Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> ভাবনা

আবারও পীর হত্যা, আবারও মব সংস্কৃতি!

সোহরাব হাসান

সোহরাব হাসান

প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২১: ৪৪
আবারও পীর হত্যা, আবারও মব সংস্কৃতি!

আমরা কি সভ্য দুনিয়ায় আছি, না আইয়ামে জাহেলিয়াতের যুগে?

Advertisement
Advertisement
Advertisement

যদি সভ্য দুনিয়ায় থাকি, আইনকানুন অনুয়ায়ী সব কিছু চলার কথা। একজন আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ করলে তার বিচার হবে। কিন্তু কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারবে না। আর যদি আমরা আইয়ামে জাহেলিয়াতের যুগে ফিরে যাই, তাহলে অন্য কথা। কারও মনে হলো অমুক আমার বিরোধী মতের, অতএব তাকে কতল করতে হবে। সভ্য দুনিয়ায় এসব চলতে পারে না।

৩০ মার্চ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করলেন, বাংলাদেশে কোনো ধরনের ‘মব’ সংস্কৃতি থাকতে দেওয়া হবে না। কিন্তু দুই সপ্তাহ না যেতেই আমরা দেখলাম মব সংস্কৃতি বা সংঘবদ্ধ সহিংসতার ঘটনা ঘটছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। সর্বশেষ উদাহরণ কুষ্টিয়া। শনিবার জেলার দৌলতপুরের ফিলিপনগরে পুরোনো একটি ভিডিও সামনে এনে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে শামীম জাহাঙ্গীর নামে এক পীরকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে সংঘবদ্ধ একটি দল।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, শামীম পবিত্র কোরআন সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন– কয়েক বছর আগের ৩০ সেকেন্ডের এমন একটি ভিডিও শুক্রবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর আবেদের ঘাট এলাকায় কয়েক শত লোক জড়ো হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, অল্প বয়স্ক বেশ কিছু তরুণ লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পীরের দরগায় হামলা করে শামীম জাহাঙ্গীরকে হত্যা করে। ধারণা করা যায়, এর পেছনে প্রভাবশালী মহলের উসকানি আছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ১৮ মিনিটের একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, গ্রামের পাকা সড়কে শতাধিক মানুষ স্লোগান দিয়ে শামীমের দরবারের দিকে যান। মিছিলে থাকা লোকজনের একটি অংশ তার দরবারের একতলা দুটি পাকা ভবন ও একটি টিনশেড ঘরে ঢুকে পড়ে। তারা ভবনের ছাদসহ ঘরগুলোতে ভাঙচুর চালায় ও আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, হামলায় পাঁচ থেকে সাতজন আহত হয়েছে। অন্যরা দৌঁড়ে চলে যায়।

কুষ্টিয়ায় আস্তানায় হামলা করে ‘পীর’কে হত্যাkushtia

শামীম জাহাঙ্গীর ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারী। তিনি ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন। পরে ফিলিপনগর উচ্চবিদ্যালয় থেকে ১৯৮৪ সালে এসএসসি, কুমারখালী ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ভেড়ামারা কলেজ থেকে বি. কম পাস করেন। পরে রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে এম. কম সম্পন্ন করেন। শিক্ষাজীবন শেষে কেরানীগঞ্জ এলাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেন শামীম। পরে চাকরি ছেড়ে কেরানীগঞ্জের গোলাম-এ-বাবা কালান্দার জাহাঙ্গীর সুরেশ্বরীর মুরিদ হন এবং সেখানে খাদেম হিসেবে বসবাস শুরু করেন। ২০১৮ সালের দিকে পৈতৃক বাড়িতে এসে তিনি নিজে একটি দরবার বা দরগাহ গড়ে তোলেন। এই দরবারে প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে গানবাজনা হতো।

তাহলে কি যারা গানবাজনা পছন্দ করতেন না, তারাই পীরের দরগায় হামলা চালিয়েছেন? সমাজে গান বাজনা পছন্দ করার মানুষ যেমন আছেন, তেমনি পছন্দ করেন না এমন মানুষও আছেন। সেই স্বাধীনতা তাদের আছে। কিন্তু তারা অন্যের গান বাজনা বন্ধ করতে দরগায় হামলা চালাতে পারেন না।

যদি পীরের কোনো বক্তব্য নিয়ে স্থানীয়দের আপত্তি থাকে, তারা আইনের আশ্রয় নিতে পারতেন। কিন্তু সেসব না করে কয়েক বছর আগের পুরোনো ভিডিও সূত্র ধরে একজন মানুষকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা আমাদের আইয়ামে জাহেলিয়াতের কথা মনে করিয়ে দেয়।

প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

শামীম হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যম্পাসে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট বিক্ষোভ করেছে। বিবৃতি দিয়ে প্রতিবাদ করেছে গণসংহতি আন্দোলন, জাতীয় নাগরিক পার্টি, এবি পার্টি, উদীচী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও সুফি সমাজকেন্দ্রিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘মাকাম’সহ নানা সংগঠন।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে একের পর এক মবের ঘটনা ঘটে। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই বছর গণপিটুনি বা ‘মব সন্ত্রাসের’ শিকার হয়ে প্রাণ গেছে ১৯৭ জনের। আগের বছর সংখ্যাটি ছিল ১২৮। ওই সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তারা মব সংস্কৃতি তথা মাজার, দরগাহে হামলাকে উসকানি দিয়েছেন। কিন্তু এখন তো অন্তর্বর্তী সরকার নেই। নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। তারপরও যত্রতত্র মবের ঘটনা কেন?

মবের শাসনই তাহলে প্রকৃত শাসন!mob lyncing 2

এখানে স্পষ্ট করে বলতে চাই, কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করাকে আমরা সমর্থন করি না। সংবিধানের মূলনীতিতে রাষ্ট্রের সব ধর্মের সমঅধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। প্রচলিত আইনে ধর্ম অবমাননা শাস্তিযোগ্য অপরাধ, যার মধ্যে প্রধান হলো ১৮৬০ এর ধারা ২৯৫ থেকে ২৯৮, যাতে ইচ্ছেকৃত ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার জন্য সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান আছে।

কুষ্টিয়ায় ‘পীরকে’ পিটিয়ে হত্যায় আসকের নিন্দাain O salish

পীরের দরগাহ, মাজার ও খানকায় হামলার পেছনে নিছক ধর্মীয় কারণ থাকে না। ব্যক্তিগত ও সামাজিক বিরোধ, জমি দখলের মতো ঘটনাও থাকে। পীরের আস্তানা ভেঙে দিতে পারলে জায়গাটি দখল করা যাবে, এই মানসিকতা নিয়েও অনেক সময় আক্রমন চালানো হয়।

সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কবি ও ভাবুক ফরহাদ মযহারও মাজার-পীরের দরগাহের প্রসঙ্গটি এনেছেন। তিনি বলেছেন, “আমি মাজারে যাব নাকি অন্য কোথাও, এটা আমার গণতান্ত্রিক অধিকার। মাজার ভাঙা ইসলামের চিন্তার মধ্যে পড়ে না। যারা মাজার ভাঙে, তারা কোনো ধর্মের লোক হতে পারে না। তারা অপরাধী। তাদের শাস্তি পেতেই হবে।”

বিভিন্ন এলাকায় মাজার ভাঙা প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, “মাজারকে যখন আপনি ভাঙতে যান, এটা ফৌজদারি অপরাধ, এটা ইসলামের দৃষ্টিতে অপরাধ। কারণ, আমি একমাত্র সঠিক ধর্ম করি, আর অন্যেরটা মিথ্যা-ভুল, এটা বিচার করার ক্ষমতা আল্লাহ মানুষকে দেননি। মাদ্রাসার খারাপ কাজের জন্য আমরা কি কখনো মাদ্রাসা বন্ধ করতে বলেছি? তাহলে মাজারে যদি কোনো খারাপ কাজ হয়ে থাকে তাহলে বলুন, ওটা বন্ধ করা হবে, সংশোধন করা হবে। কিন্তু মাজার যখন আপনারা ভাঙেন তখন এটা ইসলামের চিন্তার মধ্যে পড়ে না।”

যা ইসলামের চিন্তার মধ্যে পড়ে না, সেটাই স্বার্থান্বেষীরা করে থাকেন ব্যক্তি ও গোষ্ঠী স্বার্থের কারণে। এদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক জাগরণও জারি রাখতে হবে। অন্যথায় অন্য কোনো অজুহাতে অন্য কোনো মানুষকে সহিংসতার শিকার হতে হবে, যা সভ্য সমাজে কখনোই কাম্য নয়।

লেখক: সম্পাদক, চরচা

বিষয়: ধর্ম ও জীবননিহতহামলাসরকারকুষ্টিয়ামব
সর্বশেষ
  • ১

    ছোট একটি ডাল থেকে লাখ টাকার বনসাই

  • ২

    জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বেসরকারি কনটেইনার ডিপোতে বাড়লো চার্জ

  • ৩

    সালাহউদ্দিন–চুন্নুদের জেল কেন দিয়েছিল সামরিক আদালত?

  • ৪

    অপ্রতিম-আজমল-মরিয়মরা কেন ঝরে যায়?

  • ৫

    নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সম্পর্কিত
  • গ্যাসের ওপর ভাসা থেকে গ্যাস সংকটের দেশ: পোড়া দেশলাই কাঠির ট্র্যাজেডি

    গ্যাসের ওপর ভাসা থেকে গ্যাস সংকটের দেশ: পোড়া দেশলাই কাঠির ট্র্যাজেডি

    ১৯৬০-এর দশকের শেষদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স পড়ার সময় তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ঢাকার শ্রেণিকক্ষ থেকে শুরু করে চীনা রেস্তোরাঁ পর্যন্ত একটি স্বস্তিদায়ক মিথ ছড়িয়ে ছিল। বলা হতো, দেশটি এত বিপুল প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর ভাসছে যে, আগামী ১৫০ বছর অনায়াসে আমাদের ভবিষ্যৎ জ্বালানি চাহিদা মেটানো

  • মানুষ অপরাধী হয়ে জন্মায়, নাকি সমাজ গড়ে তোলে?

    মানুষ অপরাধী হয়ে জন্মায়, নাকি সমাজ গড়ে তোলে?

    একই মহল্লার আলো-আঁধারি গলি ছুঁয়ে বেড়ে ওঠা দুই বালকের গল্প দিয়ে শুরু করা যাক। তাদের শৈশব কেটেছে একই চেনা ধূসর পথ ধরে। জীর্ণ স্কুলের একই ভাঙা বেঞ্চে বসে তারা পাশাপাশি বিদ্যা কুড়িয়েছে, মাথার ওপর ছিল একই রকম সামাজিক অনটন ও টানাপোড়েন। অথচ পনেরো বছর পর দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ছবি।

  • একেকটি ঘটনা একেকটি বেদনার গল্প

    একেকটি ঘটনা একেকটি বেদনার গল্প

    অপ্রতীমের মৃত্যুতে সমস্ত দেশ শোকে স্তব্ধ হলেও আমাদের রাজনীতিকদের চৈতন্ন্যোদয় হয়েছে বলে মনে হয় না। ক্ষমতাসীনেরা সবকিছু ঠিক আছে বলে জনগণকে সান্ত্বনা দেবে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের ধরার বাহবাও নিতে চাইবে।

  • চিকিৎসকের দেওয়া টেস্ট রিপোর্ট দেখতেও আবার ফি!

    চিকিৎসকের দেওয়া টেস্ট রিপোর্ট দেখতেও আবার ফি!

    প্রথম পরামর্শে চিকিৎসক নিজেই যদি রোগ নির্ণয়ের জন্য পরীক্ষা দেন এবং সেই পরীক্ষার রিপোর্ট না দেখা পর্যন্ত তার ক্লিনিক্যাল সিদ্ধান্ত অসম্পূর্ণ থাকে, তাহলে অতি অল্প সময়ের মধ্যে সেই রিপোর্ট দেখা কি নতুন পরামর্শ, নাকি আগের ‘পরামর্শের পরিপূর্ণতা’?