ভারতের সমালোচনা করে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন সরকার দেশটির সঙ্গে সই হওয়া শতাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) পর্যালোচনা করছে। শিগগিরই এর ফল পাওয়া যাবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শেষে আজ শুক্রবার সংসদের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন নূরুল ইসলাম মনি।
সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার চুক্তির আওতায় ভারতের জাহাজ চলাচল এবং ওই চুক্তি বাতিলের বিষয়ে জানতে চান একজন সাংবাদিক। জবাবে চিফ হুইপ বলেন, “আমরা চুক্তিগুলা, মানে ১০১টা এমওইউ নিয়েই আলোচনা করছি এবং অনতিবিলম্বে তার ফল আপনারা পাবেন।”
আওয়ামী লীগ আমলে ভারতের সঙ্গে করা এমওইউ প্রসঙ্গে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, “আমার এই জমিটা এইখানে, আমি একটা গাছ লাগাইলাম। আমি আপনাকে বুঝাইলাম, এই গাছে আমি পানি দেব, গাছে আমি সার দেব, গাছটা পরিচর্যা আমি করব, পোকা ধরলে ওষুধ দেব, সবকিছু আমি এই গাছে করব; কিন্তু ফল খাবে পাশের বাড়ির জমির লোক! এই জমি আপনারা দিবেন?”
“আমাদের দেশে আমরা লোন নিছি, লোনের সুদসহ টাকা ফেরত দেব। আমার মাটির উপর রাস্তা যাবে, আমার গাড়ি উঠতে পারবে না; এই মাটি কাটবে, আমার মাটি, আমার দেশ, আমার দেশের উপর যে রাস্তা যাবে, সেই রাস্তায় আমার গাড়ি উঠতে পারবে না। আবার লোন আছে রাস্তা করার জন্য, সেই লোনের টাকা পরিশোধ করতে হবে-এই চুক্তি হয়েছে এবং এদেশে চলছে।”
প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে তিনি ফেলানী হত্যাকাণ্ড ও সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার প্রসঙ্গও টানেন নূরুল ইসলাম।
চিফ হুইপ বলেন, “দেশে দুইদিন পরে আন্দোলন, ঘটনা, ঝামেলা হোক-চাই কি? আচ্ছা, না চাইলে আমরা তো চেষ্টাই করব এই ঘরটা যেন ঠিক থাকে, পানি যাতে না পড়ে, এই ঘরের চাল ঠিক থাকে। এটা আমরা চেষ্টা করব। এই চেষ্টা যাতে করতে না পারি, তার জন্য কিছু মানুষ পরিশ্রম করে, তারা আমাদের বন্ধু না, তারা আমাদের শত্রু। সেই বন্ধুরা কাঁটাতারের বেড়া দিছে না? দেবে, কিন্তু পরে মুখে বলে বন্ধু। সেই বন্ধুরা আমাদের ফেলানীর লাশ রাস্তায় ঝুলিয়ে রাখে কাঁটাতারে।”
চিফ হুইপ বলেন, “সেই বন্ধুরা আমাদের কোস্টগার্ডকে আটকে দেয়, আমাদের জাহাজ আটকে রাখে...আপনাদের মনে আছে, বাংলাদেশের জাহাজ আর বন্ধুর বাড়ির জাহাজ একসাথে যদি চিটাগাঙে বার্থিং করে, চিটাগাঙে বন্ধুর বাড়ির জাহাজ আগে খালাস হবে মাল, পরে আপনার বাড়ির জাহাজ–সঠিক বলছি?”
“রাইট, একদম সঠিক! আপনার মাল বাংলাদেশের পোর্টে এলে আপনাকে বসে ডেমারেজ দিতে হবে, কিন্তু আমার বন্ধুর বাড়ির মাল খালাস হবে আগে। ১০১টা এমওইউ করেছে, ১০১টা এমওইউর মধ্যে নাই কী? আপনারা খুঁইজা দেখেন, এইরকম করেছে আমার দেশে।”
চিফ হুইপ বলেন, “বাস্তবে আমরা এরকম জায়গা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছি। আমাদের কেউ শত্রু নাই, সবাই আমাদের বন্ধু; কিন্তু আমাদের দেশ আগে। এজন্য তারেক রহমান সাহেব বলেছেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।”
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিমসটেকের সভাপতি হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য ভারত যে আমন্ত্রণ পাঠিয়েছে, সে বিষয়েও কথা বলেন নুরুল ইসলাম মনি। বলেন, “তারেক সাহেব বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, একটা স্বাধীন দেশকে এতটুকু মর্যাদা আপনারা দেবেন না? এতটুকু মর্যাদা আপনার কাছে আশা করি না?”