Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
২৯ অক্টোবর, ২০২৬
২৯ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
২৯ অক্টোবর, ২০২৬
২৯ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ | স্বত্ব © চরচা
> ভাবনা

এইটিজের ফ্যাশনে মেতে পরিবেশের কী ক্ষতি করছেন জানেন?

সুব্রত শুভ্র

সুব্রত শুভ্র

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫: ৫২
এইটিজের ফ্যাশনে মেতে পরিবেশের কী ক্ষতি করছেন জানেন?
ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

আজ সকালে আমার বন্ধু বলছিল, ফেসবুক খুললেই সবাই ট্রেন্ডে গা ভাসিয়ে ৮০’র দশকের মতো করে ছবি দিচ্ছে। জানতে চাইছিল–এসব নিয়ে আমার মতামত কী?

Advertisement

আমি বললাম, “আমরা এমন একটা অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। আমরা সবদিক থেকে; যেমন–বিদ্যুৎ নাই, গ্যাস নাই, বাজার মূল্য অনিয়ন্ত্রিত, চাঁদাবাজি, লং মার্চ, ফুটপাত দখল, বাচ্চা হারানো, ছিনতাই, খুন, ধর্ষণ, বেকারত্ব, কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া–এ রকম নানা সমস্যা ঢেকে রাখার জন্য বিভিন্ন রকমের সামাজিক নতুন নতুন ইস্যু তৈরি করা হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়াতে মানুষ আবার এসব নিয়ে সরবও থাকছে। পাশাপাশি মানুষ এতে ক্লান্তও হয়ে পড়ছে। এই মুহূর্ত মানুষ বিশেষ করে এমন সময়ে ফিরতে চাইছে কাল্পনিকভাবে, যখন জীবন ছিল সহজ বা সুখের স্মৃতিতে ভরা। মানুষ স্বভাবতই অতীতের প্রতি আকৃষ্ট হয়। ৮০’র দশক অনেকের কাছে পরিবার, সিনেমা, সংগীত এবং সংস্কৃতির একটি স্বর্ণযুগ হিসেবে বিবেচিত হয়। এই ট্রেন্ডের মাধ্যমে মানুষ হয়তো নস্টালজিক সেই সময়ের সুখস্মৃতিতে যাওয়ার কাল্পনিক চেষ্টা করছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

ব্যাপারটা এ রকম যে, আমি যদি ৮০’তে থাকতাম, তবে কেমন হতাম! এর মধ্য দিয়ে মানুষ নিজেকে ভিন্ন সময়ে কল্পনা করছে। একজন আরেকজন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ছড়িয়ে দিচ্ছে এ ধারণা।”তবে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপার হলো–এরা জানে না যে, এই ট্রেন্ড ফলো করতে গিয়ে তারা বিশুদ্ধ পানির মারাত্মক অপচয় করছে এবং পরিবেশের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। জেনারেটিভ এআই–এমন একটি প্রযুক্তি, যা বিশাল ডেটা শিখে নতুন করে লেখা, ছবি, ভিডিও বা শব্দ তৈরি করতে পারে। প্রথাগত এআই নির্দিষ্ট কাজ করে (যেমন আবহাওয়া পূর্বাভাস), কিন্তু জেনারেটিভ এআই ক্রিয়েটিভ কাজ করে–যেমন ChatGPT দিয়ে লেখা বা ছবি তৈরি। এই সৃজনশীল কাজের প্রয়োজনে আমাদের অনেকেই জেনারেটিভ এআই-এর প্রতি অতিনির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ক্রিয়েটিভ সেক্টরে। জেনারেটিভ এআই খুব শক্তিশালী টুল। কিন্তু এর পরিবেশগত খরচও অনেক। প্রতিটি প্রম্পট বা নির্দেশনার পেছনে লুকিয়ে আছে বিদ্যুৎ, পানি ও কার্বন নিঃসরণের খরচ। ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে ডেটা সেন্টারগুলো আনুমানিক ২২২ বিলিয়ন লিটার বিশুদ্ধ পানি নষ্ট করেছে।

আশির দশকের ছবির ট্রেন্ড: চ্যাটজিপিটিতে নিজের ছবি আপলোডে ঝুঁকি কতটা? openai

গবেষকদের আশঙ্কা, ২০৩০ সালের মধ্যে এই পানির চাহিদা তিনগুণ বেড়ে ৬৪৪ বিলিয়ন লিটারে পৌঁছাতে পারে, যা প্রায় ১৩০ কোটি মানুষের বার্ষিক পারিবারিক পানির চাহিদার সমান! প্রতি বছর প্রায় ২৫ থেকে ৫০ লাখ টন অতিরিক্ত ই-বর্জ্য তৈরি করছে। একটি সাধারণ এআই টেক্সট প্রম্পটের ক্ষেত্রে ১ গ্রাম থেকে ৪ বা ৫ গ্রাম পর্যন্ত কার্বন নির্গত হতে পারে। বিদ্যুৎ খরচের হিসাবে ৩৫-৪০টি এআই টেক্সট প্রম্পট ব্যবহার করলে একটি স্মার্টফোন সম্পূর্ণ চার্জ দেওয়ার সমান শক্তি খরচ হয়।

ছবি তৈরি করাটা এআই-ভিত্তিক কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি কাজ। এতে প্রচুর শক্তি ও কার্বন নিঃসরণ জড়িত। এআই-এর মাধ্যমে একটি হাই-ডেফিনিশন ছবি তৈরি করতে যে পরিমাণ শক্তি খরচ হয়, তা একটি স্মার্টফোনের অর্ধেক চার্জের সমান হতে পারে। ১,০০০টি ছবি তৈরিতে যে পরিমাণ কার্বন উৎপন্ন হয়, তা একটি সাধারণ পেট্রোল-চালিত যাত্রীবাহী গাড়ি ৪.১ মাইল চালালে নিঃসরিত কার্বনের সমপরিমাণ।

এআই ভিডিওর ক্ষেত্রে একটি মাত্র ৫ থেকে ৬ সেকেন্ডের ভিডিও ক্লিপ তৈরিতে প্রায় ৫০ থেকে ১৫০ গ্রাম এবং ক্ষেত্রবিশেষে ৫০০ গ্রাম পর্যন্ত কার্বন নির্গত হতে পারে। প্রায় এক কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ এবং সার্ভার ঠান্ডা রাখতে প্রায় ৪ লিটার পানি বাষ্পীভূত হতে পারে। মাত্র ৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপ জেনারেট করতে যে বিদ্যুৎ লাগে, তা দিয়ে বাড়িতে একটি এয়ার ফ্রায়ার বা মাইক্রোওয়েভ ওভেন ৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা পর্যন্ত চালানো সম্ভব।

আবার এআই-এর মাধ্যমে ছবি তৈরির তুলনায় এআই-এর মাধ্যমে টেক্সট বা লেখা তৈরিতে উল্লেখযোগ্যভাবে কম শক্তির প্রয়োজন হয়। সবচেয়ে কম কার্বন-নিঃসরণকারী টেক্সট মডেলটি ছবির তুলনায় ৬,৮৩৩ গুণ কম কার্বন উৎপন্ন করে এবং ১,০০০টি টেক্সট-ভিত্তিক অনুসন্ধানের জন্য একটি স্মার্টফোনের সম্পূর্ণ চার্জের মাত্র ৯ শতাংশ শক্তি খরচ হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা উন্নত ডেটা অ্যানালিটিক্স–এবং স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিবেশের ওপর এর প্রভাবের একটি অঙ্গরাজ্যভিত্তিক চিত্র তৈরি করেছেন। গবেষণায় পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে যে, ২০৩০ সালের মধ্যে এআই-এর বর্তমান প্রবৃদ্ধির হার অব্যাহত থাকলে প্রতি বছর বায়ুমণ্ডলে ২৪ থেকে ৪৪ মিলিয়ন মেট্রিক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হবে। এই পরিমাণটি যুক্তরাষ্ট্রের রাস্তায় অতিরিক্ত ৫ থেকে ১০ মিলিয়ন গাড়ি নামানোর ফলে সৃষ্ট নির্গমনের সমান। এআই-এর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ফলে এ বছর ৭৩০ থেকে ১,১২৫ মিলিয়ন ঘনমিটার বিশুদ্ধ পানি খরচ হতে পারে, যা ৬০ লাখ থেকে ১ কোটি মানুষের বার্ষিক গৃহস্থালি পানি ব্যবহারের সমান, যা অস্ট্রিয়ার মতো একটি ছোট দেশের মোট জনসংখ্যার সমান।

বিশ্বে দ্রুততম হারে বেড়ে চলা বর্জ্যের উৎসগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ই-বর্জ্য; আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এই ক্রমবর্ধমান বর্জ্যের স্তূপে আরও আবর্জনা যুক্ত করে পরিবেশের ক্ষতি বাড়িয়ে তুলছে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, জেনারেটিভ এআই-এর কারণে সৃষ্ট ই-বর্জ্যের পরিমাণ দ্রুতগতিতে বেড়ে ২০৩০ সালের মধ্যে ১ কোটি ৬০ লাখ টনে পৌঁছাতে পারে। (রিসার্চ স্কয়ার, ২০২৪)

পরিবেশের ওপর জেনারেটিভ এআই-এর নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়ে প্রচুর প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও, ২৪ শতাংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রমে জেনারেটিভ এআই যুক্ত করেছে (২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী) এবং এই সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। অথচ, জেনারেটিভ এআই ব্যবহারকারী নির্বাহীদের মধ্যে মাত্র ১২ শতাংশের ব্যবহারের ফলে পরিবেশের ওপর কী প্রভাব পড়ছে, তা পরিমাপ করছেন। জেনারেটিভ এআই-এর প্রভাবের কারণে ৪২ শতাংশ নির্বাহী তাদের আগে থেকে নির্ধারিত জলবায়ু বিষয়ক লক্ষ্যমাত্রাগুলো পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হচ্ছেন। (ক্যাপজেমিনি, ২০২৫)এমনিতেই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ তাদের কার্বন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ গত দুই বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো বেড়েছে, যার হার ২ দশমিক ৪ শতাংশ। এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো–জেনারেটিভ এআই-এর ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে ডেটা সেন্টারগুলো বিপুল শক্তি খরচ করছে। এ কারণে এর ব্যাপক বিস্তারের ফলে একটি নতুন উদ্বেগও সামনে আসছে। এই ডেটা সেন্টারগুলো তাদের চারপাশে ‘হিট আইল্যান্ড’ বা ‘তাপীয় দ্বীপ’ (অস্বাভাবিক উষ্ণ এলাকা) তৈরি করতে পারে, যা আশপাশের এলাকার তাপমাত্রা ১৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে আগে থেকেই কষ্টে থাকা ৩৪ কোটিরও বেশি মানুষের জীবন আরও উষ্ণ ও দুর্বিষহ হয়ে উঠতে পারে। (আন্দ্রেয়া মারিনোনি, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়, ২০২৬–এখনও পিয়ার-রিভিউ বা বিশেষজ্ঞ-পর্যালোচনা হয়নি)

খবর জানতে বাড়ছে এআই-চ্যাটবটের ব্যবহার, কী প্রভাব পড়তে পারে?ai (1)

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর পক্ষে প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তি দেয়, এটি নবায়নযোগ্য শক্তির মতো জলবায়ুবান্ধব বিকল্পগুলোর কার্যকারিতা বাড়িয়ে কার্বন নিঃসরণ কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে এর অন্ধকার দিকটি ভয়াবহ। এআই-এর (যার মধ্যে জেনারেটিভ এআই-ও অন্তর্ভুক্ত) মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ফলে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে যে পরিমাণ দূষণ বাড়ে (যা পৃথিবীকে উত্তপ্ত করে), তা নবায়নযোগ্য শক্তির মাধ্যমে রোধ করা দূষণের চেয়ে অনেক বেশি। যদি উভয় খাতেই একই হারে এআই ব্যবহার হয়, তবে বার্ষিক নিট বৈশ্বিক নিঃসরণ শূন্য দশমিক ৪৭ থেকে ১ দশমিক ৮ গিগাটন কার্বন ডাই-অক্সাইড পর্যন্ত বাড়তে পারে। এটি জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহারের কারণে বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণের প্রায় ১ দশমিক ২ থেকে ৪ দশমিক ৮ শতাংশের সমান। জীবাশ্ম জ্বালানি আহরণ প্রক্রিয়াকে দ্রুত ও সাশ্রয়ী করার ফলে সৃষ্ট এই ‘অতিরিক্ত নিঃসরণ’-এর পরিমাণ এআই ডেটা সেন্টার থেকে বর্তমান নিঃসরণের তুলনায় ৩ দশমিক ৩ থেকে ১৩ দশমিক ৩ গুণ বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। (ক্লাইমেট অ্যাকশন, ২০২৬)

genAI

দিল্লির ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’-এ প্রকাশিত ২০২৬ সালের একটি প্রতিবেদনে জলবায়ু সংকটের সমাধানে এআই-এর ভূমিকা বিষয়ক দাবিগুলো যাচাই করা হয়েছে। এতে জেনারেটিভ এআই নিঃসরণ কমাচ্ছে–এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং জলবায়ু বিষয়ক লেখক, বিশ্লেষক ও প্রবক্তা কেতন জোশি ২০২৬ এ বলেছেন, “এআই নিয়ে করা দাবিগুলো বিতর্ককে বিভ্রান্ত করছে; কারণ, জেনারেটিভ এআই এবং এলএলএম-কে প্রথাগত এআই ও মেশিন লার্নিংয়ের (যেগুলোর সম্ভাবনা বেশি) সাথে গুলিয়ে ফেলা হচ্ছে।” প্রতিবেদনে এমন একটি উদাহরণও পাওয়া যায়নি, যেখানে জনপ্রিয় জেনারেটিভ এআই টুলগুলো পৃথিবীকে উত্তপ্তকারী নিঃসরণ কমাতে ‘বাস্তব, যাচাইযোগ্য এবং উল্লেখযোগ্য’ ভূমিকা রেখেছে।

তবে প্রতি বছর ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন প্রম্পট, সেই সাথে মডেলের প্রশিক্ষণ এবং হার্ডওয়্যারের জীবনচক্র বিবেচনা করলে দেখা যায়, এআই-এর পরিবেশগত প্রভাবকে উপেক্ষার সুযোগ নেই। পরেরবার যখন আপনি কোনো ‘প্রম্পট’ (নির্দেশনা) দেবেন, আপনার মনেও প্রশ্ন জাগতে পারে যে, বাস্তবে এর নেতিবাচক প্রভাব কতটা। ব্যবহারিক দিক থেকে এর চিত্রটা আসলে কেমন? চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করা কি প্রাণীজ পণ্য খাওয়ার চেয়েও ক্ষতিকর? নাকি বছরে কয়েকবার উড়োজাহাজে ভ্রমণের চেয়েও খারাপ?

সব প্রশ্নের উত্তর হয়তো জানা নেই। তবে আমাদের মনে রাখা উচিত যে, জেনারেটিভ এআই-এর ব্যাপক প্রসারের ফলে আপাতদৃষ্টিতে সামান্য মনে হওয়া কার্বন নিঃসরণের পরিমাণও দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে। তাহলে কি আমরা এআই-এর ব্যবহার বন্ধ করে পুরনো পদ্ধতিতে ফিরে যাব? আসলে তেমনটা ঘটার কোনো সম্ভাবনা নেই। তাছাড়া বিষয়টি যতটা সহজ মনে হচ্ছে, বাস্তবে তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল। প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে এআই-এর ক্ষেত্রে শক্তির ব্যবহার বা ‘এনার্জি ইনটেনসিটি’ কমিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে ধারণা করছি।

ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন (আইএসও) টেকসই এআই ব্যবহারের জন্য কিছু মানদণ্ডও তৈরি করেছে। এর লক্ষ্য হলো–এআই-এর কারণে সৃষ্ট পরিবেশগত প্রভাব কমিয়ে আনা এবং ব্যবহারকারীদের এআই ব্যবহারের বিষয়ে সঠিক ও সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করা। তবে আগামী বছর ও দশকগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর চাহিদা যে হারে বৃদ্ধি পাবে, তা অত্যন্ত অনিশ্চিত। ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হলেও এ বিষয়ে সচেতন থাকা ও আমাদের আশপাশে আলোচনা শুরু করাটা একটি ভালো পদক্ষেপ হতে পারে। যত বেশি আলোচনা হবে, এর সমাধানের সম্ভাবনাও তত বাড়বে। এই প্রযুক্তিতে সকলে এতটাই নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে যে, এটা এড়িয়ে চলা সত্যিই কঠিন। তবে সম্ভবত আমাদের একটি কাজ অবশ্যই করা উচিত। আর তা হলো–অপ্রয়োজনে ছবি বা ভিডিও তৈরি না করা, জটিল প্রশ্ন এড়ানো এবং সঠিকভাবে এআই টুল বেছে নেওয়া ও ব্যবহারের মাধ্যমে এআই ব্যবহারে বিচক্ষণ ও পরিমিত হওয়া জরুরি।

লেখক: মাল্টিডিসিপ্লিনারি আর্টিস্ট

চীনের এআইকে টেক্কা দিতে জাকারবার্গ আনলেন ‘মিউজ গ্লিমার’ AI

তথ্যসূত্র:

  • Research & Thesis Papers PDF files drive Link: https://drive.google.com/drive/folders/1-i-zUNivAOGDSsp3YNPVGX4vbd40Csmb?usp=sharing
  • The environmental cost of data centres is rising. Is it time to quit AI? https://www.theguardian.com/australia-news/2026/mar/13/ai-datacentres-environmental-impacts
  • Environmental impact of AI - statistics & facts: https://www.statista.com/topics/12959/environmental-impact-of-ai
  • AI’s environmental costs threaten water, land and climate: https://news.un.org/en/story/2026/06/1167658
  • How much energy do data centers and artificial intelligence use?
  • https://ourworldindata.org/how-much-energy-do-data-centers-and-artificial-intelligence-use
  • The Real Environmental Footprint of Generative AI: What 2025 Data Tell Us
  • https://onlinelearningconsortium.org/olc-insights/2025/12/the-real-environmental-footprint-of-generative-ai/
বিষয়: ফ্যাশনফেসবুককলকারখানাএআইপরিবেশপরিবেশ দূষণ
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    কিউবার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে জাতিসংঘে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠের টানা ৩৪তম প্রস্তাব

  • ২

    ‘একটি ধর্মান্ধ গোষ্ঠী মেয়েদের খেলাকে টার্গেট করেছে’

  • ৩

    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যুক্তরাষ্ট্র–কিউবার প্রতিনিধির বাগবিতণ্ডা, কিছু সময়ের জন্য বিতর্ক স্থগিত

  • ৪

    সুষ্ঠু নির্বাচনকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা করছে জামায়াত: রিজভী

  • ৫

    সংসদের সামনে ছিনতাই ও হত্যা: জামিন পাওয়া রাকিব তাহলে গ্রেপ্তার হয়েছিল কেন?

সম্পর্কিত
  • অর্থনীতির নাজুক অবস্থায় সচিবালয় স্থানান্তর খুব কি জরুরি?

    অর্থনীতির নাজুক অবস্থায় সচিবালয় স্থানান্তর খুব কি জরুরি?

    বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া তথ্য জানাচ্ছে, বাজেটের আওতাধীন দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ব্যাংক থেকে নেওয়া সরকারের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজর ২৪৫ কোটি টাকা। একই ধারাবাহিকতায় নভেম্বরের গোড়াতে সরকারি কর্মচারীদেরকে নতুন বেতন স্কেলে অক্টোবর মাসের বেতন

  • এক বাঙালির অস্কার জয় ও ব্ল্যাক হোলের রহস্য

    এক বাঙালির অস্কার জয় ও ব্ল্যাক হোলের রহস্য

    রাতের আকাশের দিকে তাকালে আমরা অসংখ্য নক্ষত্র দেখি। সেই নক্ষত্রগুলোর আলো লক্ষ-কোটি বছর পেরিয়ে যখন আমাদের চোখে পৌঁছায়, তখন মহাবিশ্বের অতীত যেন নিঃশব্দে বর্তমানের সঙ্গে কথা বলে। অথচ এই আলোকময় মহাবিশ্বের বুকেই রয়েছে এমন কিছু অঞ্চল, যেখান থেকে কোন আলোও আমাদের কাছে ফিরে আসতে পারে না

  • বিএনপির ‘ব্যাকফায়ার’ রাজনীতি ও আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ সমাধান

    বিএনপির ‘ব্যাকফায়ার’ রাজনীতি ও আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ সমাধান

    এই মুহূর্তে সরকারের সামনে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ। বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়া। খাদ্যপণ্যের বাজারের উর্ধ্বগতি। বেকারত্ব। কিন্তু সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলা।

  • পার্বত্য চট্টগ্রাম কেন বারবার অশান্ত হয়?

    পার্বত্য চট্টগ্রাম কেন বারবার অশান্ত হয়?

    পার্বত্য চট্টগ্রামের অস্থিরতাকে শুধু বিচ্ছিন্নতাবাদ, শুধু রাষ্ট্রীয় দমন, কিংবা শুধু পাহাড়ি-বাঙালি বিরোধ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। এর পেছনে রয়েছে ইতিহাস, ভূমির মালিকানা, জাতিগত পরিচয়, নিরাপত্তা-ভাবনা, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এবং রাষ্ট্রের প্রতি আস্থার জটিল সংকট।