন। মাগরিবের বিরতির পর তারা অধিবেশনে ফেরেন।সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন বিরোধী দলীয় জোটের ওয়াকআউট দেখেছে গত ১৩ জুলাই। সেদিন সংবিধান সংশোধনের জন্য বিশেষ কমিটি গঠনের প্রতিবাদে ওয়াকআউট করে বিরোধী দলীয় জোট। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের ওই কমিটি গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন হয়। বিরোধী দলের জন্য পাঁচটি পদ রাখা হলেও তখনো তাদের কোনো সদস্যের নাম দেওয়া হয়নি। সরকারের বক্তব্য ছিল, কয়েক দফা আলোচনার পরও বিরোধী দলের কাছ থেকে নাম পাওয়া যায়নি; পরে নাম দিলে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বিরোধী দলের অবস্থান ছিল, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি পাশ কাটিয়ে এই কমিটি করা হচ্ছে।

সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউট, আপত্তি কোথায়?parliament

আগস্টে আপত্তির পরিধি বৃদ্ধি

সংসদে তৃতীয় অধিবেশন ২৭ আগস্ট শুরু হয়ে চলেছে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, এ সময়ে ৯ কার্যদিবসেই চারবার ওয়াকআউট করে বিরোধী দল। ২৭ আগস্ট সংস্কার প্রক্রিয়া ও সংসদের কার্যপ্রণালি নিয়ে আপত্তিতে সংসদ কক্ষ ছাড়ে বিরোধী দল। শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, সরকার পূর্ণাঙ্গ সংস্কারকে পাশ কাটিয়ে আংশিক সংস্কারের পথে এগোচ্ছে। একই সঙ্গে ‘বেসরকারি দিবসে’ সরকারি বিল উত্থাপনের বিষয়েও আপত্তি জানান তিনি।

এরপর জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল এবং সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল উত্থাপনের আগে ওয়াকআউটের ঘোষণা দেন তিনি। রাত ৮টা ৫ মিনিটের দিকে বিরোধী দলের সদস্যরা কক্ষ ছাড়েন।

২ সেপ্টেম্বর সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধের জেরে ষষ্ঠবার ওয়াকআউট করে বিরোধী দল।

৬ সেপ্টেম্বর সপ্তম ওয়াকআউট

৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল নিয়ে সপ্তম ওয়াকআউট হয়। শফিকুর রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশ দুটি রহিত করে আরও শক্তিশালী আইন করার কথা বলা হলেও, পরে তার চেয়ে দুর্বল ও সীমিত পরিসরের বিল আনা হয়েছে। মানবাধিকার কমিশন বিলের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের জন্য আলাদা বিধান রাখার বিষয়েও আপত্তি জানান তিনি।

৭ সেপ্টেম্বর অষ্টম ওয়াকআউট

এরপর ৭ সেপ্টেম্বর তিনটি বিল পাসের সময় অষ্টমবারের মতো সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে বিরোধী দল। এর মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়েও বিরোধীদের আপত্তি ছিল। বিলটি পাসের প্রক্রিয়ায় বিরোধিতা করে তারা কক্ষ ছাড়ে। সংসদ ভবন থেকে বের হওয়ার সময় সদস্যরা মুখে কালো কাপড়ও বাঁধেন।

কমিটির বৈঠকও বর্জন

ওয়াকআউটের বাইরে গত ৩০ আগস্ট সংসদীয় কমিটির দুটি বৈঠকও বর্জন করে বিরোধী দল। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল নিয়ে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটির বৈঠক থেকে সদস্যরা বেরিয়ে যান। পরে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটির বৈঠকও তারা বর্জন করেন। বিরোধী দলের বক্তব্য ছিল, সংসদে বিল দুটির বিষয়ে নেওয়া অবস্থানের ধারাবাহিকতাতেই কমিটির বৈঠক বর্জন করা হয়েছে।

ওয়াকআউট থেকে সংসদ বর্জনের পথে?

বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে ওয়াকআউট নতুন কোনো কৌশল নয়। বিভিন্ন সময়ে বিরোধী দল সরকারি সিদ্ধান্ত, নীতি, স্পিকারের রুলিং কিংবা সংসদের কার্যপ্রণালির প্রতিবাদে কক্ষ ছেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এই প্রতিবাদ দীর্ঘমেয়াদী সংসদ বর্জনের রূপও নিয়েছে।

সপ্তম জাতীয় সংসদে (১৯৯৬-২০০১) তৎকালীন বিরোধী দল বিএনপি ও তার মিত্ররা ৩৮৩ কার্যদিবসের মধ্যে প্রায় ১৬৩ কার্যদিবস সংসদ বর্জন ও ওয়াকআউট করেছিল। অষ্টম সংসদে (২০০১-২০০৬) আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থেকে ৩৭৩ কার্যদিবসের মধ্যে ২২৩ দিন সংসদ বর্জন করেছিল। নবম সংসদে (২০০৯-২০১৪) বিরোধী দল ছিল বিএনপি। তারা ৪১৮ কার্যদিবসের মধ্যে ৩৪২ দিন সংসদ বর্জন করেছিল।

সংসদের শুরুর দিনই হট্টগোল, ওয়াকআউটwalkout of Jamat2

তবে ত্রয়োদশ সংসদে এখন পর্যন্ত বিরোধী দলের অবস্থান দীর্ঘমেয়াদী সংসদ বর্জনের পর্যায়ে যায়নি। বরং নির্দিষ্ট ইস্যুতে কক্ষ ত্যাগ, সংসদীয় কমিটির বৈঠক বর্জন এবং পরে অধিবেশনে ফিরে আসার ঘটনাই দেখা গেছে। আটটি ওয়াকআউটের কারণগুলোও এক জায়গায় সীমাবদ্ধ নয়। রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও সংবিধান সংস্কার থেকে শুরু করে বিশেষ কমিটি, আইন প্রণয়ন ও সংসদীয় কমিটির কার্যক্রম–সংসদের বিভিন্ন পর্যায়েই আপত্তি জানিয়েছে বিরোধী দল।

এখন পর্যন্ত সেই আপত্তির প্রকাশ ঘটছে মূলত ওয়াকআউট ও কমিটি বর্জনের মধ্য দিয়ে। এই কৌশল ভবিষ্যতে একইভাবে অব্যাহত থাকে, নাকি তা আরও বিস্তৃত হয়ে সংসদ বর্জনের দিকে যায়–ত্রয়োদশ সংসদের পরবর্তী অধিবেশনগুলোতে সে উত্তর পাওয়া যাবে।

বিশ্লেষকদের চোখে ভবিষ্যৎ

সংসদে ওয়াকআউটকে বিরোধী দলের স্বাভাবিক প্রতিবাদ কর্মসূচি হিসেবে দেখছেন সংসদ ও সংসদীয় রাজনীতি গবেষকরা। তবে এই কর্মসূচি দীর্ঘায়িত হয়ে সংসদ বর্জনের দিকে গেলে তা সংসদীয় রাজনীতির জন্য সমস্যার কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমদ চরচাকে বলেন, “এখন যে পরিস্থিতি চলছে, তাতে অধিবেশন এভাবেই চলতে পারে। বিরোধী দল শুরু থেকেই বলে আসছে, তারা ভেতরে-বাইরে দুই দিকেই সরব থাকবে। আগামী ১৮০ কর্মদিবসের মধ্যে জুলাই সনদ নিয়ে সরকার কোনো পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে। এটা সংসদ বর্জনের দিকে গেলে সেটাকে খারাপ কিছু বলা যাবে।”

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক এবং সংসদ ও সংসদীয় রাজনীতি গবেষক ড. কে এম মহিউদ্দিনও এখন পর্যন্ত ওয়াকআউটকে নেতিবাচকভাবে দেখছেন না। তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত যে ওয়াকআউটের ঘটনাগুলো ঘটছে, এইগুলোকে আমি খুব নেতিবাচকভাবে দেখি না। আমি মনে করি যে, এটা তারা করতেই পারে। কিন্তু আগামীতে যদি ওয়াকআউটটা দীর্ঘায়িত হয়ে সংসদ বর্জনের দিকে যায়, অতীতের পার্লামেন্টগুলোর মতো, তাহলে সেটা আমাদের জন্য একটা সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে।”

তার মতে, বর্তমান ওয়াকআউটগুলোর বড় অংশই আইন প্রণয়ন ও বিল পাসের বিষয়কে কেন্দ্র করে। বিরোধী দলের সংসদীয় সংখ্যা বিবেচনায় তাদের ওয়াকআউটের কারণে বিল পাসের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হওয়ার সুযোগ কম। তাই এই কর্মসূচির মাধ্যমে তারা মূলত নিজেদের অবস্থান জনগণের কাছে তুলে ধরছে। ড. মহিউদ্দিন বলেন, “ওয়াকআউটটা হচ্ছে পাবলিককে জানানো যে, তাদের অবস্থানটা এই এবং এই অবস্থানের কারণে তারা এই আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ না করে প্রতিবাদ হিসেবে ওয়াকআউট করছে।”

তবে ওয়াকআউটের পাশাপাশি সরকারের সঙ্গে বিরোধী দলের রাজনৈতিক টানাপোড়েনও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করেন অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমদ। সরকার পতনের বিষয়ে বিরোধী দলের বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এরই মধ্যে ডিসেম্বর-জানুয়ারির দিকে সরকার পতনের কথা বলা হচ্ছে। ছয় মাস না যেতেই সরকার পতনের কথা বলা–এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্যে সরকারকে উৎখাত করার চেষ্টা কি না, সেই প্রশ্নও রয়েছে।”

বিরোধী দলীয় জোটের সংসদীয় কর্মপন্থা কী হওয়া উচিত, সে ব্যাপারে ধারণা পাওয়া যায় অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমদের কথায়, “জনগণ সরকারকে ৫০ শতাংশের বেশি ভোট দিয়ে ক্ষমতায় থাকার জন্য ম্যান্ডেট দিয়েছে। তাই বিরোধী দলকে আরও ধৈর্যশীল হতে হবে।”

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের ভূমিকার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপক। তার ভাষায়, “বিএনপি (নেতৃত্বাধীন) সরকারগুলোর মধ্যে প্রতিবারই খুব ধীরগতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে। যতক্ষণ পর্যন্ত বাধ্য করা না হয়, ততক্ষণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না–এটি বিএনপির চরিত্রের মধ্যে পড়ে আছে বলে মনে হয়। জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপিকে পরিষ্কার করে বলতে হবে–তারা কী করবে।”

বিষয়: জাতীয় সংসদবিরোধী দলরাষ্ট্রপতিজামায়াতে ইসলামীসংবিধান
সর্বশেষ
  • ১

    সীমান্তে গুলিতে নিহত বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ ফেরত দিলো বিএসএফ

  • ২

    ৩ অধিবেশনে ৮ ওয়াকআউট: কোন পথে হাঁটছে বিরোধী দল?

  • ৩

    প্লাটিলেট আসলে কেন কমে?

  • ৪

    ইউক্রেনের ট্রেনে রুশ ড্রোন হামলা, অল্পের জন্য বেঁচে গেলেন বরিস জনসন

  • ৫

    যে বার্তা দিয়ে শেষ হলো ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন

সম্পর্কিত
  • মিয়ানমারে আবার বাড়ছে আফিমের চাষ, কিন্তু কার স্বার্থে?

    মিয়ানমারে আবার বাড়ছে আফিমের চাষ, কিন্তু কার স্বার্থে?

    লাওস, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডের সীমান্তকে জুড়ে দেওয়া পাহাড়ি বনাঞ্চল ‘গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল’ একসময় ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় আফিম উৎপাদনকারী অঞ্চল। মাদক ব্যবসায়ীরা আফিমের নির্যাসকে বলত ‘কালো সোনা’। এই নির্যাসকেই পরিশোধন করে হেরোইন তৈরি করা হয়।

  • ব্রিকস কি আসলেই পশ্চিমা আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করছে?

    ব্রিকস কি আসলেই পশ্চিমা আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করছে?

    সামগ্রিকভাবে ব্রিকস পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থার সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। বরং এটি বিভিন্ন দেশের নিজেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা বাড়ানোর একটি প্ল্যাটফর্ম। ব্রিকসের নিজস্ব কোনো অভিন্ন মুদ্রা নেই, অভিন্ন শুল্কব্যবস্থা নেই এবং সদস্যদের মধ্যে কোনো পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিও নেই।

  • দুই বছরে ৩ সরকার, রূপালী ব্যাংকের পর্ষদে বদলও ৩ বার

    দুই বছরে ৩ সরকার, রূপালী ব্যাংকের পর্ষদে বদলও ৩ বার

    সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তন আনার যে ধারা তৈরি হয়েছে, রূপালী ব্যাংকেও তার অন্যথা হয়নি। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন কাজী সানাউল হক। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টেই তিনি পদ ছাড়েন। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে চেয়ারম্যানের

  • এবারের ব্রিকস সম্মেলন ঐক্যের মাইলফলক হতে পারে

    এবারের ব্রিকস সম্মেলন ঐক্যের মাইলফলক হতে পারে

    নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে সম্মেলন ঘিরে ভারতের এবারের প্রকাশ্য আয়োজন তিন বছর আগে জি-২০ সম্মেলনের সময়ের মতো জাঁকজমকপূর্ণ নয়। আয়োজন সাদামাটা হলেও সম্মেলনটির গুরুত্ব কমে যায়নি।