ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার অবসান, সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্ত রুখে দেওয়া ও একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে লেখক, শিল্পী ও সংস্কৃতি কর্মীদের জাতীয় কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শুক্রবার সকাল ১০টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় কনভেনশনের উদ্বোধন করেন প্রবীণ সাংবাদিক ও লেখক নূরুল কবীর।
‘কণ্ঠে মোদের কুণ্ঠাবিহীন নিত্য-কালের ডাক’ স্লোগানে ‘গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের’ উদ্যোগে কনভেনশনে সারাদেশ থেকে প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, লেখক ও প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
নূরুল কবীর বলেন, “বাংলাদেশের জনস্বার্থ রক্ষার সংস্কৃতির কর্মীবৃন্দের এই যে সম্মেলন, বাংলাদেশের বর্তমান ইতিহাসে পরিভ্রমণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা দিক বলে আমি মনে করি।”
তিনি বলেন, “এই সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতিকে রাজনীতির মাধ্যমে আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্যে আমি বিশ্বাস করি সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে সংস্কৃতি কর্মীরা। কারণ একটা দ্বিখণ্ডিত সংস্কৃতির পাটাতনের ওপরে একটা প্রগতিশীল রাজনীতি তৈরি হতে পারে না।”
জাতীয় কনভেনশন প্রস্তুতি পরিষদ ও গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের আহ্বায়ক জামসেদ আনোয়ার তপন শিল্পীদের ওপর চলমান নিপীড়নের তীব্র প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, “স্বৈরাচার পতনের পরে আবারও সেই একই ঘটনা আমাদের মনকে বিদীর্ণ করে দেয়, আমাদের শিল্পী সত্তাকে আহত করে দেয়। বাউলদের ওপর, শিল্পীদের ওপর নিপীড়ন চলছে।”
প্রস্তুতি পরিষদের সদস্য সচিব মফিজুর রহমান লালটু বলেন, “বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে, স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যে চক্রান্ত বাংলাদেশে এখন চলছে- তার বিরুদ্ধে আমাদের সাংস্কৃতিক সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে।”
চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার একটি সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থ রক্ষা করার জন্যই ক্ষমতা আরোহণ করে এখানে মৌলবাদী শক্তিকে এবং অপশক্তিকে উত্থানের সহযোগিতা করেছে। এর বিপরীতে আজকে একটি সাংস্কৃতিক জাগরণ ঘটানো খুবই প্রয়োজন।”
দিনব্যাপী এই জাতীয় কনভেনশনে দেশের প্রায় ৪৫টি জেলার সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান উদ্বোধনের পর বর্ণাঢ্য র্যালী অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভা ও মতবিনিময়ের পাশাপাশি আয়োজিত হয় প্রতিবাদী ও জাগরণমূলক নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। সেখানে উপস্থিত শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা নাচ, গান এবং কবিতা আবৃত্তির মধ্য দিয়ে একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন সমাজ নির্মাণের শপথ ব্যক্ত করেন।