উজান থেকে নেমে আসা ঢলে চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা নদীর পানির স্তর সতর্কসীমার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত সাত দিন ধরেই টানা পানি বেড়েছে পদ্মা নদীতে। এর ফলে জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।
আজ শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস।
নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় তীরবর্তী সদর উপজেলার শাহজাহানপুর, আলাতুলি ও নারায়নপুর ও শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা, উজিরপুর ও দুর্লভপুর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। অনেকেই আবার বাড়ি-ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছেন।
এদিকে, পানির স্তর বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় নদীটির পানি ১১ সেন্টিমিটার বেড়েছে।
পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্লাবিত হয়েছে কৃষিজমিও। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩৬২ হেক্টর জমির আমন-আউশ ধান, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ ও শাকসবজি পানিতে তলিয়ে গেছে। পাশাপাশি গবাদিপশু নিয়েও বিপাকে পড়েছেন পানিবন্দী এলাকার বাসিন্দারা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আতিকুল ইসলাম বলেন, “পানিতে তলিয়ে যাওয়া জমির মধ্যে আমন-আউশ ধান, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ ও বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজির আবাদ রয়েছে।”
জেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ১৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে। পানি ওঠায় এসব প্রতিষ্ঠানে আপাতত পাঠদান বন্ধ রয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা নদীর বিপৎসীমা ২২ দশমিক ৫ মিটার। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। শুধু পদ্মা নয়, জেলার অন্য দুই বড় নদী মহানন্দা ও পুনর্ভবা নদীর পানিও বাড়ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবীব বলেন, “বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পূর্বাভাস অনুযায়ী আজ শুক্রবার পর্যন্ত জেলার নদ-নদীর পানি বাড়তে পারে। এরপর পানি কমার সম্ভাবনা রয়েছে।”