ads

বঙ্গভবনে কী চলছে, নতুন রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন কে?

বঙ্গভবনে কী চলছে, নতুন রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন কে?
বঙ্গভবন। ছবি: রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সংশ্লিষ্ট একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, শারীরিক অসুস্থতাকে কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি শিগগিরই পদত্যাগ করতে পারেন। যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত বঙ্গভবন কিংবা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে একই সঙ্গে শুরু হয়েছে তার উত্তরসূরি কে হতে পারেন সেই আলোচনা। কারণ পরবর্তী রাষ্ট্রপতির মেয়াদকালেই চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

Advertisement

সরকার ও বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে ইতোমধ্যে বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতির কাছে এ বার্তা পৌঁছে দেওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র চরচাকে জানিয়েছে, খুব শিগগিরই তার পদত্যাগের সম্ভাবনা রয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সরকারের মন্ত্রিসভায় থাকা একজন মন্ত্রী চরচাকে বলেন, “সাহাবুদ্দিন সাহেবেকে ইতিমধ্যে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে। খুব শিগগিরই ঘোষণা আসবে।”

এদিকে বঙ্গভবন-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রপতি নিজেও অধস্তন কর্মকর্তাদের কাছে শিগগিরই বঙ্গভবন ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ওই সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, পদত্যাগের পর তিনি কিছুদিন বিশ্রামে থাকবেন এবং পরে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে পারেন।

বঙ্গভবনে কর্মরত একজন কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তিনি চরচাকে বলেন, “পরিস্থিতি যা দেখছি তাতে তো মনে হচ্ছে স্যার পদত্যাগই করবেন।”

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির বাসভন ও কার্যালয় বঙ্গভবন। ছবি: বাসস
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির বাসভন ও কার্যালয় বঙ্গভবন। ছবি: বাসস

নতুন রাষ্ট্রপতি কে

রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের পাশাপাশি নতুন রাষ্ট্রপতি কে হতে পারেন, তা নিয়েও ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র।

শুরুতে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খানসহ কয়েকজনের নাম আলোচনায় ছিল। তবে বিএনপির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা জানিয়েছেন, বিএনপি হাইকমান্ড মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণিকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে যাদের নাম গণমাধ্যমে এসেছে এবং রাজনৈতিক মহলে আলোচনা হয়েছে তাদের মধ্যে একজন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য চরচাকে বলেন, “মূলত প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের আস্থা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করার সক্ষমতার বিষয়গুলো বিবেচনায় এনে তার নাম আলোচনায় এসেছে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, তিনি এমন কোনো আলোচনা সম্পর্কে জানেন না। তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমি একেবারেই অবগত নই। আর এমন কিছু ঘটলে (রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ) শূন্য পদে অনেক নামই আলোচিত হবে, এটাই স্বাভাবিক।”

একই কথা বলেন রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় আসা দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। চরচাকে তিনি বলেন, “এই সিদ্ধান্ত তো কারোর একার না। দেশ, সরকার, দল, জনগণ সকল ক্রাইটেরিয়া মাথায় রেখে যেটা উপর্যুক্ত, সেটাই হবে।”

কেন পরের রাষ্ট্রপতি গুরুত্বপূর্ণ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি শুধু একজন রাষ্ট্রপতির বিদায় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনের সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা।

বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদকালেই পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ফলে নির্বাচনকালীন সাংবিধানিক দায়িত্ব, সরকার গঠন, সংসদ আহ্বানসহ রাষ্ট্রপতির বিভিন্ন সাংবিধানিক ক্ষমতার কারণে এই পদে কে আসছেন, তা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারকরাও বিবেচনা করছেন, নতুন রাষ্ট্রপতিকে সম্ভাব্য রাজনৈতিক চাপ সামাল দেওয়ার পাশাপাশি সরকার, বিরোধী দল এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে।

জানতে চাইলে সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রী চরচাকে বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসে রাষ্ট্রপতি পদে সাধারণত রাজনীতিবিদ, বিচারপতি কিংবা রাজনৈতিকভাবে পরিচিত ব্যক্তিরাই এসেছেন। কিন্তু নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় যদি সরকার দলীয় রাজনীতির বাইরে অপেক্ষাকৃত নিরপেক্ষ ভাবমূর্তির কাউকে বেছে নিতে চায়, তাহলে একজন অভিজ্ঞ প্রশাসনিক কর্মকর্তার নাম সামনে আসা অস্বাভাবিক নয়।”

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমূল বদলে যায়। শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সাংবিধানিক পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণের দাবি উঠেছিল। ওই সময় তার পদত্যাগের দাবিতে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছিল বিভিন্ন সংগঠন। কিন্তু মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার মো. সাহাবুদ্দিনকে সরাতে কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

সামনে কী হতে পারে

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্বেচ্ছায় দায়িত্ব ছাড়েন কি না, সেটি পর্যবেক্ষণ করেই এতদিন অপেক্ষা করছিল ক্ষমতাসীন দল। সম্প্রতি তার কাছে দলের অবস্থানও জানানো হয়েছে বলে দাবি করেছে বিএনপি ও সরকারের কয়েকটি সূত্র।

তারা জানান, যদি শেষ পর্যন্ত তিনি পদত্যাগ করেন, তাহলে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কাল এবং পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনের পর বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় এটি হবে আরেকটি বড় সাংবিধানিক পরিবর্তন।

সম্পর্কিত