Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
২৭ অক্টোবর, ২০২৬
২৭ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
২৭ অক্টোবর, ২০২৬
২৭ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ | স্বত্ব © চরচা
> ভাবনা

নিউজিল্যান্ড কি সত্যিই শেষ নিরাপদ আশ্রয়?

আবু-নওফেল-সাজিদ

আবু-নওফেল-সাজিদ

প্রকাশ : ২৭ মার্চ ২০২৬, ১৪: ৫৫
নিউজিল্যান্ড কি সত্যিই শেষ নিরাপদ আশ্রয়?

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়েছিল একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে! হ্যাঁ, এটা ঠিক বিশ্বযুদ্ধ কোনো একটি ঘটনা থেকে নয় অনেক ঘটনার সংমিশ্রণের ফলেই এটা। তবে একদম শুরুর দিকেকার কথাই বললাম। কেন এক রাজপুত্রের হত্যাকে ‘তুচ্ছ’ ঘটনা বললাম, তা নিয়ে হয়তো অনেকে বিতর্ক করতে পারবেন। তবে আমার মনে হয় যে, একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেখানে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ বেসামরিক নাগরিক ও ৮৫ লাখ সেনা নিহত হয়, তা নিছকেই এক অযৌক্তিক যুদ্ধ। এরপর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলো, যেখানে জার্মান নাৎসিদের সাথে পরাজয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছিল মিত্র বাহিনী। তবে কে জানত জার্মানি থেকে পড়ালেখা শেষ করে আসা জে রবার্ট ওপেনহেইমারের এক আবিষ্কার প্রচলিত যুদ্ধ কৌশলকে একদম ‘ফুল স্টপ’ বলে দেবে। হ্যাঁ, তার পারমাণবিক বোমা আবিষ্কারের কথাই বলা হচ্ছে।

Advertisement

বোমা দুটির নাম তেমন কঠিন নয়, ‘লিটেল বয়’ ও ‘ফ্যাটম্যান’। তবে জাপান বুঝেছিল সহজ নামের এ বোমা কতটা ভয়ংকর হতে পারে। ১৯৪৫ সালের এক সকালে নিপ্পন নাম খ্যাত দেশটিতে ৬ এবং ৯ আগস্ট বোমা দুটি আঘাত হানে হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে। তারপর কী হলো? বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, হিরোশিমা শহরের সাড়ে ৩ লাখ অধিবাসীর মধ্যে ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ কেবল বোমার বিস্ফোরণেই মারা যায়। আর নাগাসাকিতে মারা যায় ৭৪ হাজার মানুষ।

তবে শুরুর ঘটনা এবং তার পরবর্তী ঘটনায় একটু পার্থক্য রয়েছে। যেখানে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে কোনো পারমাণবিক বোমা ছিল না। তার পরবর্তী ঘটনা তো আরও ব্যাতিক্রম, যেখানে চলমান যুদ্ধ একটু একটু এগোচ্ছিল, তা পরবর্তী হয়তো কয়েক মিনিটেই সমপরিমাণ মানুষ হত্যার জন্য যথেষ্ট ছিল। শুধু পারমাণবিক অংশটাই বেশি ছিল। আর তখন পৃথিবী এগিয়ে গিয়েছিল এবং যুদ্ধও অনেকটা এগিয়ে গিয়েছিল।

কথা হলো–ধান ভানতে শিবের গীত কেন? নিউজিল্যান্ড শেষ আশ্রয় কি না, তার বিচারের সাথে কোথায় হিরোশিমা, নাগাসাকি, আর কোথায় প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ! আছে, সম্পর্ক আছে। এখনো একটি যুদ্ধ চলছে। আর তা মধ্যপ্রাচ্যে। ইতোমধ্যে যুদ্ধে বিভিন্ন দেশের কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। অনেকে এ যুদ্ধ শুরুর সময় থেকেই আরেকটি বিশ্বযুদ্ধের বিপৎসংকেত দিচ্ছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

আগের দুবারের চেয়ে এবারের পরিস্থিতি অনেক ভিন্ন। কেননা পৃথিবীতে এখন স্বীকৃত নয়টি দেশের পারমাণবিক সক্ষমতা রয়েছে, আগে যা ছিল না। আর বর্তমান পরিস্থিতি মাকড়সার জালের চেয়ে কম কিছু নয়। যদি এই জালে একজন আটকায়, তবে হয়তো অন্য দেশগুলোও এতে আটকে যাবে একে একে। তেমনটি হলে কী হবে, ভাবতে পারেন?

অতটা ভাবতে গেলে গা শিউরে উঠবে। বরং সাধারণ মানুষমাত্রই যা করে, তা নিয়ে ভাবাই ভালো। আর তা হলো–নিরাপদ আশ্রয়।

ইরানে স্থল অভিযানের জন্যই কি মধ্যপ্রাচ্যে সেনা তৎপরতা বাড়াচ্ছেন ট্রাম্পdonald trump and army

কল্পনা করুন, দিগন্তজুড়ে মাশরুম ক্লাউড ধেয়ে আসছে! বিশ্বের প্রধান শহরগুলো নিমিষেই ধূলিস্যাৎ হয়ে যাচ্ছে এবং শুরু হচ্ছে এক দীর্ঘস্থায়ী ‘নিউক্লিয়ার উইন্টার’ বা পারমাণবিক শীতকাল। যখন উত্তর গোলার্ধের উন্নত সভ্যতাগুলো তেজস্ক্রীয় ছাইয়ের নিচে চাপা পড়বে, তখন মানচিত্রের এক কোণে পড়ে থাকা সবুজ দ্বীপরাষ্ট্র নিউজিল্যান্ড হতে পারে মানবজাতির টিকে থাকার শেষ বাতিঘর।

অনেকে একে নিছক রূপকথা মনে করলেও আধুনিক ভূ-রাজনীতি এবং জলবায়ু বিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা। পারমাণবিক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নিউজিল্যান্ড কেন বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ স্থান!

ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা

নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে বড় সুরক্ষা কবচ হলো এর ভৌগোলিক অবস্থান। বিশ্বের প্রধান রাজনৈতিক ও সামরিক কেন্দ্রগুলো থেকে দেশটি হাজার হাজার মাইল দূরে অবস্থিত।

২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, নিউজিল্যান্ড ডিফেন্স ফোর্স জানিয়েছে নিউজিল্যান্ডে কোনো বিদেশি সামরিক ক্যাম্প বা ঘাঁটি নেই। তবে ‘মিউচুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম’-এর অংশ হিসেবে অথবা ‘কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজে’ যোগ দেওয়ার জন্য দেশটিতে বিদেশি সামরিক কর্মী অবস্থান করছে।

অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ডে অবস্থিত একমাত্র মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে ক্রাইস্টচার্চে, যা মূলত ট্রানজিট (যাতায়াত) এবং লজিস্টিক সহায়তা প্রদানের জন্য ব্যবহৃত হয়। এখান থেকে সামরিক কোনো কার্যক্রমের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না বা এমন কোনো কাজে অংশগ্রহণ করা হয় না।

তবে পূর্ব অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থিত অস্ট্রেলীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর ঘাঁটিগুলোই প্রযুক্তিগতভাবে নিউজিল্যান্ডের নিকটতম বিদেশি সার্বভৌম অঞ্চল, যেখানে স্থায়ী সেনা স্থাপনা রয়েছে। তবে তা নিউজিল্যান্ডের সীমান্ত থেকে বেশ দূরে।

যেকোনো পারমাণবিক যুদ্ধে প্রধান লক্ষ্যবস্তু হবে মূলত উত্তর গোলার্ধের দেশগুলো। যেমন–যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ইউরোপ। অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ড কোনো সামরিক জোটের এমন কোনো সক্রিয় অংশও নয়, যা তাকে সরাসরি পারমাণবিক লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করবে।

মজার বিষয় নিউজিল্যান্ডের অবস্থান, এর নিকটতম দেশ অস্ট্রেলিয়া থেকেও প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার দূরে। এই দূরত্ব তাকে তেজস্ক্রীয় ‘ফল-আউট’ বা বিষাক্ত ছাই থেকে অনেকটা রক্ষা করবে।

খাদ্য নিরাপত্তা: দুর্ভিক্ষের সময়

পারমাণবিক যুদ্ধের পরে সবচেয়ে বড় সংকট হবে ক্ষুধা। এই সময়টায় বিশ্বজুড়ে ফসল উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে। তবে নিউজিল্যান্ডের চিত্রটা ভিন্ন হতে পারে।

বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা সূচক ২০২২-এর সমীক্ষা অনুযায়ী, খাদ্য নিরাপত্তা বিবেচনায় নিউজিল্যান্ডের অবস্থান ১৪তম। আর পণ্যের প্রাপ্যতার দিক থেকে দেশটির অবস্থান ২২তম। অন্যদিকে সাস্টেইনেবিলিটি ও এডাপশনে বিশ্বের মধ্যে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে দেশটি।

আরেক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২০২৫ সাল নাগাদ খাদ্য ও সূতা রপ্তানি ৬০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে নিউজিল্যান্ড, যা বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খলে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রমাণ দেয়।

নিউজিল্যান্ড ট্রেড অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজের সর্বশেষ তথ্য অনু্যায়ী, গুঁড়ো দুধ, মাখন, পনিরসহ দুগ্ধজাত পণ্য রপ্তানিতে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থা্নে রয়েছে দেশটি। তাদের উৎপাদিত দুগ্ধজাত পণ্যের ৯৫ শতাংশ বিদেশে রপ্তানি হয়। উচ্চমানের খাদ্য, বিশেষ করে মাংস ও দুগ্ধ খাতে নিউজিল্যান্ড বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত এবং খ্যাতির দিক থেকে তারা প্রায়ই ইউরোপের শীর্ষ উৎপাদক দেশগুলোর সাথে পাল্লা দেয়।

নিউজিল্যান্ড বর্তমানে তার নিজের চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি খাদ্য উৎপাদন করে। তারা কোটি কোটি মানুষের জন্য দুগ্ধজাত পণ্য, মাংস এবং শস্য রপ্তানি করে। যদি বিশ্ব বাণিজ্য সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়, তবুও নিউজিল্যান্ডের অভ্যন্তরীণ কৃষি ব্যবস্থা তাদের জনগণকে কয়েক প্রজন্ম ধরে অনায়াসে খাইয়ে রাখার ক্ষমতা রাখে।

ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আমেরিকার আর্থিক আধিপত্যের সংকটiran-war

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ

আধুনিক সভ্যতা বিদ্যুৎহীন অবস্থায় অচল। যুদ্ধের পর যখন তেল ও গ্যাসের বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে, তখন নিউজিল্যান্ডের রিনিউয়েবল এনার্জি বা নবায়নযোগ্য জ্বালানি হবে তার মেরুদণ্ড।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যবসা, ইনোভেশন এমপ্লয়মেন্টের মন্ত্রাণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালে নিউজিল্যান্ডের মোট প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহের ৪৫ দশমিক ৫ শতাংশ এসেছে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে। ২০২৩ সালের তুলনায় ১৬ দশমিক ১ পেটাজুল (পিজে) বেড়ে ২০২৪ সালে মোট নবায়নযোগ্য জ্বালানির সরবরাহ দাঁড়িয়েছে ৩৭৯ পেটাজুলে। বলে রাখা ভালো–এক পিটাজুল ২৭৭.৭৭ গিগাওয়াট ঘণ্টা। হাইড্রো (জলবিদ্যুৎ) ও তরল জৈব জ্বালানি বাদে প্রায় সব ধরনের নবায়নযোগ্য জ্বালানির সরবরাহ বেড়েছে। এর মধ্যে ভূ-তাপীয়, সৌর ও বায়ু শক্তি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।

মোট প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ২০২৩ সালের ৪২ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৪ সালে ৪৫ দশমিক ৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং অনবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন হ্রাসের সম্মিলিত প্রভাবে এই পরিবর্তন এসেছে। যেখানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন প্রায় সাড়ে ৪ শতাংশ বেড়েছে (৩৬৩ পিজে থেকে ৩৭৯ পিজে), সেখানে অনবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন ৫ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। এ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানির সরাসরি ব্যবহার বেড়েছে ৪ শতাংশের বেশি, যার মূল চালিকাশক্তি ছিল শিল্প খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়া।

নবায়নযোগ্য শক্তি। ছবি: পেক্সেলস
নবায়নযোগ্য শক্তি। ছবি: পেক্সেলস

ঘূর্ণিঝড় গ্যাব্রিয়েলের প্রভাবে গত ৩০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামার পর কঠিন জৈব জ্বালানি উৎপাদন কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। নেপিয়ারের কাছে প্যান প্যাক-এর হোয়াইরিনাকি সাইটটি ঘূর্ণিঝড়ের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পরে ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে চিপ মিল, করাতকল, পাল্প মিলের মতো প্রধান স্থাপনাগুলো পর্যায়ক্রমে পুনরায় চালু করা হয়েছে।

নিউজিল্যান্ডে ব্যবহৃত এক প্রকার কঠিন জৈব জ্বালানি হলো কাঠের অবশিষ্টাংশ, যা মূলত করাতকল ও পাল্প উৎপাদনের উপজাত হিসেবে তৈরি হয় এবং সাধারণত অন-সাইটেই ব্যবহৃত হয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কাঠের অবশিষ্টাংশের ব্যবহার কমার প্রবণতা দেখা দিচ্ছে।

মজার বিষয়, নিউজিল্যান্ডের বিদ্যুৎ চাহিদার ৮০ শতাংশের বেশি আসে জলবিদ্যুৎ এবং ভূ-তাপীয় উৎস থেকে। এর মানে হলো–বাইরের বিশ্ব থেকে জ্বালানি আমদানি বন্ধ হলেও সেখানে বাতি জ্বলবে এবং কারখানা চলবে।

জলবায়ুর প্রভাব

পারমাণবিক বিস্ফোরণের ফলে বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে যে পরিমাণ কালো ধোঁয়া ও ছাই জমা হবে, তা সূর্যের আলোকে কয়েক বছরের জন্য ঢেকে দিতে পারে। একে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় নিউক্লিয়ার উইন্টার।

নিউজিল্যান্ড একটি দ্বীপরাষ্ট্র হওয়ায় সমুদ্রের বিশাল জলরাশি তার তাপমাত্রাকে খুব দ্রুত নামতে দেবে না। স্থলাবেষ্টিত দেশগুলোর তুলনায় নিউজিল্যান্ডে ঠান্ডার প্রকোপ কিছুটা সহনীয় থাকবে, যা কৃষি কাজ চালিয়ে নিতে সাহায্য করবে।

নিউজিল্যান্ডের নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক আন্তর্জাতিক গবেষণা করা হয়েছে। নিউজিল্যান্ডের ওটাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক অধ্যাপক নিক উইনসন এবং ম্যাট বয়েড তাদের গবেষণায় দেখিয়েছেন, পারমাণবিক যুদ্ধ পরবর্তী পৃথিবীতে টিকে থাকার জন্য নিউজিল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়া সবচেয়ে উপযুক্ত জায়গা। তাদের মতে, নিউজিল্যান্ডের খাদ্য ও জ্বালানি স্বয়ংসম্পূর্ণতা একে এক নম্বর ‘লাইফবোট’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

অন্যদিকে ন্যাচার ফুড (২০২২) জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, একটি পূর্ণমাত্রার পারমাণবিক যুদ্ধের ফলে বিশ্বে প্রায় ৫০০ কোটি মানুষ না খেয়ে মারা যেতে পারে। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের মতো দেশগুলো তাদের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে কৃষি উৎপাদনে ন্যূনতম ক্ষতির সম্মুখীন হবে।

প্রকৃতি। ছবি: পেক্সেলস
প্রকৃতি। ছবি: পেক্সেলস

সংক্ষেপে বলতে গেলে, পারমাণবিক যুদ্ধের হাত থেকে শতভাগ মুক্তি পাওয়া অসম্ভব। তবে বিজ্ঞানের তথ্য-উপাত্ত এবং ভৌগোলিক কৌশল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় নিউজিল্যান্ডের টিকে থাকার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। সেখানে কেবল জীবনই বাঁচবে না, বরং সমাজ ব্যবস্থাকে পুনরায় গড়ে তোলার মতো পর্যাপ্ত রসদও মজুত থাকবে। পারমাণবিক যুদ্ধ কবে হবে, তা হয়তো কেউ জানে না। তবে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে নিউজিল্যান্ড হয়তো অন্য দেশের থেকে বেশি আনন্দদায়ক হবে। যেখানে হয়তো কোনো নতুন কবি জন্ম নেবেন এবং নতুন ভাষায় লিখবেন ‘ধন ধান্য পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা’।

বিষয়: জ্বালানিখাদ্যনিরাপত্তাবিজ্ঞানবিশ্বযুদ্ধজলবায়ুযুদ্ধদুর্ভিক্ষনিউজিল্যান্ড
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে হামলার দাবি হুতিদের

  • ২

    ঘুম ও বিষণ্নতা জড়িয়ে আছে আষ্টেপৃষ্ঠে

  • ৩

    ‘কার্বন ট্রেডিংয়ে প্রায় ৩০টা প্রকল্প চলছে’

  • ৪

    ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে এসি থেকে ডিসি হবেন, বাংলাদেশে থাকতে পারবেন না’

  • ৫

    প্রিমিয়ার ব্যাংকের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত

সম্পর্কিত
  • একজন মুক্তিযোদ্ধার অসম্মান: তাসনিম জারার প্রশ্ন ও বিএনপির নীরবতা

    একজন মুক্তিযোদ্ধার অসম্মান: তাসনিম জারার প্রশ্ন ও বিএনপির নীরবতা

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ছবি ভেসে বেড়াচ্ছে। মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত জামায়াতে ইসলামীর নেতা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর মামলার বাদী মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে দাফন করার লোক পাওয়া যায়নি। বাধ্য হয়ে রাতের অন্ধকারে তার বোন ও মেয়ে কবর খোঁড়ার কাজটি করছেন মুঠোফোনের আলোয়।

  • সাদা ছড়ি হাতে, পথটা কি নিরাপদ?

    সাদা ছড়ি হাতে, পথটা কি নিরাপদ?

    একদিন রিকশায় করে বাসস্ট্যান্ডের কাছাকাছি নামলাম। আমার বাস ধরতে হবে। কিন্তু রিকশাচালক আমাকে এমন এক জায়গায় নামিয়ে দিলেন, যেখান থেকে ঠিক কোন দিকে গেলে বাসস্ট্যান্ড পাব, বুঝতে পারছিলাম না। হাতে আমার সাদা ছড়ি।

  • মবলাভারের দেশে মব কমবে কীসে!

    মবলাভারের দেশে মব কমবে কীসে!

    কখনও পিটিয়ে মেরে ফেলার ডাক দেওয়া হচ্ছে। কখনও পিটিয়ে মেরেই ফেলা হচ্ছে। কখনও শুধু মেরে ফেলেই শান্ত হওয়া হচ্ছে না, বরং মৃত ব্যক্তির লাশকেও আগুনে পোড়ানো হচ্ছে। আমাদের দেশে এই ধারাবাহিকতায় নতুন যে সংযুক্তি সেটি হলো, একেবারে সমাবেশ করে প্রকাশ্যে মব করার হুমকি দেওয়া!

  • কার সঙ্গে কার আঁতাত

    কার সঙ্গে কার আঁতাত

    আমরা ভেবেছিলাম, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর আঁতাতের রাজনীতি চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। আঁতাত মানে ষড়যন্ত্রের রাজনীতি। আঁতাত মানে প্রকাশ্যে এক কথা বলে তার বিপরীতে কাজ করার রাজনীতি। উদ্বেগের কথা হলো নির্বাচিত সরকারের আট মাসের মাথায়, রাজনৈতিক আঁতাতের কথাটি জোরেশোরে উচ্চারিত হচ্ছে।