
হোয়াইট হাউসের কাছে একটি বন্দুক হামলার ঘটনার পর ওয়াশিংটন সব আফগান অভিবাসন আবেদন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে। এবং এই সিদ্ধান্ত এক মুহূর্তে হাজারো মানুষের ভবিষ্যতকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।

বুধবারের সেই হামলার পর থেকেই পরিস্থিতি ঘোলাটে হতে শুরু করে। তাজিক সরকার হামলাকারীদের প্রতিবেশী দেশের অপরাধী দল হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের অভিযোগ, পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে এরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

আফগানিস্তানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় খোস্ত প্রদেশে একটি বাড়িতে পাকিস্তানি বাহিনীর হামলায় অন্তত নয় শিশু ও এক নারী নিহত হয়েছেন।

এমএসএফ জানিয়েছে, তালেবানের জারি করা এই নির্দেশনা নারীদের চিকিৎসা গ্রহণের পথে বড় বাধা সৃষ্টি করেছে এবং জরুরি রোগী ভর্তি ২৮ শতাংশ কমে গেছে।

জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানান, আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার কারণ, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়ার জন্য ইসলামাবাদ আফগানিস্তানকে জোর করেছিল। তিনি এই দাবিকে আফগানিস্তানের ‘সক্ষমতার’ বাইরে বলে বর্ণনা করেছেন।

আসিফ বলেন, “তালেবান নেতৃত্বকে আমি সন্মান করি, কিন্তু কাবুলে যারা নকশা করছে, তারা দিল্লির নিয়ন্ত্রণে।”তিনি দাবি করেন, ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ছায়া যুদ্ধ করতে চাইছে এবং কাবুলকে ব্যবহার করছে। পাকিস্তান সীমান্তে আগের সংঘর্ষের সময়ও আসিফ তালেবানকে ‘ভারতের গর্ভে বসা’হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, “ইস্তাম্বুলে তৃতীয় দফা আলোচনা চলার সময়, দুর্ভাগ্যবশত আজ বিকেলে পাকিস্তানি বাহিনী আবারও স্পিন বোলদাকের দিকে গুলি চালিয়েছে।”

২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা বেড়েছে। মূল কারণ পাকিস্তানের নিষিদ্ধ সংগঠন তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি), যাদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে আফগান তালেবানের বিরুদ্ধে।

২০২১ সালে ক্ষমতায় আসার পর তালেবান দেশজুড়ে নদী ও খালগুলোর উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বড় আকারের প্রকল্প হাতে নিয়েছে।

আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবেই বিবাদপূর্ণ। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার পর থেকে শুরু, সম্পর্কের টানাপোড়ন চলছে এখনও।