সিলেট-১ আসনসহ বিভিন্ন আসনে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচার। প্রার্থীরা সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছে ভোটারদের মন পাওয়ার জন্য।
সিলেটের ছয়টি আসনের মধ্যে সিলেট-১-কে বলা হয় মর্যাদার আসন। এই আসন নিয়ে দেশের রাজনীতিতে একটি একটি মিথও প্রচলিত আছে। বলা হয়, ‘সিলেট-১ আসন যার-সরকার তার’। সেকারণে এই আসনের গুরুত্ব সব দলের কাছেই একটু আলাদা।
এ মিথকে মাথায় রেখে মাজার জিয়ারত, জনসভা, প্রচারণায় সবসময়ই এ আসনকে বাড়তি গুরুত্ব দেয় রাজনৈতিক দলগুলো। সিলেট থেকেই শুরু হয় সব দলের নির্বাচনী প্রচারণা। সরকার গঠন করার বিষয়টি মাথায় রেখে মর্যাদাপূর্ণ এ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয় শক্তিশালী প্রার্থীকে। এবারও প্রধান দুই রাজনৈতিক দল বিএনপি ও জামায়াতসহ সব দলই তাদের শক্তিশালী প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে।
১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে সিলেট অঞ্চলের ১৯টি আসনের মধ্যে শুধু সিলেট-১ আসন থেকে বিজয়ী হয়েছিলেন বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মালিক। সেবার বিএনপি সরকার গঠন করে। এরপর স্পিকার হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম. সাইফুর রহমান, দুই মেয়াদের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত নির্বাচন করে বিজয়ী হন। সরকার গঠন করে যথাক্রমে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। ২০১৮ সালে এ আসনে নির্বাচন করে বিজয়ী হন মুহিতের ছোট ভাই এ কে আব্দুল মোমেন।
সিলেট শহরের প্রাণকেন্দ্র বন্দর পয়েন্টআওয়ামী লীগ তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করলে মোমেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হন। সর্বশেষ ২০২৪ সালে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সিলেট-১ আসনে একতরফা নির্বাচনে এ কে আব্দুল মোমেন জয়ী হন। তখনো আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটের মাঠে আছে বিএনপি-জামায়াত। সিলেট-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির দলটির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টার পদে আছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী দল জামায়াত মনোনীত প্রার্থী সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান।
সিলেটের ঐতিহ্যবাহী কিন ব্রিজের নিচে সুরমার পাড়ে দাঁড়িয়ে চায়ের আড্ডায় থাকা কয়েকজন তরুণ ভোটারের সাথে। তাদের কেউ ভোট দিতে আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। কারও কণ্ঠে হতাশা।
এদের একজন হৃদয় (২৬), তিনি সিলেট সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। হৃদয় বলেন, “দেশের বৃহত্তম দল আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে নির্বাচনটা অনেকটাই আগের মতোই একতরফা লাগছে। এখনো সিদ্ধান্ত নেইনি ভোট দিতে যাব কি না। তাছাড়া দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যেভাবে বিভিন্ন দাঙ্গা-হাঙ্গামার খবরাখবর পাচ্ছি এতে আমি শঙ্কিত । তবে সিলেটে যদিও এখন পর্যন্ত বলা যায় পরিস্থিতি কিছুটা ভালো তবে বলা তো যায় না কখন কী হয়।”
জিন্দাবাজারে কথা হয় সিলেট-৪ আসনের ভোটার ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ী এম এ জব্বার বলেন, “বেশি কিছু বলতে চাই না ভাই, নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে আমি সন্তুষ্ট না। কেন সন্তুষ্ট না এসব জিজ্ঞেস করবে না।”
ভোটারদের এসব প্রতিক্রিয়ার মধ্যে প্রার্থীরাও তাদের নিজ দলের ইশতেহারের সাথে নিজেদের দল ও ব্যাক্তি পর্যায়ের অতীত অবদান তুলে ধরাসহ ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরা সহ যে যার মতো সর্বোচ্চ কায়দায় নিজের সাথে নিজের দলকে তুলে ধরা সবটুকু চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
সিলেট-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, “মর্যাদার আসনের সব ভোটারকে আমি মনে করি মর্যাদার। আইটিবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরণ, সিলেটকে দেশের অন্যতম নগরী হিসাবে গড়ে তুলতে জলাবদ্ধতা দূরীকরণে বিভিন্ন খাল নদী খনন সহ, প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারসহ বিভিন্ন প্রত্যয় নিয়ে আমি জনগণকে সাথে নিয়ে আশাবাদী।”
বাসদের (মার্কসবাদী) প্রার্থী সঞ্জয় কান্তি দাস বলেন, “দেশের বিভিন্ন ক্রান্তিলগ্নে বহু দিন যাবৎ কাজ করে যাচ্ছি, তবে নির্বাচনী প্রার্থী হিসাবে এটি আমার প্রথম নির্বাচন। আমি বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ওই এলাকার জনগণের সমস্যা জানার চেষ্টা করছি। জনগণ আমাকে নির্বাচিত করলে আমি তাদের সমস্যা নিয়ে নিজের সবটুকু দিয়ে কাজ করব।”
বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী ছাড়াও সিলেট-১ আসন থেকে নির্বাচন করছেন বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির আনোয়ার হোসেন, বাসদের প্রণব জ্যোতি পাল, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের শামীম মিয়া, গণ অধিকার পরিষদের আকমল হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাহমুদুল হাসান, খেলাফত মজলিসের তাজুল ইসলাম হাসান, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের সঞ্জয় কান্তি দাস।
সিলেট-১ আসনই শুধু নয়, কালের সাক্ষী হয়ে আছে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী আলিয়া মাদ্রাসা মাঠও। এ মাঠেই জনসভা করে নির্বাচনি প্রচার শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। সেই ধারাবাহিকতায় প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দল এবারও করেছে নির্বাচনী সভা। বিএনপির আনুষ্ঠানিক প্রচারও শুরু হয়েছে সিলেটের এ মাঠ থেকেই।