এশিয়া টাইমসের বিশ্লেষণ
চরচা ডেস্ক

ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরদিন ওয়াশিংটন পোস্টের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সৌদি আরব এবং ইসরায়েল উভয়ই ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরান আক্রমণের জন্য প্ররোচিত করেছিল। তবে সৌদি আরব এই দাবি অস্বীকার করে জানায় তারা যুদ্ধের জন্য কোনো চাপ সৃষ্টি করেনি।
পরবর্তী সময়ে ইরান পাল্টা আঘাত করলে সৌদি আরবও আক্রমণের মুখে পড়ে। সৌদির মার্কিন দূতাবাসে একটি ইরানি ড্রোন আঘাত হানে এবং রাস তানুরা অঞ্চলে একটি তেল শোধনাগারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। গত ৮ মার্চ আল-খারজ শহরের একটি আবাসিক এলাকায় প্রজেক্টাইল পড়লে দুজন নিহত হন। এলাকাটি মার্কিন সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত একটি বিমান ঘাঁটির কাছে অবস্থিত।
সৌদি আরবের একাডেমিক এবং সুশীল সমাজের ব্যক্তিরা সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রকে ইরান আক্রমণের জন্য উসকানি দিয়েছে–এমন ধারণার ওপর সংশয় প্রকাশ করেছেন। এই ধরনের আক্রমণ সৌদিদের গত কয়েক বছরের কর্মকাণ্ডের সম্পূর্ণ বিপরীত। কারণ, দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কাটিয়ে ইরান ও সৌদি আরবের সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছিল।
ইরান ও সৌদি আরবের ইতিহাস দীর্ঘ ও জটিল। সৌদি আরব একটি আরবপ্রধান সুন্নি রাষ্ট্র, অন্যদিকে ইরান প্রধানত পারস্য-প্রধান শিয়া রাষ্ট্র।
১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের পর এই দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে। ইরানের নতুন নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি সৌদিদের সমালোচনা শুরু করেন। তিনি বলেন, তারা ইসলামের দুটি পবিত্র স্থান (মক্কা ও মদিনা) রক্ষার যোগ্য নয়। যা সৌদিদের ক্ষুব্ধ করে এবং তারা নতুন ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট করার চেষ্টা করে।
এরপর ইরান লেবাননের হিজবুল্লাহর মতো মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গোষ্ঠীকে সমর্থন দিতে শুরু করে ইরান, যারা এ ধরনের পরিস্থিতি পরিবর্তনের পক্ষে ছিল। সৌদি আরবের কাছে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্টের এ ধরনের প্রচেষ্টা দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়।
১৯৯০-এর দশকের শুরুতে খোমেনির মৃত্যুর পর রাজনৈতিক পরিবেশ কিছুটা শিথিল হয় এবং দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা কমে আসে। কিন্তু ‘নাইন ইলেভেন’ এবং ২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন আগ্রাসনের পর সম্পর্কের পুনরায় অবনতি ঘটে। ইরাকে গৃহযুদ্ধ শুরু হলে ইরান ও সৌদি আরব ভিন্ন ভিন্ন গোষ্ঠীকে সমর্থন দিতে থাকে।
২০১০ সালের মধ্যে উইকিলিকসে ফাঁস হওয়া তথ্যে দেখা যায়, সৌদি বাদশাহ আবদুল্লাহ বারবার যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতার ওপর আঘাত হানার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন এবং আমেরিকানদের ‘সাপের মাথা কেটে ফেলার’ আহ্বান জানিয়েছিলেন। ২০১৬ সালে সৌদি আরবে এক শিয়া ধর্মগুরুর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পর ইরানে সৌদি দূতাবাসে হামলা হলে দুই দেশে কূটনৈতিক সম্পর্ক সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
১৯৪৫ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্র্যাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট এবং সৌদি বাদশাহ আবদুল আজিজ আল সৌদের মধ্যে একটি চুক্তি হওয়ার পর থেকেই সৌদি আরব তার নিরাপত্তার জন্য আমেরিকার ওপর নির্ভরশীল ছিল।
কিন্তু ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে পূর্ব সৌদি আরবের আবকাইক এবং খুরাইসের তেল শোধনাগারে ইরানের ড্রোন এবং ক্রুজ মিসাইল হামলা হয়। ফলে সৌদিরা দুশ্চিন্তায় পড়ে যায় এই ভেবে যে, “তারা কেবল আমেরিকানদের ওপর ভরসা করতে পারছে না”। হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করলেও পরবর্তী সময়ে জাতিসংঘের তদন্তে বলা হয়, তারা এতে জড়িত ছিল না।
ইরান এই হামলার নেপথ্যে থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে। হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা বাহিনী মোতায়েন করলেও তাদের সেই ‘নরম’ প্রতিক্রিয়া সৌদি আরবের আঞ্চলিক রাজনীতির ধরনে এক নাটকীয় পরিবর্তন আনে।
একই সময়ে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান উপলব্ধি করেন, সৌদি আরব যদি তার অভ্যন্তরীণ সংস্কারগুলো, বিশেষ করে উচ্চাভিলাষী ‘ভিশন ২০৩০’ বাস্তবায়ন করতে চায়, তবে দেশটির জন্য বিনিয়োগকারীদের আস্থা এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। এর মানে ছিল ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হিটলারের সাথে তুলনা করার মতো উগ্র মন্তব্য, যা তিনি ২০১৮ সালে করেছিলেন, তা থেকে সরে আসা।
ফলস্বরূপ, ইরানের প্রতি সৌদি আরবের কঠোর সুর নরম হতে শুরু করে এবং পর্দার আড়ালে আলোচনা শুরু হয়। এরপর ২০২১ সালের এপ্রিলে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে সৌদি আরব ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আলোচনায় বসেন। এর দুই বছর পর বেইজিংয়ে চীনের মধ্যস্থতায় একটি ‘নরমালাইজেশন’ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
দেশ দুটি পুনরায় তাদের দূতাবাস খুলে দেয় এবং কূটনৈতিক উদ্যোগ শুরু করে। তারা একে অপরের প্রতি সমর্থন জানিয়ে যৌথ বিবৃতি দেয় এবং এমনকি যৌথ সামরিক মহড়াও পরিচালনা করে। এই সবকিছুই দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলার ইঙ্গিত দিচ্ছিল। যতক্ষণ না ইরানের নতুন সংঘাত শুরু হলো।
সাম্প্রতিক সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন রণতরীর উপস্থিতির ফলে সৌদি আরব এবং তাদের প্রতিবেশীরা হয়তো ভেবেছিল, ইরানের ওপর আরেকটি হামলা আসন্ন। কিন্তু তারা প্রকৃতপক্ষে একটি অস্থিতিশীল ইরান চায় না।
২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর ইরাক এক ভয়াবহ ও সহিংস অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গিয়েছিল। সেই পরিস্থিতি এই অঞ্চলের রাজনৈতিক, সামাজিক বা অর্থনৈতিক অবস্থার কোনো উন্নতি করেনি। বরং বিনিয়োগের পরিবেশ নষ্ট করেছিল। অথচ উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতারা বর্তমানে বিনিয়োগ ও উন্নতির জন্যই মুখিয়ে আছেন। এই অবস্থায় একটি শান্তিপূর্ণ পরিবর্তনের আশায় আমেরিকার পক্ষ থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিকে হত্যার বিষয়টি উপসাগরীয় নেতাদের কাছে এক বিশাল জুয়া বা চরম ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে মনে হয়ে থাকবে। বিশেষ করে যখন তাদের নিজস্ব রাজনীতি একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

ইরানে যদি এমন ধারণা তৈরি হয়, সৌদি আরবই যুদ্ধের জন্য উসকানি দিচ্ছে, তবে তা আমেরিকা ও সৌদি আরবকে একে অপরের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসতে পারে। তবে সৌদিদের মধ্যেও কিছুটা ক্ষোভ রয়েছে, মার্কিনীরা তাদের সুরক্ষায় যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জনৈক সৌদি বিশ্লেষক বলেছেন, আমেরিকা তাদের ‘পরিত্যাগ’ করেছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে অত্যন্ত উন্নত সামরিক সরঞ্জাম থাকলেও তাদের সেনাবাহিনী আকারে ছোট। ফলে তারা এখন নিজেদের নিরাপত্তা এবং একটি দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া নিয়ে শঙ্কিত।
ইরানের ভবিষ্যৎ যখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে এবং ঘরের দোরগোড়ায় দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার প্রবল সম্ভাবনা বিদ্যমান, তখন উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের পরবর্তী পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত সাবধানে বিবেচনা করছে। যাই ঘটুক না কেন, প্রতিবেশীদের ওপর বোমা হামলার যে সিদ্ধান্ত ইরান নিয়েছে, তা গত কয়েক বছরে গড়ে ওঠা পারস্পরিক বিশ্বাস পুনরায় স্থাপন করাকে অত্যন্ত কঠিন করে তুলবে।

ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরদিন ওয়াশিংটন পোস্টের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সৌদি আরব এবং ইসরায়েল উভয়ই ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরান আক্রমণের জন্য প্ররোচিত করেছিল। তবে সৌদি আরব এই দাবি অস্বীকার করে জানায় তারা যুদ্ধের জন্য কোনো চাপ সৃষ্টি করেনি।
পরবর্তী সময়ে ইরান পাল্টা আঘাত করলে সৌদি আরবও আক্রমণের মুখে পড়ে। সৌদির মার্কিন দূতাবাসে একটি ইরানি ড্রোন আঘাত হানে এবং রাস তানুরা অঞ্চলে একটি তেল শোধনাগারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। গত ৮ মার্চ আল-খারজ শহরের একটি আবাসিক এলাকায় প্রজেক্টাইল পড়লে দুজন নিহত হন। এলাকাটি মার্কিন সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত একটি বিমান ঘাঁটির কাছে অবস্থিত।
সৌদি আরবের একাডেমিক এবং সুশীল সমাজের ব্যক্তিরা সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রকে ইরান আক্রমণের জন্য উসকানি দিয়েছে–এমন ধারণার ওপর সংশয় প্রকাশ করেছেন। এই ধরনের আক্রমণ সৌদিদের গত কয়েক বছরের কর্মকাণ্ডের সম্পূর্ণ বিপরীত। কারণ, দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কাটিয়ে ইরান ও সৌদি আরবের সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছিল।
ইরান ও সৌদি আরবের ইতিহাস দীর্ঘ ও জটিল। সৌদি আরব একটি আরবপ্রধান সুন্নি রাষ্ট্র, অন্যদিকে ইরান প্রধানত পারস্য-প্রধান শিয়া রাষ্ট্র।
১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের পর এই দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে। ইরানের নতুন নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি সৌদিদের সমালোচনা শুরু করেন। তিনি বলেন, তারা ইসলামের দুটি পবিত্র স্থান (মক্কা ও মদিনা) রক্ষার যোগ্য নয়। যা সৌদিদের ক্ষুব্ধ করে এবং তারা নতুন ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট করার চেষ্টা করে।
এরপর ইরান লেবাননের হিজবুল্লাহর মতো মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গোষ্ঠীকে সমর্থন দিতে শুরু করে ইরান, যারা এ ধরনের পরিস্থিতি পরিবর্তনের পক্ষে ছিল। সৌদি আরবের কাছে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্টের এ ধরনের প্রচেষ্টা দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়।
১৯৯০-এর দশকের শুরুতে খোমেনির মৃত্যুর পর রাজনৈতিক পরিবেশ কিছুটা শিথিল হয় এবং দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা কমে আসে। কিন্তু ‘নাইন ইলেভেন’ এবং ২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন আগ্রাসনের পর সম্পর্কের পুনরায় অবনতি ঘটে। ইরাকে গৃহযুদ্ধ শুরু হলে ইরান ও সৌদি আরব ভিন্ন ভিন্ন গোষ্ঠীকে সমর্থন দিতে থাকে।
২০১০ সালের মধ্যে উইকিলিকসে ফাঁস হওয়া তথ্যে দেখা যায়, সৌদি বাদশাহ আবদুল্লাহ বারবার যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতার ওপর আঘাত হানার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন এবং আমেরিকানদের ‘সাপের মাথা কেটে ফেলার’ আহ্বান জানিয়েছিলেন। ২০১৬ সালে সৌদি আরবে এক শিয়া ধর্মগুরুর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পর ইরানে সৌদি দূতাবাসে হামলা হলে দুই দেশে কূটনৈতিক সম্পর্ক সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
১৯৪৫ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্র্যাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট এবং সৌদি বাদশাহ আবদুল আজিজ আল সৌদের মধ্যে একটি চুক্তি হওয়ার পর থেকেই সৌদি আরব তার নিরাপত্তার জন্য আমেরিকার ওপর নির্ভরশীল ছিল।
কিন্তু ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে পূর্ব সৌদি আরবের আবকাইক এবং খুরাইসের তেল শোধনাগারে ইরানের ড্রোন এবং ক্রুজ মিসাইল হামলা হয়। ফলে সৌদিরা দুশ্চিন্তায় পড়ে যায় এই ভেবে যে, “তারা কেবল আমেরিকানদের ওপর ভরসা করতে পারছে না”। হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করলেও পরবর্তী সময়ে জাতিসংঘের তদন্তে বলা হয়, তারা এতে জড়িত ছিল না।
ইরান এই হামলার নেপথ্যে থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে। হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা বাহিনী মোতায়েন করলেও তাদের সেই ‘নরম’ প্রতিক্রিয়া সৌদি আরবের আঞ্চলিক রাজনীতির ধরনে এক নাটকীয় পরিবর্তন আনে।
একই সময়ে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান উপলব্ধি করেন, সৌদি আরব যদি তার অভ্যন্তরীণ সংস্কারগুলো, বিশেষ করে উচ্চাভিলাষী ‘ভিশন ২০৩০’ বাস্তবায়ন করতে চায়, তবে দেশটির জন্য বিনিয়োগকারীদের আস্থা এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। এর মানে ছিল ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হিটলারের সাথে তুলনা করার মতো উগ্র মন্তব্য, যা তিনি ২০১৮ সালে করেছিলেন, তা থেকে সরে আসা।
ফলস্বরূপ, ইরানের প্রতি সৌদি আরবের কঠোর সুর নরম হতে শুরু করে এবং পর্দার আড়ালে আলোচনা শুরু হয়। এরপর ২০২১ সালের এপ্রিলে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে সৌদি আরব ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আলোচনায় বসেন। এর দুই বছর পর বেইজিংয়ে চীনের মধ্যস্থতায় একটি ‘নরমালাইজেশন’ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
দেশ দুটি পুনরায় তাদের দূতাবাস খুলে দেয় এবং কূটনৈতিক উদ্যোগ শুরু করে। তারা একে অপরের প্রতি সমর্থন জানিয়ে যৌথ বিবৃতি দেয় এবং এমনকি যৌথ সামরিক মহড়াও পরিচালনা করে। এই সবকিছুই দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলার ইঙ্গিত দিচ্ছিল। যতক্ষণ না ইরানের নতুন সংঘাত শুরু হলো।
সাম্প্রতিক সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন রণতরীর উপস্থিতির ফলে সৌদি আরব এবং তাদের প্রতিবেশীরা হয়তো ভেবেছিল, ইরানের ওপর আরেকটি হামলা আসন্ন। কিন্তু তারা প্রকৃতপক্ষে একটি অস্থিতিশীল ইরান চায় না।
২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর ইরাক এক ভয়াবহ ও সহিংস অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গিয়েছিল। সেই পরিস্থিতি এই অঞ্চলের রাজনৈতিক, সামাজিক বা অর্থনৈতিক অবস্থার কোনো উন্নতি করেনি। বরং বিনিয়োগের পরিবেশ নষ্ট করেছিল। অথচ উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতারা বর্তমানে বিনিয়োগ ও উন্নতির জন্যই মুখিয়ে আছেন। এই অবস্থায় একটি শান্তিপূর্ণ পরিবর্তনের আশায় আমেরিকার পক্ষ থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিকে হত্যার বিষয়টি উপসাগরীয় নেতাদের কাছে এক বিশাল জুয়া বা চরম ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে মনে হয়ে থাকবে। বিশেষ করে যখন তাদের নিজস্ব রাজনীতি একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

ইরানে যদি এমন ধারণা তৈরি হয়, সৌদি আরবই যুদ্ধের জন্য উসকানি দিচ্ছে, তবে তা আমেরিকা ও সৌদি আরবকে একে অপরের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসতে পারে। তবে সৌদিদের মধ্যেও কিছুটা ক্ষোভ রয়েছে, মার্কিনীরা তাদের সুরক্ষায় যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জনৈক সৌদি বিশ্লেষক বলেছেন, আমেরিকা তাদের ‘পরিত্যাগ’ করেছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে অত্যন্ত উন্নত সামরিক সরঞ্জাম থাকলেও তাদের সেনাবাহিনী আকারে ছোট। ফলে তারা এখন নিজেদের নিরাপত্তা এবং একটি দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া নিয়ে শঙ্কিত।
ইরানের ভবিষ্যৎ যখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে এবং ঘরের দোরগোড়ায় দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার প্রবল সম্ভাবনা বিদ্যমান, তখন উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের পরবর্তী পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত সাবধানে বিবেচনা করছে। যাই ঘটুক না কেন, প্রতিবেশীদের ওপর বোমা হামলার যে সিদ্ধান্ত ইরান নিয়েছে, তা গত কয়েক বছরে গড়ে ওঠা পারস্পরিক বিশ্বাস পুনরায় স্থাপন করাকে অত্যন্ত কঠিন করে তুলবে।

আজ ১৫ দিন হলো ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও আমেরিকার যুদ্ধ চলছে। যুদ্ধ শেষ হওয়ার কোনো ইঙ্গিত নেই। এর তীব্রতা বরং বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইরানের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, সে এখন আক্রমণ–পাল্টা আক্রমণের চক্রে বন্দী থাকবে না। ইরান হামলা চালাবে বিরতিহীনভাবে। হরমুজ প্রণালি এখন বন্ধ। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামে

ইসলামি প্রজাতন্ত্র যখন নিজেকে হুমকির মুখে মনে করে, তখন তারা জাতীয় বিদ্রোহ দমন করতে সক্ষম। কিন্তু খামেনি একই সঙ্গে একজন বাস্তববাদীও ছিলেন। তার শাসনামলে ইরান তাদের শীর্ষ জেনারেল ও পরমাণু বিজ্ঞানীদের ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের সরাসরি প্রতিশোধ নেয়নি। আর যখন নিয়েছে, তখন তা ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে, যাতে